Mountain View

টানা তৃতীয় হার মাশরাফির কুমিল্লার

প্রকাশিতঃ নভেম্বর ১৩, ২০১৬ at ১১:১৩ অপরাহ্ণ

har

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের প্রথম জয়ের অপেক্ষাটা আরেকটু দীর্ঘায়িত হলো। নির্ধারিত ওভার শেষে খুলনা টাইটান্সের ১৪৪ রানের জবাবে তারা ৯ উইকেটে ১৩১ করতে সমর্থ হয়। দুর্দান্ত জয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে এসেছে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের খুলনা।

১৩ রানের পরাজয়ে এবারের আসরে মাশরাফির কুমিল্লার হারের হ্যাটট্রিক হলো!দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৩০ রান আসে মারলন স্যামুয়েলসের ব্যাট থেকে। শেষেদিকে সোহেল তানভীর ২১ রানে অপরাজিত থাকলেও তা জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না।

আগামীকাল (সোমবার) ১৪ নভেম্বর নিজেদের পরবর্তী ম্যাচে সাকিবের ঢাকা ডায়নামাইটসের মুখোমুখি হবে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা। সন্ধ্যা ৭টায় ম্যাচটি শুরু হবে।

জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নেমে কেভন কুপারের বলে প্রথম ওভারেই শুভাগত হোমের হাতে ধরা পড়েন লিটন দাস (৮)। দলের হাল ধরার ইঙ্গিত দিলেও দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় দেন ইমরুল কায়েস (১৬ বলে ২১)। পঞ্চম ওভারে জুনাইদ খানকে ডাউন দ্য উইকেটে খেলতে গিয়ে বোল্ড আউট হন তিনি।

দলীয় ৫১ রানের মাথায় তৃতীয় উইকেট হারায় ‍কুমিল্লা। তরুণ অলরাউন্ডার নাজমুল হোসেন শান্তর (১০) স্ট্যাম্প ভাঙেন শফিউল ইসলাম। ১৩তম ওভারে আসার জাইদিকে (১০) ফিরিয়ে চতুর্থ উইকেটের পতন ঘটান স্পিনার মোশাররফ হোসেন রুবেল।

পরের ওভারেই কুমিল্লার আশার প্রদীপ হয়ে দাঁড়ানো মারলন স্যামুয়েলসকে (৩০) বোল্ড করে খুলনা শিবিরে স্বস্তি এনে দেন শফিউল। এরপর মাশরাফিকে (৫) ক্লিন বোল্ড করে খুলনার জয়ের পথটা আরো সুগম করেন কেভন কুপার। ৯৯ রানে ছয় উইকেট হারায় কুমিল্লা।

শেষদিকে, সোহেল তানভীর ও রশিদ খানের জুটিতে কুমিল্লার জয়ের সম্ভাবনাও জেগেছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্য! ১৮তম ওভারের পঞ্চম বলে রান আউটের ফাঁদে পড়েন রশিদ (৭ বলে ১০)। তখন দলীয় স্কোর ছিল ১২০। শেষ পর্যন্ত ৯ উইকেটে ১৩১ রানের বেশি করতে পারেনি তারা। এক প্রান্ত আগলে রাখা তানভীরের ইনিংসটি (২১ বলে ২১) বৃথা যায়।

খুলনার হয়ে জুনাইদ ‍খান ও শফিউল ইসলাম দু’টি করে উইকেট লাভ করেন। একটি করে নেন শুভাগত হোম, কেভন কুপার ও মোশাররফ হোসেন রুবেল।

এর আগে প্রথম দশ ওভারে এক উইকেটে ৯২ রান তুলে বড় সংগ্রহের আভাস দিয়েছিল খুলনা। এরপরই ছন্দে ফেরে কুমিল্লার বোলাররা। শেষ দশ ওভারে তারা ৫২ রানের বিনিময়ে তুলে নেয় আটটি উইকেট। দেড়শ’র মধ্যে আটকে রাখে খুলনাকে।

টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন কুমিল্লা দলপতি মাশরাফি বিন মর্তুজা। আন্দ্রে ফ্লেচার ও মোহাম্মদ হাসানুজ্জামানের ব্যাটে খুলনার শুরুটা হয় দুর্দান্ত।

ইনিংসের পঞ্চম ওভারে ৪৫ রানের ওপেনিং জুটি ভাঙেন মাশরাফি। ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যান ফ্লেচারকে (২৩) ইমরুল কায়েসের ক্যাচে পরিণত করে ব্রেকথ্রু এনে দেন তিনি।

১১তম ওভারে এসে আবারো দলকে উইকেট উল্লাসে মাতান মাশরাফি। নাবিল সামাদের তালুবন্দি হন শুভাগত হোম (১৬)। এক ওভার ‍ঘুরতেই আবারো মাশরাফির আঘাত। এবার বিপদজনক হয়ে ওঠা হাসানুজ্জামানকে (৩৭) ফিরিয়ে নিজের তৃতীয় উইকেট তুলে নেন। লিটন দাসের গ্লাভসবন্দি হন খুলনা ওপেনার।

মাশরাফির পর খুলনা শিবিরে জোড়া আঘাত হানেন নাজমুল হাসান শান্ত। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের (১১) পর অলক কাপালিকে (৩) সাজঘরে পাঠান ১৮ বছরের এ উঠতি অলরাউন্ডার। দলীয় ১১৭ রানে পাঁচ উইকেট হারিয়ে ব্যাকফুটে চলে যায় তারা।

শেষ ২৭ রানে খুলনার আরো চার উইকেটের পতন ঘটে। তিনটিই পাকিস্তান পেসার সোহেল তানভীরের দখলে যায়। নিকোলাস পুরান ১২ ও কেভন কুপার ১১ রান করে আউট হন। বাকি উইকেটটি নেন তরুণ আফগান লেগস্পিনার রশিদ খান।

সাতটি টিমের মধ্যে একমাত্র কুমিল্লাই এখনো জয়ের দেখা পায়নি। টানা তিন ম্যাচ হেরে পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে গতবারের শিরোপাধারীরা।

এদিকে, রোববারের (১৩ নভেম্বর) প্রথম ম্যাচটিতে সাব্বির রহমানের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতেও বরিশাল বুলসের কাছে ৪ রানে হেরে যায় রাজশাহী কিংস। মুশফিক-নাফিসের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে চার উইকেটে ১৯৩ রানের চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য ছুঁড়ে দেয় বরিশাল। নাফিস ৬৩ ও মুশফিক ৮১ রান (অপ.) করেন। জয়ের কাছাকাছি গিয়েও হতাশায় ডোবে রাজশাহী। নির্ধারিত ওভার শেষে তাদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ছয় উইকেটে ১৮৮। ৬১ বলের ১২২ রানে ‘বিস্ফোরক’ ইনিংস উপহার দেন ম্যাচ সেরা সাব্বির।

চার ম্যাচে তিনটি জয়ের সুবাদে ৬ পয়েন্ট নিয়ে চার থেকে এক লাফে শীর্ষস্থানে নাম লেখালো খুলনা। তিন ম্যাচে চার পয়েন্টে তিন থেকে চারে নেমে গেছে বরিশাল। সমান ম্যাচে সমান পয়েন্ট হলেও নেট রান রেটে এগিয়ে থাকায় এক ধাপ করে পিছিয়ে দুইয়ে ঢাকা ও তিনে রংপুর রাইডার্স। তিন ম্যাচে সমান এক জয়ে যথাক্রমে পাঁচে রাজশাহী ও ছয় নম্বরে চিটাগং।

এ সম্পর্কিত আরও