Mountain View

শিগগিরই কাজ শুরু হচ্ছে বিমানবন্দর-গাজীপুর ‘বিআরটি লেন’

প্রকাশিতঃ নভেম্বর ১১, ২০১৬ at ১১:১৬ অপরাহ্ণ

dhaka_brt_bg20161111155527

ঢাকা-গাজীপুরের দূরত্ব মাত্র ২০ মিনিটে নিয়ে আসতে সরকারের ‘গ্রেটার ঢাকা সাসটেইনেবল আরবান ট্রান্সপোর্ট’ প্রকল্প এবার গতি পাচ্ছে। খুব শিগগিরই চীনের একটি প্রকৌশলী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) বাস্তবায়নে চুক্তি সাক্ষর করতে যাচ্ছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়।

এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সড়কে দ্রুত চলাচলের জন্য পৃথক দু’টি লেনে বাস চলাচল করবে। তখন গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসতে সময় লাগবে মাত্র ২০মিনিট।

বিআরটি প্রকল্প পরিচালক একরামুল্লাহ জানান, প্রকল্পের কার্যাদেশ ‘ওয়ার্ক অর্ডার’ হয়ে গেছে। কার্যাদেশ পেতে দরপত্রে ১০টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছিলো।

এর মধ্যে বাছাই করে সবনিম্ন দরদাতা হিসেবে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি ‘চায়না গেজুয়েবা গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেড’কে মূল্যায়ন করা হয়। এখন খুব শিগগিরই তাদের সঙ্গে চুক্তি সাক্ষর করা হবে।

স্বল্প খরচে দ্রুততার সঙ্গে যাতায়াত নিশ্চিত করতে উন্নত বিশ্বের আদলে বিরতিহীন আলাদা লেনে বাস সার্ভিস চালুর এমন কাজ বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো করা হচ্ছে। বিআরটি লেনে চলাচলকারী বাসগুলো নির্দিষ্ট স্টপেজ ছাড়া কোথাও থামবে না।

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের মাঝের আইল্যান্ডের দুই পাশে নির্মিত হবে এর বিশেষ লেন। মহাসড়ক থেকে এটি ৮-১০ ইঞ্চি উঁচু থাকবে এবং ডিভাইডার দিয়ে মহাসড়ক থেকে আলাদা করা হবে। এজন্য সড়কে ৬টি ফ্লাইওভার নির্মাণ করতে হবে।

উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার সহায়তায় ২০৩৯.৮৫ (২ হাজার ৪০) কোটি টাকা ব্যয়ে ২০.৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ বিআরটি লেন বাস্তবায়ন কর হচ্ছে। গ্রেটার ঢাকা সাসটেইনেবল আরবান ট্রান্সপোর্ট প্রজেক্ট (বিআরটি, গাজীপুর-এয়ারপোর্ট) শীর্ষক প্রকল্পটি মোট ৪টি প্যাকেজের আওতায় সড়ক ও জনপথ অধিদফতর ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের মাধ্যমে যৌথভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।

বাংলাদেশ সরকারের এ প্রকল্পে সহযোগী সংস্থা হিসেবে রয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি, ফরাসি উন্নয়ন সংস্থা (এএফডি), গ্লোবাল এনভায়রনমেন্ট ফ্যাসিলিটি (জিইএফ)।

প্রকল্প পরিচালক জানান, প্রকল্পের আওতায় ২০.৫০ কিলোমিটার ‘বিআরটি’ লেনের মধ্যে ১৬.০ কিলোমিটার ‘এ গ্রেড’ বিআরটি লেন নির্মাণ করা হবে। যা প্রকল্পের প্যাকেজ-০১ এর আওতায় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর বাস্তবায়ন করবে।

এ প্যাকেজের মধ্যে ২০.৫০ কিলোমিটার ‘সুনির্দিষ্ট বিশেষায়িত বাস লেন’ এবং অন্যান্য ও ধীরগতির যানবাহনের জন্য আলাদা আলাদা লেন নির্মাণ করা হবে।

এছাড়া এ সড়কে নির্মাণ করা হবে ৬টি ফ্লাইওভার/ওভারপাস, এক্সেস সড়কসহ ১৯টি বিআরটি স্টেশন। প্রকল্পের আওতায় টঙ্গী থেকে জয়দেবপুর পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার উচ্চ ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন ড্রেন নির্মাণ করা হবে।

প্রকল্প সূত্র জানায়, প্যাকেজ-০১ এর আওতায় এ গ্রেড বিআরটি লেন নির্মাণ ও উন্নয়নে প্রাক্কলিত মূল্য ৯১৪.৯৯ কোটি টাকা।

প্রকল্পটির দরপত্র মূল্যায়ন প্রতিবেদনের ওপর ২৬ অক্টোবর মন্ত্রিসভার ক্রয় সংক্রান্ত কমিটির বৈঠকে প্যাকেজটি অনুমোদিত হয়। এসময় সবনিম্ন দরদাতা ‘চায়না গেজুয়াবা গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেড’কে সম্মতিপত্র দেওয়া হয়।

এদিকে, বিআরটি লেনের জন্য একটি খসড়া আইনও অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। যেখানে বলা হয়েছে, ঢাকা আরবান ট্রান্সপোর্ট অথরিটি বাস চলাচলের নতুন এ পদ্ধতি নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি করবে। এ জন্য সাত সদস্যের একটি কমিটি করা হবে। এ কমিটি বিআরটি লাইসেন্স প্রদান করবে।

বিআরটি লাইসেন্স ছাড়া এ রুটে কেউ বাস চালালে ১০ বছরের কারাদণ্ড বা ৫০ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রাখা হয়েছে এ আইনে। এ ছাড়া আইনের কোনো বিধান কেউ লঙ্ঘন করলে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়ার বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে নতুন এ আইনে।

যানজট নিরসনে বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত ব্যবস্থা। বিশ্বে প্রথম বিআরটি চালু হয় ১৯৭৪ সালে ব্রাজিলের কুরিতিবা শহরে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কলম্বিয়া এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের আহমেদাবাদে বিআরটি লেন আছে।

এ সম্পর্কিত আরও