গারো তরুণী ধর্ষণ মামলায় রুবেল ৬দিনের রিমান্ডে

প্রকাশিতঃ নভেম্বর ১৫, ২০১৬ at ৫:৩৭ অপরাহ্ণ

500x350_5b2f2dbdf505812c23c0800c6e66708f_thumb02144d24142bcabb601e708c1b2a3cfbস্টাফ রিপোর্টার :রাজধানীতে গারো তরুণী ধর্ষণ মামলার গ্রেফতারকৃত প্রধান আসামি রাফসান হোসেন রুবেলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। মঙ্গলবার (১৫ নভেম্বর) বিকালে ঢাকা মহানগর আদালতের হাকিম সাব্বির ইয়াসির আহসান চৌধুরী এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে, রাজধানীর উত্তর বাড্ডার সুবাস্তু টাওয়ারের সামনে থেকে সোমবার সকাল সাড়ে ৭টায় তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এর আগে রোববার (১৩ নভেম্বর) রুবেল আদালত থেকে পালিয়ে গিয়েছিল। ওই দিন বেলা আড়াইটার দিকে ঢাকা মহানগর হাকিমের আদালতে তাকে নিয়ে যান বাড্ডা থানার পুলিশ উপপরিদর্শক (এসআই) ইমরানুল হাসান ও কনস্টেবল দীপক চন্দ্র পোদ্দার। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার জন্য রুবেলকে সিএমএম কোর্টের নতুন ভবনের অষ্টম তলার ২০ নম্বর কোর্টে নিয়ে যাওয়া হয়।

অপরাধ তথ্য ও প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার আনিসুর রহমান জানিয়েছিলেন, বিকাল ৩ টার দিকে জবানবন্দি রেকর্ড করার প্রক্রিয়া শুরু করতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ইমরানুল হাসান ম্যাজিস্ট্রেটের খাসকামরায় যান। এসময় ওই আদালতের বারান্দায় একজন কনস্টেবল আসামি রুবেলের পাহারায় ছিল। ম্যাজিস্ট্রেটের রুম থেকে ঠিক দুইমিনিট পর তদন্ত কর্মকর্তা বের হন। এসময় তিনি কনস্টেবলকে দেখতে পেলেও আসামিকে কোথাও খুঁজে পাননি। পরবর্তীতে কনস্টেবলকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি জানান, আসামিকে বারান্দায় দাড়াতে বলে তিনি টয়লেটে যান। এরমধ্যে আসামি রুবেল পালিয়ে যায়।

গত ২৫ অক্টোবর রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকা থেকে রাফসানা হোসেন রুবেলকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। ২৫ অক্টোবর রুবেল তার দুই সহযোগীকে নিয়ে উত্তরা বাড্ডা এলাকায় এক গারো তরুণীকে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের পর ওই তরুণীর হবু স্বামীর কাছ থেকে টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনায় ওই তরুণী বাদী হয়ে বাড্ডা থানায় একটি মামলা দায়ের করলে র‌্যাব-১ এর একটি দল শনিবার (১২ নভেম্বর) তাকে বিমানবন্দর এলাকা থেকে গ্রেফতার করে। শনিবারই রুবেলকে বাড্ডা থানায় সোপর্দ করা হয়। রোববার তাকে আদালতে নিয়ে গিয়েছিলো পুলিশ।

জানা যায়, ওই তরুণী উত্তর বাড্ডার একটি বিউটি পার্লারে চাকরি করতেন। গত ২৬ অক্টোবর রাতে উত্তর বাড্ডার পার্লার কাজ শেষে বাসায় ফিরছিলেন। পরে কয়েকজন মিলে তাকে জোর করে উত্তর বাড্ডার পুরনো থানা রোডের একটি বাসায় নিয়ে যায় এবং পালাক্রমে ধর্ষণ করে। লোকলজ্জার ভয়ে প্রথমে তরুণী কাউকে কিছু বলতে চাননি। পরে বাড্ডা থানায় তরুণী নিজে বাদী হয়ে একটি ধর্ষণ মামলা করেন। ঘটনার ১৯দিন পর রুবেলকে গ্রেফতারের পর র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তুহিন মোহাম্মদ মাসুদ সাংবাদিকদের জানান, রুবেলকে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় বিমান বন্দর রেল স্টেশন এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার রুবেল উত্তর বাড্ডার মিশ্রীটেলা এলাকার মফিজ উদ্দিন ওরফে মফু মিয়ার ছেলে। তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, ডাকাতির প্রস্তুতি, মাদকদ্রব্য ও সন্ত্রাসী ঘটনায় বাড্ডা থানায় আটটি এবং রামপুরা থানায় অস্ত্র আইনের একটি মামলা রয়েছে।

বাড্ডা থানার এসআই ফারুক আলম সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, ঘটনার দিন বিকালে ওই বাসায় তরুণীটি রিপন নামে তার এক বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। রিপনসহ পাঁচ ছয়জন গারো ব্যাচেলার ওই বাসায় থাকেন। রিপনের সঙ্গে দেখা করে তরুণী আগে বের হন, রিপন বের হন একটু পরে। ওই বাসার সামনেই রুবেল দাঁড়ানো ছিলেন। তরুণী বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রুবেল তাকে ভয় দেখিয়ে পাশে একটি বস্তি ঘরে নিয়ে সবাইকে বের করে দিয়ে তাকে ধর্ষণ করেন। তরুণীকে নিয়ে যাওয়ার সময় রিপন বাধা দিলে রুবেল তাকে ভয়ও দেখান।

এ সময় ওই মেসের বাসিন্দা সালাহউদ্দিন সালু মোবাইল ফোনের মাধ্যমে স্থানীয় সন্ত্রাসী আল-আমিন, রনি, সুমন, নাজমুল ও সুমনকে সেখানে ডেকে আনে। তারা রিপনকে মেসে নারী আনার অজুহাতে ঘটনা দফা-রফার ফাঁদে ফেলে নগদ ১৭ হাজার টাকা ও একটি হুয়াওয়ে স্মার্ট ফোন ছিনিয়ে নেয়। এরপর ধর্ষক রুবেল সহযোগী সালুকে নিয়ে ভিকটিমকে প্রাণের ভয় দেখিয়ে পাশের হাজি মোশাররফ মিয়ার পরিত্যক্ত বাড়ির একটি রুমে নিয়ে ধর্ষণ করে। ওই সময় আল-আমিন ও সালাহ উদ্দিন সালু বাইরে অবস্থান করে রুবেলকে সহযোগিতা করে।

এ সম্পর্কিত আরও