Mountain View

আবারও মিরাজকে ব্যাটিং না করিয়ে হারল রাজশাহী

প্রকাশিতঃ নভেম্বর ১৩, ২০১৬ at ৬:৩২ অপরাহ্ণ

miraz

স্পোর্টস রিপোর্টার, বিডি টুয়ন্টিফোর টাইমস : ১৯২ রানের বিশাল লক্ষকেও সাদামাটা বানিয়ে দিয়েছিলেন রাজশাহীর কিংসের ঘরের ছেলে সাব্বির রহমান ২৪ বল আগে যখন আউট হন তখন দলের প্রয়োজন ৩৪ রান। হাতে ৫ উইকেট। এমন সহজ সমীকরনেও  দল হারতে পারে মেনে নিতে পারছে না রাজশাহীর সমর্থকরা। বোলিংয়ে দারুন সফল মিরাজ যে একজন দারুণ ব্যাটসম্যানও সেটাই হয়ত ভুলে গেছেন সবাই। বিশ্বকাপে দলের চরম বিপর্যয়ে টানা ৪ ফিফটি বলে দেয় ব্যাট হাতে কি করতে পারেন এই মিরাজ।

অথচ পর পর দুটো ক্লোজ ম্যাচেই দলের পরাজয় দেখতে হলো ডাগআউট থেকেই। বিদেশী অধিনায়ক ড্যারেন স্যামিকে দোষ দিয়ে কোন লাভ নেই। কারণ টিম ম্যানেজমেন্ট থেকে তাকে প্লেয়ার সম্পর্কে যেভাবে বর্ণনা করা হয়েছে সে সেভাবেই প্লেয়ারদের ব্যাবহার করবেন এটাই স্বাভাবিক।

এমন ম্যাচে দলে একজন ভালো মানের ব্যাটসম্যানকে না  ব্যাটিংয়ে পাঠিয়ে সোহান-রাজুদের দিয়ে কেন বার বার দলের পরাজয় তরান্বিত করছে সেটাই মাথায় আসছে কিংস সমর্থকদের। সুযোগ পেলে মিরাজও যে হতে পারবেন বড় মাপের অলরাউন্ডার সেটা সাকিব আল হাসান -মাহমুদউল্লাহ রিয়াদরা বারবার বললেও টিম ম্যানেজমেন্ট সেটা আমলে নিচ্ছে না। ফলে নিশ্চিত জেতা ম্যাচ হারের আক্ষেপে পুড়তে হলো রাজশাহী সমর্থকদের।

বরিশাল বুলসের মুশফিকুর রহীম এবং শাহরিয়ার নাফীসের দুর্দান্ত হাফসেঞ্চুরির জবাবে রাজশাহীর ড্যাশিং ব্যাটসম্যান সাব্বির রহমানের ব্যাট থেকে আসে ঝলমলে শতরান।

তার এই অসাধারণ ইনিংসটি শেষ পর্যন্ত বৃথা গেল। সাব্বিবের এই বিস্ফোরক সেঞ্চুরি উড়িয়ে দিয়ে ৪ রানের দারুণ এক জয় তুলে নিল বরিশাল বুলস!

এর আগে বিপিএল চতুর্থ আসরের সবচেয়ে বেশি স্কোর গড়ে বরিশাল। টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমেই বিপদে পড়ে মুশফিকুর রহিমের দল। ২১ রানের মধ্যে ফিরে যান দুই ওপেনার।

এরপর দেখা গেল ব্যাটিং ঝলক। বিপিএলের চতুর্থ আসরে প্রথমবারের মত শতাধিক রানের পার্টনারশিপ দেখা গেলে হোম অব ক্রিকেটে!

বেলা দুইটায় শুরু হওয়া ম্যাচে প্রথম ওভারের দ্বিতীয় বলেই উমর আকমলের হাতে ধরা পড়েন ওপেনার দিলশান মুনারবীরা (০) । বোলার ফরহাদ রেজা। এরপর ক্রিজে আসেন শাহরিয়ার নাফিস। জুটি জমে না উঠতেই আবারও ফরহাদ রেজার আঘাত।

তার দ্বিতীয় শিকার হয়ে নুরুল হাসানের হাতে ক্যাচ দেন আরেক ওপেনার দাওয়িদ মালান (১৩)। দ্রুত দুই উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে বরিশাল বুলস। মালানের বিদায়ের পর ক্রিজে আসেন অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। আস্তে আস্তে হাত খুলে মারতে শুরু করেন দুজনেই। প্রথমে ধীরে খেললেও হাফসেঞ্চুরির দৌড়ে এগিয়ে যান শাহরিয়ার নাফীস।

