ঢাকা : ১৮ অক্টোবর, ২০১৭, বুধবার, ৬:০৭ পূর্বাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site
প্রচ্ছদ / জাতীয় / রিজার্ভ চুরির বাকি অর্থ উদ্ধারেও তৎপর বাংলাদেশ ব‌্যাংক

রিজার্ভ চুরির বাকি অর্থ উদ্ধারেও তৎপর বাংলাদেশ ব‌্যাংক

প্রকাশিত :

cymera_20161114_113235

হ‌্যাকিংয়ের মাধ‌্যমে চুরি যাওয়া অর্থের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ফেরত পাওয়ার পর ফিলিপিন্স থেকে বাকি অর্থও উদ্ধারের আশা করছে বাংলাদেশ ব‌্যাংক।

বাকি অর্থ উদ্ধার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে চলতি মাসের শেষ দিকে ‍উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল ফিলিপিন্সে যাবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ‌ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মো. রাজি হাসান।

নয় মাস পর খোয়া যাওয়া অর্থের একাংশ ফেরত পাওয়ার পরদিন রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে একথা জানান তিনি।

রাজি হাসান বলেন, “যত দ্রুত সম্ভব আমরা বাকি অর্থও ফেরত আনার চেষ্টা করব।”

গত ফেব্রুয়ারিতে সুইফট সিস্টেম ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্ক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮১ মিলিয়ন ডলার পাঠানো হয়েছিল ফিলিপিন্সে।

ওই অর্থের দেড় কোটি (১৫ মিলিয়ন) ডলার শনিবার ফেরত দিয়েছে ফিলিপিন্সের কেন্দ্রীয় ব‌্যাংক। এই অর্থ জুয়ার টেবিলে চলে গিয়েছিল, এক ক‌্যাসিনো মালিক তদন্তের মুখে তা ফেরত দেয়।

ডেপুটি গভর্নর রাজি হাসান বলেন, “চুরি যাওয়া ৩১ মিলিয়ন ডলার বিভিন্ন স্থানে ফ্রিজ করা আছে। এর মধ্যে ক্যাসিনোতে আছে ২৯ মিলিয়ন ডলার।”

ওই ছয় কোটি ডলার ফেরত আনতেই বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধি দল ফিলিপিন্স যাচ্ছে বলে জানান তিনি।

সুইফট সিস্টেম ব্যবহার করে ৩৫টি ভুয়া বার্তা পাঠিয়ে নিউ ইয়র্ক ফেড থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রায় এক বিলিয়ন ডলার সরানোর চেষ্টা হয়েছিল।

একটি মেসেজের মাধ্যমে শ্রীলঙ্কার একটি ‘ভুয়া’ এনজিওর নামে ২০ মিলিয়ন ডলার সরিয়ে নেওয়া হলেও বানান ভুলের কারণে সন্দেহ হওয়ায় শেষ মুহূর্তে তা আটকে যায়।

অন‌্যদিকে চারটি মেসেজের মাধ্যমে ফিলিপিন্সের রিজল কমার্শিয়াল ব্যাংকে (আরসিবিসি) সরিয়ে নেওয়া হয় ৮১ মিলিয়ন ডলার। এর একটি বড় অংশ ফিলিপিন্সের জুয়ার টেবিলে চলে যায়।

বিশ্বজুড়ে তোলপাড় করা এই ঘটনাটি তদন্তের উদ‌্যোগ নেয় ফিলিপিন্সের সিনেট কমিটি। সে দেশের আদালতেও গড়ায় বিষয়টি।

এর মধ্যে ক্যাসিনো মালিক কিম অংয়ের ফেরত দেওয়া দেড় কোটি ডলার পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া শুরু করতে গত অগাস্টে ম্যানিলা গিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি দল।

দেড় কোটি ডলার ফেরত পাওয়ার বিষয়টির বিস্তারিত বর্ণনা সংবাদ সম্মেলনে দেন রাজি হাসান।

তিনি বলেন, ফিলিপিন্সের আদালত গত ১৬ সেপ্টেম্বর চীনা বংশোদ্ভূত ব্যবসায়ী কিম অংয়ের নগদে ফেরত দেওয়া ৪৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার এবং ৪৮ কোটি ৮২ লাখ ৮০ হাজার পেসো বাংলাদেশের অনুকূলে ফেরত দেওয়ার আদেশ দেয়।

ফিলিপাইনের আইন অনুযায়ী আদালতের আদেশ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশকে অর্থ ফেরত দিতে এক্সিকিউশন অর্ডারের জন্য ফিলিপাইনের ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস ফিলিপাইনের সংশ্লিষ্ট আদালতে আবেদন করে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত গত ২৭ অক্টোবর ৩০ দিনের মধ্যে বাজেয়াপ্ত করা অর্থ বাংলাদেশকে ফেরতের আদেশ দেয়।

ফিলিপিন্সের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে রাখা পেসো ও ডলার ফেরতের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার জন্য বাংলাদেশ ব‌্যাংকের বিএফআইইউর মহাব্যবস্থাপক দেবপ্রসাদ দেবনাথ এবং যুগ্ম-পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রব গত ৭ নভেম্বর ফিলিপিন্স যান।

এরপর ৯ নভেম্বর দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক, এফআইইউ, ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস ও রিজিওনাল কোর্টের শেরিফের সঙ্গে ম্যানিলায় বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত জন গোমেজ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা সভা করেন। ওই সভায় অর্থ হস্তান্তরের বিষয় চূড়ান্ত আলোচনা হয়।

রাষ্ট্রদূত জন গোমেজ আগেই জানিয়েছিলেন, ক্যাসিনো মালিক কিম অং এবং তার ইস্টার্ন হাওয়াই লেজার কোম্পানির ফেরত দেওয়া দেড় কোটি ডলার ফিলিপিন্সের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে গচ্ছিত ছিল।

ক্যাসিনো মালিক অং দুই দফায় এক কোটি ডলারের বেশি ফেরত দেন, যা তিনি দুইজন চীনা জুয়াড়ির কাছ থেকে নিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন।

রাজি হাসান বলেন, ১০ নভেম্বর ফিলিপিন্সে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এবং বিএফআইইউ’র কর্মকর্তাদের কাছে পেসো ও ডলার আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়, যা একই তারিখে বাংলাদেশ দূতাবাসের হিসাবে জমা করা হয়।

“জমা করা পেসো ও ডলার সোম-মঙ্গলবারের মধ্যে দূতাবাসের হিসাব থেকে সকল প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে নিউ ইয়র্কে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের সঙ্গে পরিচালিত বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে স্থানান্তর করা হবে।”

এ সম্পর্কিত আরও

Check Also

৩৬তম বিসিএসের ফল প্রকাশ, ক্যাডার পেলেন ২ হাজার ৩২৩ জন

৩৬তম বিসিএসের চূড়ান্ত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করেছে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। আজ মঙ্গলবার বিকালে প্রকাশিত …

Leave a Reply