Mountain View

প্রিলিমিনারিতে কেন ফল প্রকাশ করা হবে না- জানতে চায় প্রার্থীরা

প্রকাশিতঃ নভেম্বর ৬, ২০১৬ at ১০:৫২ পূর্বাহ্ণ

bpsc-bcs

জাহিদুল ইসলাম, বিডি টুন্টিফোর টাইমস : বিসিএস প্রিলিমিনারি প্ররীক্ষায় কেন ফলাফল প্রকাশ করা হবে না জানতে চান চাকরিপ্রার্থীরা। ৩৭ তম বিসিএস প্রিলিমিনারি বাছাই পরীক্ষায় মাত্র ৮ হাজার ৫০০ জনকে লিখিত পরীক্ষার জন্য বিবেচনা করার পর  থেকেই অংশ নেয়া প্রার্থীদের মাঝে অসন্তোষ দেখা দেয়। যারই ধারবাহিকতায় এবার তারা প্রিলিমিনারি পরিক্ষায় কেন ফল প্রকাশ করা হবে না জানতে চান।

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী , খাইরুল ইসলাম বলেন ফলাফল গোপন করাতেই রয়েছে যত সমস্যা। এখান থেকেই শুরু হয় অনিয়েমের। ৩৪ তম বিসিএসে একই ঘটনা ঘটেছিলো। পিএসসির নীতিমালায় নেই প্রিলিমিনারিতেই কোটা অ্যাপলাই করার। তারপরও তারা ৩৪ তম প্রিলিমিনারিতে কোটা অ্যাপলাই করা হয়েছিলো।এবং তারা সেটা অস্বীকারও করেছিলেন। পরবর্তীতে আন্দোলনের মুখে সেটা স্বীকার করতে বাধ্য হয় পিএসসি। এবং সবার জন্য একটা সার্বজনীন কাট মার্ক করে দেন। তখন দেখা যায় কোটাধারীদের টিকাতে গিয়ে সংখ্যাটা বেড়ে দাঁড়ায় ৪৬ হাজার।

দেশে কি এমন বিল্পব ঘটে গেল যে কোটা অ্যাপ্লাই হলো না অথচ মাত্র ৮৫০০ জন প্রার্থী টেকানো হলো আর তাতেই পিএসসি পেয়ে যাবে ৫৬ ভাগ কোটার প্রার্থী। বিষয়টার অর্থ  কি দাঁড়ায়?

আরও একবার খুব সুক্ষভাবে প্রিলিমিনারিতেই কোটা অ্যাপলাই করা হয়েছে নয়ত কোটাধারিরা ইতিহাস গড়ে রাতারাতি সুপার ব্রিলিয়ান্ট হয়ে গেছে। যেখানে মাত্র ৮৫০০ জনকে টেকালেও পিএসসি চূড়ান্ত নিয়োগে ৫৬ ভাগ কোটা পুরণ করার প্রার্থী পেয়ে যাবেন!

অামরা এই সংশয়ে থাকতে চাই না। অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন অ্যাক্টের বরাদ দিয়ে তিনি আরও বলেন, তথ্য জানার অধিকার সবারই আছে। তথ্য গোপন করার এখতিয়ার পিএসসির নেই। আজকাল ভোটও কিন্তু হয় স্বচ্ছ ব্যালট বক্সে এবং ভোটের পর কেবল বিজয়ী প্রার্থী নন পরাজিত প্রার্থীও জানতে পারেন কে কত ভোট পেয়েছেন। আর এটা যেহেতু রাষ্ট্রের সর্বোচচ জায়গা, যারা আগামীতে দেশ পরিচালনা করবেন সেখানে অবশ্যই  শতভাগ স্বচ্ছতা থাকা প্রয়োজন।

আবু হুজাইফা নামের অপর এক চাকরিপ্রার্থী বলেন,‘আপনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি বাছাই পরীক্ষার দিকে তাকান দেখবেন, সেখানেও কোটার বিধান আছে এবং কোটাধারি এবং নন কোটাধারি সবাই তাদের প্রাপ্ত নম্বর দেখতে পারে। এই যে ধোঁয়াশা এর মাঝে আমরা থাকতে চাই না। এটাই আমাদের নৈতিক দাবি। সেটা ভবিষ্যতের জন্যও। বিসিএস ফল নিয়ে যাতে কারও কোন বিতর্ক না থাকে সেটা নিশ্চিত করতেই আমাদের এই দাবী। প্রয়োজন হলে আমরা আমাদের নৈতিক দাবি নিয়ে উচ্চ আদালতে যাব। আমাদের একটাই দাবী। বিসিএস পরীক্ষায় কেন নম্বর প্রকাশ করা হবে না। সেটা হয়ে গেলে বিসিএস হয়ে যাবে শতভাগ স্বচ্ছ। কারও কোন প্রশ্নও থাকবে না। কারণ সবাই জানেন যত অনিয়ম এই গোপনীয়তার ভেতরেই। নম্বর প্রকাশ করলে সবার জন্য যে একই কাট মার্ক নির্ধারণ করা হয়েছিলো সে নিয়ে কারও কোন প্রশ্ণ থাকবে না।

আব্দুল্লাহ আল নোমান নামের অপর একজন চাকরিপ্রার্থী বলেন,‘বিসিএস ইতিহাসে সবচেয়ে কঠিণ প্রশ্ণ হয়েছিলো এবছর। সবাই বলাবলি করছিলো ৯০/৯১ কাট মার্ক হবে। অথচ এমন একটা জায়গাতে ১০২/১০৩ নম্বর পেয়েও টিকতে না পরাই বলে দেয় এখানে কোটার ব্যবহার হয়েছে। পিএসসি বরাবরের মতই বিষয়টি  অস্বীকার করবে। তাই আমরা উচ্চ আদালতের কাছে জানতে চাইব কেন প্রিলিমিনারি নম্বর প্রকাশ না করা  অবৈধ হবে না।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ইসমাইল হোসেন বলেন,‘দেশ কিন্তু সেই ২০ বছর পেছনে পরে নেই। যেখান থেকে আপনি চাইলেই দায় এড়াতে পারেন এই বলে, নম্বর প্রকাশ অনেক ব্যায় সাপেক্ষ কিংবা সময় সাপেক্ষ। এখানে কেবলই স্বচ্ছতা প্রকাশ করার ইচ্ছা-অনিচ্ছার ব্যাপার। বরং প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যাবহারে এখন মূহুর্তেই কোটা ও নন কোটা আলাদা করা সম্ভব হয়।’ পিএসসির নীতিমালায় যেহেতু প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষায় কোটা ব্যবহারের সুযোগ নেই। তাই সেটা নিশ্চিত করতেই নম্বর প্রকাশের জোর দাবী জানাচ্ছি। সেজন্য দরকার হলে অামরা উচ্চ আদালতে রিট করব। কারণ পরীক্ষার পর প্রতিবারই এই অসঙ্গতি দেখা দেয়। সবার মনেই সংশয় থাকে বেশি নম্বর পেয়েও টিকলাম না আবার অনেকে কম নম্বর পেয়েও টেকে গেল।  এই জায়গাটিতে স্বচ্ছতার একমাত্র ‍উপায় হচ্ছে নম্বর প্রকাশ।

 

এ সম্পর্কিত আরও