৩৮ বলে হাফসেঞ্চুরি পুরণ করার পর ৪৪ বলে ৬৩ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে ড্যারেন স্যামির বলে নুরুল হাসানের হাতে ধরা পড়েন। ইনিংসটিতে তিনি ৪টি চার এবং ৪টি বিশাল ছক্কা হাঁকিয়েছেন।

নাফিসের বিদায়ের পর মুশফিকের সঙ্গী হন থিসারা পেরেরা। মুশফিক তখন ৪৮ রানে অপরাজিত। অতঃপর ধীরে ধীরেই হাফসেঞ্চুরি পুরণ করলেন বরিশাল অধিনায়ক। ৪০ বলে হাফসেঞ্চুরি করার পথে তিনি ৩টি চার এবং ২টি ছক্কা হাঁকান। হাফসেঞ্চুরির পর আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেন মুশফিক।

আরও ১টি চার এবং ২টি ছক্কা যুক্ত হয় তার ইনিংসে। শেষ পর্যন্ত ৫২ বলে ৮১ রানে অপরাজিত থেকেই মাঠ ছাড়েন মুশফিক। শেষ বলে পেরেরা (১১) রানআউট হয়ে গেলে ২০ ওভার শেষে বরিশালের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ১৯২।

উল্লেখ্য, নিজেদের প্রথম ম্যাচেও হাফসেঞ্চুরি করেছিলেন এই দুজন। তবে দলকে জেতাতে পারেননি। প্রথম ম্যাচে অপরাজিত ৫০ এবং পরের ম্যাচে ৩৩ রান করেন বরিশাল অধিনায়ক।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে দলীয় ১ রানেই ওপেনার রকিবুল হাসানকে হারায় রাজশাহী। তবে অপর ওপেনার মমিনুল হক সাব্বির রহমানকে নিয়ে আক্রমণাত্বক ব্যাটিং শুরু করেন। ১৪ রান করার পর সাব্বির একবার জীবন পান।

ব্যক্তিগত ১২ রানে আল-আমিনের বলে থিসারা পেরেরার হাতে ধরা পড়েন মমিনুল। এর আগে জুটিতে আসে ৪৮ রান। পরের বলেই উমর আকমল ফিরে গেলে একটি ছোট্ট ধসের মুখে পড়ে রাজশাহী।

ধস সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন ড্যাশিং ব্যাটসম্যান সাব্বির রহমান এবং সামিত প্যাটেল। এর মধ্যে ২৬ বলে হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন সাব্বির। ৫০ রানে পৌঁছতে তিনি ৩ চার এবং ৪টি ছক্কা হাঁকান।

এরপর থেমে থাকেনি টি-২০ স্পেশালিস্ট। ৫৩ বলে তিন অংকে পৌঁছেন তিনি। বিপিএলের চতুর্থ আসরের প্রথম সেঞ্চুরি আসে তার ব্যাট থেকে। তিন অংকে পৌঁছতে তিনি ৪টি চার এবং ৫টি ছক্কা হাঁকান। তার আগেই অবশ্য ফিরে গেছেন সামিত প্যাটেল (১৫)। সাব্বিরের সঙ্গী হন অধিনায়ক ড্যারেন স্যামি।

শেষ পর্যন্ত ৬১ বলে ১২২ রান করে থামেন সাব্বির। আল-আমিন হোসেনের বলে দাউইদ মালানের হাতে ধরা পড়েন তিনি। সাব্বিরের স্থলাভিষিক্ত হন নুরুল হাসান। জয় থেকে মাত্র ১০ রান দূরে থাকতে প্যাভিলিয়নে ফেরেন অধিনায়ক ড্যারেন স্যামি। ১৮ বলে ৩ চারে ২৭ রান করে তিনি এমরিতের বলে বোল্ড হয়ে যান।

তখনই মূলতঃ শেষ হয়ে যায় রাজশাহীর আশা। নুরুল হাসান এবং আবুল হাসান মিলে দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যেতে ব্যর্থ হন। ৪ রানের অসাধারণ এক জয় তুলে নেয় বরিশাল।

 

এ সম্পর্কিত আরও

Mountain View