হিলারির পরাজয় বিএনপি হতাশ

প্রকাশিতঃ নভেম্বর ১১, ২০১৬ at ১০:১৬ পূর্বাহ্ণ

hilari-khaleda

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জয়ে বিএনপির প্রত্যাশা পূরণ হয়নি বলে মনে করছেন দলটির নেতারা। কারণ বিএনপির অনেক নেতা মনেপ্রাণে চেয়েছিলেন নির্বাচনে হিলারি ক্লিনটনের জয় হোক।

নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান বদলাবে না—এ কথা জানা সত্ত্বেও বিএনপির মধ্যে হিলারিকে ঘিরে এক ধরনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। কারণ, বিএনপির সর্বস্তরের নেতারা মনে করেন, হিলারির সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত একটি সম্পর্ক রয়েছে। তা ছাড়া নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ক্লিনটন পরিবারের সম্পর্ক রয়েছে।

আর অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের সম্পর্ক ভালো নয় বলেই মনে করেন বিএনপি নেতারা। সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দিকে তাকিয়েছিল বিএনপি। যদিও প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় ইতিমধ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে বিএনপির পক্ষ থেকে। তবে হিলারির পরাজয় ও বিএনপির প্রত্যাশা নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করেননি বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের কোনো নেতা।

জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর  বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মতো গণতান্ত্রিক একটি দেশে প্রেসিডেন্ট পদে পরিবর্তন হলেই অনেক কিছু পরিবর্তন হবে—এমন নয়। কারণ দেশটির মূল বিষয় হলো গণতন্ত্রের চর্চা। শুধু তাই নয়, বিশ্বের অন্যান্য দেশেও গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত রাখার পক্ষে ভূমিকা পালন করে যুক্তরাষ্ট্র। সুতরাং সে ধারা অব্যাহত রাখার পক্ষেই যুক্তরাষ্ট্র ভূমিকা পালন করবে বলে বিএনপি প্রত্যাশা করে।

তবে এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপির কোনো প্রত্যাশা ছিলও না বা এ ব্যাপারে বিএনপি কোনো উচ্ছ্বাসও প্রকাশ করেনি। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর মতে, ‘যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী ফলাফলে বাংলাদেশের রাজনীতিতে কোনো প্রভাব পড়বে না। কারণ ট্রাম্পের জয় ওই দেশটির অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। তাঁর বিজয়ে বাংলাদেশে সর্বশেষ অনুষ্ঠিত নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হবে না। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন থেকে আমাদের শিক্ষা নেওয়া উচিত।’

গত (বুধবার) বিকেলে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের ফলাফলের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ বলেন, চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ইতিমধ্যে অভিনন্দন জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতায় আছে ডেমোক্রেটিক পার্টি, কিন্তু জিতেছেন রিপালিকান পার্টির প্রার্থী। যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের মতামতেরই প্রতিফলন হয়েছে ভোটে। সেখানে গায়ের জোরের কোনো বিষয় নেই।

রিজভী বলেন, ‘আমরা মনে করি, সেখান (যুক্তরাষ্ট্র) থেকে যদি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা নেন, তাহলে তিনি সত্য কথা বলবেন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি যে নির্বাচন হয়েছে, তাতে বিপুল ভোটে জয়ের যে কথা তিনি (প্রধানমন্ত্রী) বলেছেন, সেগুলো বলার ক্ষেত্রে আমার মনে হয়, উনার মধ্যে কিছুটা লজ্জা আসবে। যেভাবে একতরফা নির্বাচন করে, গায়ের জোরে ক্ষমতায় থেকে রাষ্ট্রীয় যন্ত্র দিয়ে তিনি অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে আছেন, সে কথা তো উনার ভাবা উচিত।’

যদিও যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন নিয়ে বিএনপি নেতারা প্রকাশ্যে কোনো অবস্থানের কথা জানাননি। তবে এ নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন জয়ী হলে বিএনপি কিছুটা বাড়তি সুবিধা পেত বলে দলটির নেতাকর্মীদের অনেকে বিশ্বাস করেছিল। সেই বিশ্বাস থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দলের কর্মী-সমর্থকদের কিছুটা উচ্ছ্বাসও প্রকাশ করতে দেখা যায়। নেতাদের অনেকে যে হিলারির জয় ও বিএনপিকে জড়িয়ে স্বপ্ন দেখছিলেন, তার আঁচ পাওয়া যায় ছাত্রদলের এক নেতার ফেসবুক স্ট্যাটাসে।

ছাত্রদলের সহসভাপতি ফেরদৌস আহমেদ তাঁর ফেসবুকে ব্যঙ্গ করে লিখেছেন, ‘দোস্ত ট্রাম্পকে অভিনন্দন। উনি বিএনপি নেতাদের আরামের বিছানায় বরফশীতল পানি ঢেলে দিয়েছেন। এখন যদি ওনাদের ঘুমটা ভাঙে!’

এর আগে ভারতের নির্বাচনে বিজেপির (ভারতীয় জনতা পার্টি) জয়ে উচ্ছ্বসিত ছিলেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের অনেকে মনে করেছিলেন, কংগ্রেসকে হারিয়ে বিজেপি ক্ষমতায় গেলে বাংলাদেশের রাজনীতিতে কিছু সুবিধা পাবে বিএনপি। যদিও তাঁদের সেই হিসাব শেষ পর্যন্ত কাজে লাগেনি।

এ সম্পর্কিত আরও