ঢাকা : ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, শুক্রবার, ১:৪৫ অপরাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে ১৫ বছর পার করে ফেললাম: মাশরাফি

mash2বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে মাঠে থেকেই আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ১৫ বছর পূর্ণ করতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা।

মাশরাফির বয়স তখন ১৮। ক্যাম্পে গতির ঝড় তুলে বয়সভিত্তিক দল থেকে জাতীয় দলে ডাক পান। ২০০১ সালে ৮ নভেম্বর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক হয় মাশরাফির। এরপর একই বছর ২৩শে নভেম্বর ওয়ানডে ক্রিকেটে অভিষেক হয় নড়াইল এক্সপ্রেসের।

পুরো ক্যারিয়ার জুড়েই চোটের সঙ্গে লড়াই করেছেন মাশরাফি। ছোট বড় অসংখ্য চোটের ধকল সয়ে দুই হাঁটুতে সাতটি অস্ত্রোপচার পর্যন্ত করিয়েছেন।

সৌভাগ্যবশত গত চার বছর ছুরির নিচে যেতে না হলেও বেশি পরিশ্রমে এখনো হাঁটু ফুলে যায়, ব্যথা হয়। খেলা শেষে সিরিঞ্জ দিয়ে টেনে বের করে নিতে হয় হাঁটুতে জমা বিষাক্ত রস। ঘুম থেকে উঠে সঙ্গে সঙ্গে বিছানা থেকে নামতে পারেন না। হাঁটু দুটো কয়েকবার ভাঁজ করতে হয়, সোজা করতে হয়—তারপর শুরু হয় দিন।

মাঝেমধ্যে রাতগুলোও হয়ে ওঠে আতঙ্কের। ঘুমের মধ্যেই অনুভব করেন, কোনো একটা পা বাঁকানো যাচ্ছে না।

২০১১ সালে সর্বশেষ অস্ত্রোপচারের সময় অস্ট্রেলিয়ার শল্যবিদ ডেভিড ইয়াং একটা সতর্কবাণী দিয়েছিলেন। জোড়াতালির হাঁটু নিয়ে এভাবে খেলা চালিয়ে গেলে ৪০-৪৫ বছর বয়সে হুইলচেয়ারে বসে পড়তে হবে মাশরাফিকে।

ডাক্তার অপারেশন থিয়েটারেই তাকে বলেছেন, ‘তোমার নিজেরও তো একটা জীবন আছে’। সেটা নিয়ে ভাবো। আমি তোমার পা’টা ঠিক করে দিচ্ছি। এরপর আর খেলো না। এ কথা শুনে মাশরাফি বলেন, তুমি সারা জীবন আমাকে এত সাহস দিয়ে গেছ, আর এখন এসব কী বলছ’! তুমি তোমার অপারেশন করো। বাকিটা আমি বুঝব।

সবারই আক্ষেপ, ক্যারিয়ার জুড়েই চোটের সঙ্গে এতটা লড়াই করতে না হলে, মাঠে থাকার চেয়ে মাঠে ফেরার লড়াই বেশি করতে না হলে আরও কতটা উজ্জ্বল হতো মাশরাফির ক্যারিয়ার। তবে মাশরাফিকে সে সব ততটা পোড়ায় না, বরং দেশকে এত লম্বা সময় প্রতিনিধিত্ব করতে পারার প্রাপ্তিটাই তৃপ্তি দেয় মাশরাফিকে।

গত দুই বছরে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সাফল্যযাত্রার অন্যতম নায়ক মঙ্গলবার পূর্ণ করবেন ক্যারিয়ারের ১৫ বছর।

এর আগে আকরাম খানের ক্যারিয়ার ছিল ১৪ বছর ১৮৭ দিনের। আরেক সাবেক অধিনায়ক আমিনুল ইসলামের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের বয়স ছিল ১৪ বছর ৪৪ দিন। মিনহাজুল আবেদীনের ১৩ বছর ৬১ দিন।

নিজের এত বড় অর্জন নিয়েও মাশরাফি বললেন, ‘১৫ বছর অনেক সময়। খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে ১৫ বছর পার করেই ফেললাম’

‘এই মুহূর্তে খুব ভালো লাগছে। আমি কি করতে পেরেছি, সেই কারণে নয়’। বাংলাদেশ দলের একজন সদস্য হিসেবে ১৫ বছর পার করলাম, এটাই আমার কাছে অনেক বড়।

‘ইনজুরি না থাকলে হয়ত আরও ভালো কিছু হতে পারত। পরিসংখ্যান আরও সমৃদ্ধ হতে পারত’। তবে সেই আক্ষেপের চেয়েও ভালো লাগাটা বেশি যখন ভাবি, যে এত সমস্যার ভেতরও আমি খেলতে পেরেছি। সবার দোয়া ছিল।

যাদের সঙ্গে শুরু করেছিলাম, আকরাম ভাই, সুজন ভাই, আজকে তারা বোর্ডের ভালো ভালো জায়গায় আছে। বুলবুল ভাই, পাইলট ভাই, রফিক ভাই, মনি ভাই, মঞ্জু ভাই, শান্ত ভাই… সবার কথাই মনে পড়ছে

মাশরাফি এও বিশ্বাস করেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশের আরও অনেকই তাকে ছাড়িয়ে ছুঁয়ে ফেলবে আরও নতুন নতুন সীমানা।

‘এখন যারা খেলছে, তাদের জন্য দোয়া করি। ১৫ বছর নয়, ১৮-১৯ বছরের ক্যারিয়ার হতে পারে অনেকের’। সাকিব-তামিম-মুশফিকদের এখনই ১০ বছর হয়েছে। আরও ৭-৮ বছর খেলতে পারবে অনায়াসে।

মাশরাফি বলেন, ‘ক্রিকেট খেলে যদি উপভোগ না করতাম, আনন্দ না পেতাম, তাহলে খেলতে পারতাম না্’। যারা আমার সিনিয়র ছিলেন, অবসরের পরও তারা আমাকে মানসিকভাবে সহায়তা করেছেন। সবার প্রতিই আমি কৃতজ্ঞ।

এদিকে ১৫ বছর পূর্ণ করার দিনটিতেও মাঠেই থাকবেন মাশরাফি। মাইলফলকের এই দিনে বিপিএলে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের নেতৃত্ব দেবেন তিনি।

এ সম্পর্কিত আরও

Check Also

বিপিএলে কপাল খুলল মিলসের

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ-বিপিএল কপাল খুলে দিয়েছে ইংলিশ পেসার টাইমাল মিলসের। বাঁহাতি এই পেসার ভারতের বিপক্ষে …

Mountain View

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *