ঢাকা : ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, রবিবার, ৯:৫২ পূর্বাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

ভৈরবে দুই বংশের বিরোধের জেরে একজনের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে অর্ধশতাধিক বাড়িঘরে ভাংচুর ও লুটপাট

বিশেষ প্রতিনিধি, মোঃ মাইন উদ্দিনঃ ভৈরবে দুই বংশের বিরোধকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মারামারির ঘটনায় অহিদ মিয়া (৫০) নামের একজন নিহত হওয়ার ঘটনারকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের লোকজনের বাড়িঘরে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটিয়েছে নিহতের পক্ষের লোকজন।

ঘটনাটি ঘটেছে কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার সাদেকপুর ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের কিপিং বাড়ি ও নূরার বাড়ি নামের এ দুই বংশের মাঝে ।

এব্যাপারে ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবী করছেন, নিহতের স্বজনরা তাঁদের অন্তত অর্ধশতাধিক বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে আনুমানিক দু’কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি করেছে। শুধু তাই নয়, আমাদের লোকজনের নামে থানায় হত্যা মামলা হওয়ার পর আসামী হিসেবে গ্রেফতার এড়াতে আমাদের লোকজন আত্মগোপনে চলে গেলে নিহতের পক্ষের লোকজন আমাদের পরিবারের মহিলা ও অবুঝ শিশুদেরকে পর্যন্ত বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। যার ফলে আমরা এখন বাড়িঘর হারিয়ে গ্রাম ছাড়া হয়ে আশপাশের এলাকায় আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে। অন্যদিকে আমাদের স্কুল পড়ুয়া শিশু কিশোররাও যেতে পারছে স্কুলে, অনিশ্চয়তা হয়ে পড়ছে তাঁদের লেখাপড়া।

এব্যাপারে পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা সাংবাদিকদের বলছেন, সাদেকপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও রসুলপুর গ্রামের বাসিন্দা কিপিং বাড়ির ফজলুল হক মাস্টার এবং একই ইউনিয়নের বিএনপি নেতা ও ওই গ্রামের নূরার বাড়ির মুসলিম মিয়ার লোকজনের মধ্যে দীর্ঘ দিন যাবৎ বিরোধ চলে আসছিল। আর এই বিরোধকে কেন্দ্র করে এই এলাকায় দফায় দফায় মারামারির ঘটনা ঘটছিল। এই জের ধরে গত ৫ নভেম্বর শনিবার সকালে উভয়পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে প্রতিপক্ষের বল্লমের আঘাতে ফজলুল হক মাস্টার পক্ষের সর্মথক অহিদ মিয়া (৫০) নামের একজন নিহত ও কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়।

এই ঘটনায় নিহত অহিদ মিয়ার ছোট ভাই কামরুল হাসান দুলাল বাদী হয়ে প্রতিপক্ষ নূরার বাড়ি বংশের মুসলিম মিয়াকে প্রধান আসামী করে ৪৯ জনের বিরুদ্ধে ভৈরব থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় গ্রেফতার এড়াতে যখন আসামীরা গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র চলে যায়, তখন এলাকা পুরুষ শূন্য হয়ে পড়লে এ সুযোগে নিহতের স্বজনরা প্রতিপক্ষের অন্তত অর্ধশতাধিক বাড়িঘরে ভাংচুর ও লুটপাট করে। মারামারি, ভাংচুর ও লুটপাটের বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত নূরার বাড়ির আশাব উদ্দিন, আঙ্গুর মিয়া ও জাহের মিয়া সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, সাদেকপুর ইউনিয়নের ফজলুল হক মাস্টার আওয়ামীলীগের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে ক্ষমতাসীন দলের নাম ভাঙ্গিয়ে এলাকায় একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করার চেষ্ঠা ও নানা অযুহাতে লোকজনকে দেখে নেয়ার হুমকি-ধামকি দিতে থাকেন।

আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এলাকায় দফায় দফায় মারামারির এসব ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে। এসময় তাঁদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ১টি বিল্ডিং, ৫টি আধপাকা ঘর, ২৫টি টিনশেট ঘর, ২টি দোকান সহ ৩৫টি বাড়িঘর ভাংচুর করেছে নিহতের পক্ষের লোকজন। তাছাড়াও তাঁরা ৮টি খাবার পানির টিউবওয়েল সহ প্রতিটি পরিবারের মূল্যবান আসবাবপত্র ও খাবার প্লেট পর্যন্ত লুট করে নিয়ে যায়। এমন কি আমাদের বাড়ি থেকে মহিলা এবং অবুঝ শিশুদেরকেও বের করে দেয়া হয়েছে।

অপরদিকে এসব অভিযোগের কথা অস্বীকার করে ফজলুল হক মাস্টার সাংবাদিকদের বলেন, তাঁরাই দিনের পর দিন এই এলাকাতে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে আসছে এবং ওই ঘটনার দিনও তাঁরাই আগে আমাদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও

Check Also

3-12-16-1

কুমিল্লা জেলা পরিষদ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় নির্বাচিত ১ অপেক্ষায় আরো ৩

কুমিল্লা জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্যদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ প্রার্থীদের নাম …

Mountain View

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *