ঢাকা : ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬, শনিবার, ৩:২০ পূর্বাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

জাবিতে আধিপত্য বিস্তারের জেরে ছাত্রলীগকর্মীকে মারধর

ju-clash
জাবি প্রতিনিধি: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ব‌বিদ্যাল‌য়ে (জা‌বি) আ‌ধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব ঘটনার জের ধ‌রে ছাত্রলী‌গের এক কর্মী‌কে বেধরক মারধর ক‌রে‌ছে ছাত্রলী‌গের ক‌য়েকজন ‌নেতাকর্মী। মারধ‌রের শিকার ছাত্রলীগকর্মী জা‌বেদ হো‌সেন সজল অর্থনীতি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী এবং  মীর মশাররফ হো‌সেন হ‌লের আবা‌সিক ছাত্র। মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে  মারধরের ঘটনায় আহত  জাবেদ সজলকে সাভারের এনাম মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক অধ্যাপক এম ইসহাক ভুঁইয়া বলেন, ‌’অতিরিক্ত প্রহারের ফলে সজলের ঘাড়ে, পিঠে ও হাতে জখম হয়েছে।”সজল ও তাকে মারধরকারী ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা সবাই শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদুর রহমান জনির অনুসারী। অন্যদিকে মারধরের ঘটনার সময়ে সভাপতি গ্রুপের নেতাকর্মীদের সাথে তর্কে জড়িয়ে হাতাহাতি ও আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করে হলে ভীতি ছড়ানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে শাখা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহমেদ রাসেলের অনুুসারী এক ছাত্রলীগ কর্মীর বিরুদ্ধে।

ছাত্রলীগ কর্মী সজলকে মারধরকারী ছাত্রলীগ কর্মীরা হলেন- মীর মশাররফ হোসেন হলের ৪১ তম আবর্তনের পরিসংখ্যান বিভাগের সুব্রত কুমার সাহা, আইটি ইনস্টিটিউিটের অভিজিৎ নন্দী, আইন বিভাগের মানোয়ার, ৪২ তম আবর্তনের ভূগোল
ও পরিবেশ বিভাগের শিহাব রাজ, অর্থনীতি বিভাগের ইসমাইল হোসেন, ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের ফরহাদ হোসেন, পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের মো. আলী আহসান, উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের বায়েজিদ আহমেদ, ৪৩ তম আবর্তনের জেনেটিক
ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সিফাত আহমেদ রাতুল, ইতিহাস বিভাগের প্রীতম আরিফ, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের  প্রণয় ও ৪৪ তম আবর্তনের ইতিহাস বিভাগের ফাহাদ।

এরা সবাই মীর মশাররফ হোসেন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদুর রহমান জনি ও শাখা ছাত্রলীগের উপ-সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক বশিরুল হকের অনুসারী। মারধরের শিকার জাবেদ সজল বলেন, “গতকাল গভীর রাতে আমার দরজা ভেঙ্গে উপ-সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক বশিরুল হকে নির্দেশে তার অনুসারী ১২-১৩জন
ছাত্রলীগ কর্মী আমার কক্ষে প্রবেশ করে উল্টাপাল্টা প্রশ্ন করতে থাকে এবং রুম থেকে বের হতে বলে। আমি তাতে অস্বীকার করলে একপর্যায়ে তারা আমার মুখে গামছা গুঁজে দিয়ে আমাকে এলোপাথাড়ি মারতে থাকে। এক পর্যায়ে আমি অজ্ঞান হয়ে
যাই। পরে হলের সাধারণ শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকেরা আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসে।”

“আগামী ডিসেম্বর মাসে শাখা ছাত্রলীগের আসন্ন কমিটিকে সামনে রেখে ক্লিন ইমেজের নেতাকর্মীদের হল থেকে বের করে দেওয়ার অংশ হিসেবে তারা গতকাল আমাকে মারধর করে হল থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করে।”

তবে মারধরে নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে শাখা ছাত্রলীগের উপ-সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক বশিরুল হক বলেন, “আমি মারধরের বিষয়ে কিছুই জানিনা।” মারধরের বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে শিহাব, ফরহাদ, প্রীতম ও রাতুল ছাত্রলীগকর্মী সজলকে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেন।

এদিকে ঘটনার সময় উপস্থিত নৃবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “ছাত্রলীগ কর্মী সজলকে মারধরের ঘটনার সময় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহমেদ রাসেলের অনুসারী নেতাকর্মীরা
বের হয়ে আসলে উভয় পক্ষের মাঝে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং ধাক্কা-ধাক্কির ঘটনা ঘটে। এসময় নগর অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের ৪২তম আবর্তনের শিক্ষার্থী রবিউল ইসলাম একটি পিস্তল বের করে কয়েকজন ছাত্রলীগ কর্মীর মাথায় পিস্তল
ঠেকিয়ে ভয়-ভীতি প্রদর্শন করেন। এক পর্যায়ে রবিউল ভাঙ্গা কাচে আহত হলে তাকেও এনাম মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।”

আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শনের বিষয়ে ছাত্রলীগ কর্মী রবিউল ইসলাম বলেন, “এটা একটা মিথ্যা কথা। আমি কোন অস্ত্র নিয়ে যাইনি।” মারধরের ঘটনার বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদুর রহমান জনি বলেন, “মারধরের শিকার ও মারধরকারী দুই পক্ষের বক্তব্যই শুনেছি। শীঘ্রই সভা ডেকে বিশৃঙ্খলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।”

মারধরের বিষয়ে মীর মশাররফ হোসেন হলের প্রাধ্যাক্ষ মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, “হলে মারামারিতে আহত দুই শিক্ষার্থীর চিকীৎসার সমস্ত ব্যয় আমি বহন করছি। আমরা ঘটনার তদন্তে একটি কমিটি গঠন করেছি। তদন্ত কমিটির রিপোর্টের
ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।”

এ সম্পর্কিত আরও

Check Also

বিপিএল -১৬ এর ফাইনালের নায়ক কে হবেন?

আসরের যোগ্য দল হিসেবেই বিপিএলের ফাইনালে উঠেছে ঢাকা ডায়নামাইটস ও রাজশাহী কিংস। এটা বলা বাহুল্য। …

Mountain View

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *