বিদেশে কালো টাকার পাহাড় গড়েছেন অমিতাভ, ঐশ্বর্য? কী আছে পানামা পেপার্সে?

প্রকাশিতঃ নভেম্বর ১৫, ২০১৬ at ৪:২১ অপরাহ্ণ

500x350_5b2f2dbdf505812c23c0800c6e66708f_thumb02144d24142bcabb601e708c1b2a3cfbবিনোদন ডেস্ক : অমিতাভ বচ্চন। গোটা দেশের আইডল তিনি। শুধু দেশে নয়, গোটা পৃথিবীতেই তাঁর ফ্যান। কম যান না পুত্রবধূ ঐশ্বর্য রাই বচ্চনও। কিন্তু তাঁদের বিরুদ্ধেই ওঠে বিদেশে বেআইনি ব্যবসার অভিযোগ।

দেশে, বিদেশে তাঁর কোটি কোটি ফ্যান। আর সেই অমিতাভ বচ্চনের বিরুদ্ধেই গত এপ্রিল মাসে ওঠে মারাত্মক অভি‌যোগ। তিনি নাকি বিদেশি সংস্থার সাহা‌য্যে নিজের সম্পদ লুকিয়ে রেখেছেন। একই রকম অভি‌যোগ উঠেছে তাঁর বউমা ঐশ্ব‌‌র্য রাই বচ্চন সম্পর্কেও। সেই সঙ্গে ওই তালিকায় রয়েছে আরও অনেক ভারতীয়ের নাম। কিন্তু বাকিদের তুলনায় বেশি জল্পনা তৈরি হয় বচ্চন পরিবারের দুই সদস্যের নাম নিয়ে।

ওই তদন্তটি চালান ‘ইন্টারন্যাশনাল কনসর্টিয়াম অফ ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্টস’ (আইসিআইজে)-এর ৩০০ জন সাংবাদিক। আর তাঁদের তথ্য সরবরাহ করে সহযোগিতা করে পানামার একটি একটি ল’ ফার্ম- ‘মোজাক ফঁসেকা’। এই রিপোর্টই ‘পানামা পেপার্স’ নামে পরিচিত।

গত এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহে একটি সর্বভারতীয় সংবাদপত্র-সহ বিশ্বের একশোটিরও বেশি সংবাদমাধ্যমের চালানো ওই যৌথ তদন্তে উঠে আসে অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য। সেই তদন্তে দেখা গিয়েছে, নামে-বেনামে রাষ্ট্রপ্রধান, রাজনীতিক, শিল্পপতি, ফুটবলার, অভিনেতা-সহ সমাজের মান্যগণ্য ব্যক্তিরা আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে

বিদেশে কালো টাকা জমিয়ে চলেছেন। নামে ও বেনামে একের পর এক বেআইনি কোম্পানি খুলেছেন। আয়কর ফাঁকি তো রয়েছেই। তখনই প্রকাশ পায় ওই তালিকায় কমপক্ষে ৫০০ জন ভারতীয়ের নাম রয়েছে।

মোজাক ফঁসেকা নামে পানামার একটি সংস্থা গোটা বিশ্বের ধনীদের টাকা আইনের ফাঁক বের করে গোপন করতে সাহা‌য্য করে। ‌যে সমস্ত দেশে করের হার কম সেখানে বিনিয়োগ দেখিয়ে ধনীদের সম্পদ গোপন করতে সাহা্‌য্য করে ওই সংস্থা। ওই সংস্থার প্রায় ১ কোটি ১০ লক্ষ নথি ফাঁস হয়ে যাওয়ার পরেই প্রকাশিত হয় ওই খবর।

বিভিন্ন খবরের কাগজে দাবি করা হয়, ফাঁস হওয়া নথি থেকে জানা গিয়েছে— ঐশ্ব‌র্য রাই ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডের সংস্থায় অংশীদারিত্ব রয়েছে। গত তিন বছর ধরে এই দেশটি সম্পদ গচ্ছিত রাখার উপরে বিশেষ ছাড় দিচ্ছে। তবে পরিচয় গোপন রাখার জন্য নথিতে পুরো নাম লেখেনি সংস্থা। ঐশ্ব‌র্য রাইয়ের নাম লেখা হয়েছে এ রাই। অভিনেত্রীর বদলে তাঁর পরিচয় দেওয়া হয়েছে কোথাও ডিরেক্টর আর কোথাও শেয়ারগ্রাহক বলে।

সেখানে অমিতাভের বিরুদ্ধে অভি‌যোগ, ১৯৯৫ সালে অমিতাভ বচ্চন কর্পোরেশন লিমিটেড তৈরির দু’বছর আগে চারটি বিদেশি শিপিং সংস্থার ডিরেক্টর নি‌যুক্ত হয়েছিলেন। ‌সংস্থাগুলির একটি ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ড ও বাকিগুলি বাহামায় নথিভুক্ত ছিল। কিন্তু রিজার্ভ ব্যাঙ্কের নির্দেশিকা অনু‌যায়ী, ২০০৩ সাল প‌র্যন্ত কোনও ভারতীয় কোনও বিদেশি সংস্থার অংশীদারিত্বে সামিল হতে পারতেন না। বিদেশে কোনও সংস্থাও তৈরি করতে পারতেন না।

একটি সংবাদমাধ্যম এ-ও দাবি করে যে, কর ফাঁকির দেশে অমিতাভের নামে চারটি সংস্থা গঠনের সময়ে তাঁর বাণিজ্যিক এবং আর্থিক বিষয়গুলি দেখতেন তাঁরই ভাই অজিতাভ।

ওই ওয়েবসাইটের দাবি, ভারতের ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রভাবশালী একটি রাজনৈতিক পরিবারে’র টাকাও সে সময়ে বচ্চন পরিবারের মাধ্যমেই ওই সংস্থাগুলিতে লগ্নি করা হয়েছিল! বচ্চন পরিবারের হয়ে সে কাজ নাকি করে দেন লন্ডনের আইনজীবী সরোশ জইওয়ালা। ওই আইনজীবীর ওয়েবসাইটে তাঁর বিশিষ্ট মক্কেলদের মধ্যে নাম রয়েছে বচ্চন এবং গাঁধী পরিবারের।

এর পরে অবশ্য অমিতাভ এবং ঐশ্বর্য অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে এই খবর সত্যি না মিথ্যা তা না জানালেও সেই সময়ে এই কেলেঙ্কারি সম্পর্কে ‘মোজাক ফঁসেকা’-র প্রতিষ্ঠাতা র‌্যামন ফঁসেকা জানিয়েছেন, তাঁদের সার্ভার ‘হ্যাক’ করে তথ্য সংগ্রহ করেছেন সাংবাদিকেরা। সেই তথ্য ‘আংশিক এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে’ ব্যবহার করে বিতর্ক তৈরি করছেন। বিষয়টি নিয়ে পানামার অ্যাটর্নি জেনারেলের দফতরে অভিযোগও দায়ের করা হয়। -এবেলা।

এ সম্পর্কিত আরও