Mountain View

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে নিয়ে কেন এতো আতঙ্ক?

প্রকাশিতঃ নভেম্বর ১১, ২০১৬ at ৭:১৫ অপরাহ্ণ

trump2আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। ট্রাম্প নির্বাচিত হওয়ার পর দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে দেখা দিয়ে বিক্ষোভ। বিক্ষোভ শেষ পর্যন্ত দাঙ্গায় রুপ নিয়েছে। এমনকি ক্যালিফোর্নিয়া যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা হয়ে যাওয়ার দাবি তুলেছে। দেশটির ইতিহাসে নজিরবিহীন এই বিক্ষোভের একমাত্র কারণ তারা প্রেসিডেন্ট হিসাবে ট্রাম্পকে মানতে পারছেন না।

টেনেসি অঙ্গরাজ্যের অস্টিন পি স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ডঃ তাজ হাশমি বলেন, আমেরিকানরা যে দ্বিধাবিভক্ত হয়েছে এটারই একটা বহি:প্রকাশ এই বিক্ষোভ। এই বিক্ষোভে প্রতিফলিত হচ্ছে সমাজ দুভাবে বিভক্ত। একটি হলো ‘এলিট’ বা শহুরে সমাজ, অপরটি হলো ‘নন-এলিট’ সমাজ’।

নির্বাচনের ফলাফল না মেনে এভাবে বিক্ষোভ করাটা ঠিক হচ্ছে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

“আসলে এই বিক্ষোভ যারা করছেন তারা একধরনের ভীতি থেকে করছেন। তরুণদের মধ্যে এই ভয়টা রয়েছে। আফ্রিকান-আমেরিকান, মুসলিম, ল্যাটিনো-তারা ভয় পাচ্ছেন আসলে আমাদের এখন কী হবে?”- বলেন ডঃ তাজ হাশমি। তবে এ বিক্ষোভ বেশিদিন থাকবে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

কিন্তু ট্রাম্পে কেন ভীত মার্কিনিরা? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে চেষ্টা করেছে বিবিসি।

ধনকুবের ট্রাম্প নির্বাচনী প্রচারণায় যেসব বক্তৃতা দিয়েছেন, সেগুলো বিশ্লেষণ করে কয়েকটি কারণ পাওয়া যায়। এর পাশাপাশি ইন্ডিয়ানার গভর্নর মাইক পেন্সের দৃষ্টিভঙ্গিও প্রভাব ফেলছে। কারণ পেন্সই হবেন ভাইস-প্রেসিডেন্ট।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এবার লিঙ্গের বিষয়টি যত বড় ভূমিকা পালন করেছে, এর আগে দেশটির কোনও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এমনটি হয়নি। নির্বাচনী প্রচারণার শেষ দিকে ট্রাম্পের ‘নারী বিষয়ক সমস্যা’কে সামনে আনেন হিলারি। তবে এসব প্রচারণা যে কাজে লাগেনি, তা পরিসংখ্যানে উঠে আসে। বুথফেরত জরিপে দেখা যায় ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছেন ৪২ শতাংশ নারী। ৫৩ শতাংশ শ্বেতাঙ্গ নারী ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছেন। যদিও মাত্র ৪ শতাংশ কৃষ্ণাঙ্গ নারী ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছেন। হিস্পানিক নারী ভোটাররা ট্রাম্পকে নিয়ে অসন্তুষ্ট থাকলেও, ২৬ শতাংশ হিস্পানিক নারী ট্রাম্পকেই ভোট দিয়েছেন।

ট্রাম্প বলেছিলেন, যেসব নারী গর্ভপাত করায় তাদের শাস্তি হওয়া উচিত, টিভি উপস্থাপকের ঋতুচক্রের বিষয়কে ইঙ্গিত করে অভদ্র কথা, তারকা হলে নারীদের সঙ্গে যা খুশি করা যায় এবং নারীদের নিয়ে অপমনাকর বক্তব্যের পাশাপাশি বাচ্চাদের ডায়াপার বদল করা বা বিছানায় সময় কাটানো এসব মন্তব্যে ট্রাম্প তীব্র সমালোচনায় পড়লেও তাকে যেসব নারী ভোট দিয়েছেন, তারা বিষয়গুলো দেখছেন ভিন্নভাবে।

কিছু নারী ভোটারের কাছে এসব মন্তব্য সমস্যা মনে হয়নি, বরং অনেক গৃহিনী একে উৎসাহব্যঞ্জক বলে মনে করেছেন। আবার কিছু নারী মনে করেন, ঐতিহাসিক ধ্যান-ধারণা ও ভূমিকার প্রসঙ্গই তুলে ধরেছেন ট্রাম্প।

ট্রাম্প বলেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের মসজিদগুলোকে নজরদারির আওতায় আনা উচিত। মুসলিমদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা এবং নজরদারির কথা বলেছিলেন। ট্রাম্পের এমন বক্তব্য মুসলিম মার্কিনিদের মনে উদ্বেগ তৈরি করেছিল। নির্বাচনে ট্রাম্পের বিজয় মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য আদৌ কোন সুফল আনবে কি-না, সেটা অবশ্য বলা যাচ্ছে না।

ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী বিতর্কিত মন্তব্যের একটি হলো  মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণ। ট্রাম্প বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র পিছিয়ে পড়েছে, নিচু মানের দেশ হয়ে গেছে। এর প্রধান কারণ হচ্ছে প্রতিবেশী মেক্সিকো থেকে আগত অভিবাসীরা। আমি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে প্রথম দিনই অবৈধ অভিবাসীদের বের করে দেওয়ার কাজ শুরু করব। মেক্সিকান অভিবাসীরা যুক্তরাষ্ট্রে ড্রাগের চোরাচালান করে, তারা বিভিন্ন অপরাধ করে, ধর্ষণ করে। ভালো মানুষ মেক্সিকো থেকে আসে না। এটা বন্ধ করতেই হবে। সেজন্য আমি দক্ষিণের সীমান্তে একটা দেয়াল বানাব।

তবে কিছু সীমান্তের অধিবাসী বলেন, যদি সত্যিই এধরনের দেয়াল নির্মাণ হয় তাহলে তারা সুফল পাবেন। নির্মাণ কাজ শুরু হলে চাকুরির পথও উন্মুক্ত হবে। এক কোটি দশ লাখের মতো অবৈধ অভিবাসী রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে, যাদের কিছু সংখ্যক হিস্পানিক বা স্প্যানিশ ভাষাভাষী। তারা হয়তো এখন কিছুটা ভীত।

এ সম্পর্কিত আরও

Mountain View