Mountain View

ফের শাহবাগ অবরোধ করল ঢাবি শিক্ষার্থীরা

প্রকাশিতঃ নভেম্বর ১৫, ২০১৬ at ১:১৭ অপরাহ্ণ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হিন্দুদের বাড়ি ও মন্দিরে হামলা ও দেশের বিভিন্ন জায়গায় সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদে।full_1063034352_1479193432

আজ মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান করে সড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ সমাবেশ শুরু করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। মাইনোরিটি রাইটস মুভমেন্টের ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা। গত শুক্রবার দুপুরে একই দাবিতে শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন ঢাবির শিক্ষার্থীরা।

সকাল থেকে সড়ক অবরোধের কারণে ওই এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। আর অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে শাহবাগে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া টিএসসি মোড় থেকে শাহবাগ আসার রাস্তাটির বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। চলাচল বন্ধ করতে টিএসটি মোড়ে রাস্তার ওপর পুলিশের একটি ভ্যানগাড়ি ও হলুদ ট্যাক্সিক্যাপ দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে।শাহবাগ মোড়ে অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা মাইকে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছে। এ সময় মাইকে ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে, ছয়টি দাবি পূরণে সরকারের কোনো মন্ত্রী যদি ঘটনাস্থলে এসে তাদের আশ্বস্ত করে তবেই তারা অবরোধ তুলে নেবে।

শিক্ষার্থীদের দাবিসমূহ হলো:

১. হিন্দুদের মালাউনের বাচ্চা বলে কটূক্তিকারী এবং নিজ এলাকার শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ব্যর্থ স্থানীয় এমপি মৎস ও প্রাণি-সম্পদমন্ত্রী ছায়েদুলক হকের বহিস্কার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।8bd87cba20aa48791ccfb196c2870794-582aaeffdf34f

২. ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হিন্দুদের মন্দির ও ঘরবাড়ি সরকারি খরচে পুনঃনির্মাণ করা এবং দ্রুত পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী ও ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

৩. নাসিনগরের ঘটনায় উস্কানীদাতা ও হামলাকারীসহ সবাইকে বিচারের আওতায় নিয়ে আসা, নাসিরনগরের নিখোঁজ ৬ হিন্দু পরিবারের সদস্যরা যেখানেই থাকুক তাদের স্ব-সম্মানে ফিরিয়ে এনে পুর্নবাসন করা।

৪. বর্তমান সরকারের শাসনকালসহ গত ১৬ বছরে যত হিন্দু দেশ ত্যাগ করেছেন তাদের দেশে ফিরিয়ে আনতে তৎপর হওয়া। নতুবা তাদের দেশ ত্যাগের দায় রাষ্ট্রকেই বহন করতে হবে।

৫. প্রতিবেশি দেশের মতো বাংলাদেশেও সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন করতে হবে।

৬. অবিলম্বে স্বাধীন সংখ্যালঘু কমিশন গঠন করে তাদের সুযোগ সুবিধা বিশ্লেষণ, সার্বিক নিরাপত্তা ও সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিতকরণ, জীবনমান উন্নয়ন, দেশত্যাগ প্রতিরোধসহ জরুরি বিষয়ে কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে।

সমাবেশস্থলে উপস্থিত হয়ে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাস গুপ্ত বলেন, ‘আমরা আন্দোলনের মাধ্যমে সরকার ও প্রশাসনকে যে ম্যাসেস দিতে চেয়েছিলাম সেটি আশা করি তাদের কাছে পৌঁছেছে। যার ফলশ্রুতিতে ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী এ ধরনের ঘটনা না ঘটার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সরকারি দল এ নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছে।’এ বিষয়ে রমনা জোনের ডিসি মারুফ হোসেন সরদার বলেন, ‘আমরা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছি। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা যাতে না ঘটে তার জন্য পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়ন করা হয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও