তামিমের ক্ষোভ রুপ নিল বিতর্কে

প্রকাশিতঃ নভেম্বর ১৩, ২০১৬ at ১:১৬ অপরাহ্ণ

গত নভেম্বরে বিপিএলে চিটাগং ভাইকিংস-বরিশাল বুলসের ম্যাচে চট্টগ্রামের সেই খেলায় খটকা লাগার মতো অনেক ‘রহস্য’ই মজুদ ছিল। স্বাগতিক দলের পাকিস্তানি ব্যাটসম্যান কামরান আকমলের আউটে যেমন। তাঁর প্রবল অনীহার দৌঁড়, পরে ব্যাট শূন্যে রেখে রানআউট হওয়া নিয়ে ভেসে বেড়ায় অনেক ফিসফাস। আর এলটন চিগুম্বুরার করা ১৯তম ওভার নিয়ে তো গুঞ্জন রীতিমতো রূপান্তরিত কোলাহলে! full_91849664_1479020424

এক নো ও দুই ওয়াইডে মোট ৯ বলের ওভার তা। যেখান থেকে আসে ২২ রান। ফলে ৬৩ রানে ৫ উইকেট হারানো বরিশাল বুলস ইনিংস শেষে পৌঁছে যায় ৭ উইকেটে ১৭০ রানে। ৩৩ রানে হেরে যায় চিটাগং কিংস।

তখন ম্যাচশেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে রীতিমতো ক্ষোভে ফেটে পড়েন তামিম। সতীর্থের রানআউট নিয়ে চিটাগং ভাইকিংস অধিনায়কের মূল্যায়ন, ‘কামরান যেভাবে আউট হলো, কেবল বলতে পারি, স্কুলের ছেলেদের মতো আউট হয়েছে।’ আর জিম্বাবুইয়ান চিগুম্বুরার ‘রহস্যময়’ ওভার নিয়ে তাঁর উপলব্ধি, ‘আমি তো হাতে ধরে বুঝিয়ে দিতে পারব না, এই পর্যায়ের ক্রিকেটে কী করতে হবে।’

ওই খেলার আগের ২১ ওয়ানডের মধ্যে চিগুম্বুরা বোলিং করেন মাত্র দুই ম্যাচে। নিজের খেলা সর্বশেষ ১৩ টি-টোয়েন্টিতে তো বোলিংই করেননি। তবু ১৯তম ওভারের অমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এই জিম্বাবুইয়ানকে কেন বোলিংয়ে আনেন তামিম? এখানে নিজেই যেন নিজের ‘দায়মুক্তি’ নেন চিটাগং ভাইকিংস অধিনায়ক; সংবাদ সম্মেলনে চিগুম্বুরাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে। তবে গত বিপিএলের ওই খেলাটি বিসিবির দুর্নীতি দমন ইউনিটের লাল কালিতে লেখা হয়ে থাকে ঠিকই।

গতকাল চিটাগং ভাইকিংস-খুলনা টাইটানসের দ্বৈরথও যেমন এখন দাবি জানাচ্ছে তদন্তের। আর তা-ও ওই তামিমের ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনের সূত্র ধরে।

চিটাগং ভাইকিংস অধিনায়ক কাল বলেননি, ম্যাচ পাতানো হয়েছে। গত নভেম্বরেও সে দাবি করেননি তিনি। তবে বিতর্ক যেমন উসকে দেন সেবার, আরেক নভেম্বরে কালও তেমনি জ্বালামুখ খুলে দেওয়ার জোগাড়।

কাল খুলনা টাইটানসের কাছে অবিশ্বাস্যভাবে ৪ রানে হেরে যাওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তামিম যে বলে যান, ‘যে ধরনের ক্রিকেট খেলছি, সে ধরনের ক্রিকেট খেললে এভাবেই হারতে থাকব। আমার কাছে তাই মনে হয়। কারণ একটা ব্যাটসম্যানকে ২০ বার বার্তা পাঠানোর পরও যদি সে ভুল করে, তাহলে বুঝতে হবে ওর মাথায় কোনো সমস্যা আছে। দক্ষতায় সমস্যা না থাকলেও।’

ক্রিকেটে অমন ক্রিকেটারদের খেলার যোগ্যতাকে পর্যন্ত প্রশ্নবিদ্ধ করছেন তামিম, ‘এ ধরনের ক্রিকেটে এ পর্যায়ে যদি ডাল-ভাতের মতো খাইয়ে দিতে হয়, তাহলে দুঃখের সঙ্গে বলতেই হচ্ছে, এখানে খেলা তাঁর প্রাপ্য না।’ আর কোনো অধিনায়ক কবে সতীর্থদের এমনিভাবে ধুয়ে দিয়েছেন! সে কারণেই তো এই খেলাটিকে ঘিরে তদন্তের দাবি কাল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণে ফিসফাস আকারে ঘুরে বেড়িয়েছে।

তবে বুঝতে হবে হাতের মুঠোয় থাকা ম্যাচ এভাবে ফসকে গেলে কারই-বা ভালো লাগে! নির্দিষ্ট কারো নাম তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বলেননি, ‘নাম না-ই বলি, আমি ব্যাটসম্যানদের কথা বলছি।’ আর তামিমের ক্ষোভের পরিধি যে কেবল এক ব্যাটসম্যানে সীমিত না, তা স্পষ্ট করেন, ‘বেশ কয়েকজনের কথা বলছি।’ ওই বেশ কয়েকজনের ‘মাথায় সমস্যা’, তাঁদের ‘এই পর্যায়ে খেলার যোগ্যতা নেই’ বলছেন।

ম্যাচ পরিস্থিতির উদাহরণ টেনে বুঝিয়ে দেন তামিম, ‘আমরা হেরে যেতে পারি, সামনেই হয়তো হারতে পারি। তবে একটা জিনিস দেখুন, আজ ওদের মূল বোলারদের বল করানো শেষ। দুটো ওভার অন্যদের দিয়ে করাতে হতো। এ অবস্থায় অপেক্ষা না করে মূল বোলারকে চার্জ করতে গিয়ে আউট হয়ে গেলে তো এতবার বার্তা পাঠিয়ে লাভ নেই। এই পর্যায়ে যখন খেলছে, একটু হলেও মস্তিষ্কের ব্যবহার করতে হবে।’

শুধু মস্তিষ্ক ব্যবহারের ব্যাপার হলে সে সমস্যা চিটাগং ভাইকিংসের। কিন্তু তা না হলে সমস্যা যে গোটা বিপিএলের, পুরো বাংলাদেশ ক্রিকেটের! এ কারণেই তো তামিমের কথার সূত্র ধরে তদন্তের দাবি জানাচ্ছে কালকের চিটাগং ভাইকিংস-খুলনা টাইটানসের দ্বৈরথ।

এ সম্পর্কিত আরও