Mountain View

সেদিন সাঁওতালদের উপর গুলি ম্যাজিস্ট্রেটদের নির্দেশে হয়

প্রকাশিতঃ নভেম্বর ১৪, ২০১৬ at ১১:২২ পূর্বাহ্ণ

cymera_20161114_111852

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে চিনিকলকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় সাঁওতালদের উপর গুলির নির্দেশ কর্তব‌্যরত ম্যাজিস্ট্রেটরা দিয়েছিলেন বলে স্থানীয় থানার ওসি সুব্রত কুমার সরকার জানিয়েছেন।

সেদিন উপস্থিত পাঁচ ম‌্যাজিস্ট্রেটের একজন গোবিন্দগঞ্জের ইউএনও আব্দুল হান্নান বলেছেন, ‘পরিস্থিতি বিবেচনায়’ গুলি ছোড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

গত ৬ নভেম্বর রংপুর চিনিকলের সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্মের বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে চিনিকল শ্রমিক-কর্মচারী ও সাঁওতালদের সংঘর্ষ থামাতে গুলি চালায় পুলিশ। এতে তিন সাঁওতাল নিহত হন, আহত হন অনেকে।

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর উপর গুলিবর্ষণের এই ঘটনায় সমালোচনা চলছে দেশজুড়ে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ কর্মসূচিও পালিত হচ্ছে।

গুলিবর্ষণের কারণ জানতে চাইলে গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি সুব্রত রোববার রাতে বলেন, “ঘটনার দিন সেখানে পাঁচজন ম্যাজিস্ট্রেট উপস্থিত ছিলেন। তাদের নির্দেশে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গুলি করা হয়।”

এই পাঁচজন হলেন- গোবিন্দগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান, পলাশবাড়ি উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) তৌহিদুল ইসলাম, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আহমেদ আলী, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রাফিউল ইসলাম ও মেজবাহ উদ্দিন।

ইউএনও হান্নান , “ঘটনার দিকে জেলা প্রশাসক মো. আব্দুস সামাদের কাছে ম্যাজিস্ট্রেট চেয়ে একটি আবেদন করা হয় পুলিশ সুপারের বিষয় শাখা থেকে।

“তখন আমরা দায়িত্ব পালন করি। পুরো এলাকার পরিস্থিতি বিবেচনায় ওই দিন বিভিন্ন সময় গুলির নির্দেশ দেওয়া হয়।”

চিনিকলের জন‌্য অধিগ্রহণ করা ওই জমিতে কয়েকশ ঘর তুলে সাঁওতালরা বসবাস করে আসছিল কয়েক বছর ধরে। চিনিকল কর্তৃপক্ষ ওই জমি উদ্ধার করতে গেলে সংঘর্ষ বাঁধে।

সংঘর্ষের সময় সাঁওতালদের বাড়িঘরে লুটপাট হয়। তার একচালা ঘরগুলো পুড়িয়ে দেওয়ার পর চিনিকল কর্তৃপক্ষ ট্রাক্টর দিয়ে মাটি সমান করে দিয়েছে।

চিনিকল কর্তৃপক্ষ সাঁওতালদের উপর হামলার জন‌্য গ্রামবাসীকে দায়ী করছে। অন‌্যদিকে ওসি ও ইউএনও আগে বলেছিলেন, সেদিন সাঁওতালদের উচ্ছেদ করতে কোনো অভিযান তারা চালাননি।

সাঁওতাল ও বাঙালিদের ১৮টি গ্রামের ১ হাজার ৮৪০ দশমিক ৩০ একর জমি ১৯৬২ সালে অধিগ্রহণ করে চিনিকল কর্তৃপক্ষ আখ চাষের জন্য সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামার গড়ে তুলেছিল।

গত বুধবার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, ওই অধিগ্রহণ চুক্তির ৫ নম্বর শর্তে উল্লেখ আছে, যে কারণে ওইসব জমি অধিগ্রহণ করা হলেও কখনও যদি ওই কাজে জমি ব্যবহার করা না হয়, তাহলে অধিগ্রহণকৃত জমি সরকারের কাছে ফেরত যাবে। পরবর্তীতে সরকার এসব জমি আগের মালিকের কাছে ফেরত দেবে।

“আমরা এর আগে এসে দেখে গেছি, এসব জমিতে মিলের জন্য ইক্ষু চাষ না করে ধান ও তামাক চাষ চলছে। গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকও এ ধরনের একটি তদন্ত রিপোর্ট প্রদান করেছে। মিল তার চুক্তি ভঙ্গ করেছে।”

ঘটনাস্থলে আ. লীগের প্রতিনিধি দল

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দল রোববার সাঁওতাল পল্লী পরিদর্শন করে ৬ নভেম্বরের ঘটনার তদন্ত করে দায়ীদের শাস্তির আশ্বাস দিয়েছে।

সাঁওতাল সম্প্রদায়ের সদস‌্যরা তাদের উপর হামলায় ইন্ধন দেওয়ার জন‌্য স্থানীয় সংসদ সদস‌্য আবুল কালাম আজাদ ও সাপমারা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শাকিল আকন্দ বুলবুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন।

হামলার ঘটনায় বিচার, ক্ষতিপূরণ, জমি ফেরতের দাবিও ক্ষমতাসীন দলের প্রতিনিধিদের জানান তারা।

প্রতিনিধি দলের প্রধান আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক সাংবাদিকদের বলেন, “সাঁওতালদের ঘরে ঘরে গিয়েছি। তাদের কাছ থেকে ওই দিনের সহিংস ঘটনার কথা শুনেছি। আমরা এর প্রকৃত বিচার করব।”

আরেক সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজে কমিটি করে দিয়ে আমাদের এখানে পাঠিয়েছেন। তিনিও চান, এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করা হোক।”

সাঁওতাল পল্লীতে প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন, ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ ও জমির বিষয়টি আইনগতভাবে সমাধান করা হবে বলে আশ্বাস দেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা ।

এছাড়া আওয়ামী লীগের অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক টিপু মুনশী আহতদের চিকিৎসার জন্য ব্যক্তিগতভাবে এক লাখ টাকা দেওয়ার ঘোষণা দেন।

এ সম্পর্কিত আরও

Mountain View