Mountain View

মহারাষ্ট্রে রান্নার মশলা বিক্রি করেন, ইডেনে ১৪ উইকেট নিয়ে নায়ক চৌত্রিশ বছরের পেসার অনুপম

প্রকাশিতঃ নভেম্বর ১৬, ২০১৬ at ৩:৪৭ অপরাহ্ণ

5ee780aeaea598bc64a61cc4810ef1afস্পোর্টস ডেস্ক: ক্রিকেট ম্যাচ না থাকলে মহারাষ্ট্রের আমেদনগর বাজারে রান্নার মশলা বিক্রির দোকানে বাবাকে সাহায্য করেন। এমনকী, বিদ্রোহী ইন্ডিয়ান ক্রিকেট লিগ (আইসিএল) থেকে যখন ক্রিকেটের মূলস্রোতে ফেরার লড়াই চালাচ্ছিলেন, হতাশায় খেলা ছেড়ে দিয়ে পাকাপাকিভাবে পারিবারিক ব্যবসায় যোগ দেওয়ার কথাও ভেবেছিলেন।

মহারাষ্ট্রের ডানহাতি পেসার সেই অনুপম সঙ্কলেচা ইডেনে আতঙ্ক তৈরি করলেন বিদর্ভ ব্যাটসম্যানদের মধ্যে। দু’ইনিংস মিলিয়ে তুলে নিলেন ১৪ উইকেট। প্রথম ইনিংসে তাঁর বোলিং পরিসংখ্যান ছিল ১১-৩-২৫-৭। দ্বিতীয় ইনিংসে ২৫.১-২-৬৯-৭। সলভ শ্রীবাস্তব-ফৈয়জ ফজলের মতো ঘরোয়া ক্রিকেটের সফল ব্যাটসম্যানেরা থাকা সত্ত্বেও বিদর্ভের প্রথম ইনিংস শেষ হয়ে গিয়েছিল মাত্র ৫৯ রানে। মহারাষ্ট্রকে এক ইনিংস ও তিন রানে জিতিয়ে ম্যাচের সেরাও হয়েছেন অনুপম।

রঞ্জি ট্রফিতে পরের ম্যাচ খেলতে দলের সঙ্গে চেন্নাই যাবেন। ব্যাগ গুছোতে বসে অনুপম তাঁর ক্রিকেট কিট্‌সে যত্ন করে রেখে দিয়েছেন ইডেনে দু’ইনিংসে সাত উইকেট নেওয়া দু’টি বল। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মধ্য কলকাতার এক হোটেলে নিজের ঘরে বসে অনুপম বলছিলেন, ‘‘মহারাষ্ট্রের আমেদনগরে আমার বাবা অম্রুত সঙ্কলেচার
রান্নার মশলা বিক্রির দোকান রয়েছে। ম্যাচ না থাকলে আমিও দোকানে থাকি। বাবা অনেক কষ্ট করে আমাদের বড় করেছেন। তাই সাধ্য মতো ওঁর পাশে থাকার চেষ্টা করি।’’
দু’বছর আগে ইনদওরে রঞ্জি ট্রফির সেমিফাইনালে বাংলার বিরুদ্ধে দুরন্ত বোলিং করেছিলেন। দ্বিতীয় ইনিংসে নিয়েছিলেন তিন উইকেট। চলতি রঞ্জিতে পাঁচ ম্যাচে ২৩ উইকেট নিয়ে সেরা বোলার হওয়ার দৌড়ে রয়েছেন। অনুপম বলছেন, ‘‘আইসিএল থেকে ফেরার সময়টা কেরিয়ারের কঠিনতম অধ্যায় ছিল। বোর্ডের নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলেও মানসিকভাবে এমন বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছিলাম যে, খেলা ছেড়ে মশলার দোকানেই বাকি জীবনটা কাটিয়ে দেব ভেবেছিলাম। সেই সময়ে আমার রাজ্য সংস্থা ও বন্ধু-সতীর্থরা পাশে দাঁড়িয়েছিল। ওদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ।’’

মহারাষ্ট্রের ডানহাতি মিডিয়াম পেসারের বয়স? ৩৪ বছর। সতীর্থরা তাঁকে ভালবেসে ডাকেন ‘ভাইয়া’ নামে। জোরে বোলাররা যে বয়সে খেলা ছেড়ে দেন, সেখানে এরকম বিধ্বংসী বোলিং করছেন কীভাবে? অনুপম বলছেন, ‘‘মনের জোরকে সম্বল করে। ইচ্ছা থাকলে সবই সম্ভব। ফিটনেস নিয়ে পরিশ্রম করি। ক্রিকেট উপভোগ করছি। বয়স নিয়ে কখনও ভাবি না।’’

গত পাঁচ বছর ধরে অনুপমের রুমমেট অঙ্কিত বাওনে জানালেন চমকে ওঠার মতো তথ্য। বললেন, ‘‘ভাইয়া সকলের আগে প্র্যাক্টিসে নামে, সকলের শেষে মাঠ ছাড়ে। জিমে সবচেয়ে বেশি পরিশ্রম করে। খেলা শেষ হয়ে যাওয়ার পর আমরা যখন কিট্‌স গুছোতে ব্যস্ত থাকি, ভাইয়া মাঠের চারপাশে দৌড়তে শুরু করে।’’ কেদার যাদবের মুখেও এক সুর। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে জাতীয় দলের সদস্য কেদার বললেন, ‘‘ভাইয়াকে দেখে ভাল করার তাগিদ আরও বেড়ে যায়। ও আমাদের সকলের অনুপ্রেরণা।’’

অনুপমের প্রধান অস্ত্র সুইং। ইডেনের সবুজ পিচে সুইং দিয়েই প্রতিপক্ষকে ধ্বংস করেছেন। ‘‘উইকেটে স্যাঁতস্যাঁতে ভাব ছিল। ঘাসও ছিল। দু’দিকেই বল সুইং করাতে পেরেছি,’’ বলছিলেন জাভাগল শ্রীনাথ ও জেমস অ্যান্ডারসনের ভক্ত অনুপম। যোগাসন করেন। প্রস্তুতিতে জোর দেন মানসিকভাবে তরতাজা থাকার ওপর। জাতীয় দলে কখনও ডাক পাননি। দেশের মাটিতে খেলা না থাকলে ইংল্যান্ডের শিপটন-ইউ-উইচউড ক্লাবের হয়ে খেলেন। অনুপম বলছেন, ‘‘ওখানে তিন মরসুমে দেড়শোর ওপর উইকেট নিয়েছি।’’ প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে আগেও দু’বার ইনিংসে সাতটি করে উইকেট নিয়েছেন। অনুপম বলছেন, ‘‘যেরকম ছন্দে রয়েছি, তাতে চলতি রঞ্জিতে চল্লিশটা উইকেট নিতে চাই।’’

এ সম্পর্কিত আরও