ঢাকা : ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬, সোমবার, ৪:৩০ অপরাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

যেভাবে সিরিঞ্জে ছড়াচ্ছে এইডস

1232লাইফ স্টাইল ডেস্কঃ  যৌনতার তুলনায় সুই-সিরিঞ্জ ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলাদেশে এইচআইভি-এইডস রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন বেশি। এ ছাড়া বিদেশ থেকে আসা লোকের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এইডস রোগী। ২০১৫ সালে বাংলাদেশে ৪৬৯ জন এইচআইভি-এইডস রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। একই সময়ে এইডসে আক্রান্ত হয়ে ৯৫ জন মারা গেছে। বর্তমানে বাংলাদেশে এইচআইভিতে আক্রান্ত লোকের সংখ্যা ৯ হাজার ৫০০ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ন্যাশনাল এইডস-এসটিডি প্রোগ্রাম (এনএএসপি) থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
 
বাংলাদেশে ১৯৮৯ সালে প্রথম এইডস রোগী শনাক্ত করা হয়। ২০১৫ সালে ৩৪৪ পুরুষ, ১১৭ মহিলা এবং ২ জন তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) লোকসহ ৪৬৯ জন এইচআইভিতে সংক্রমিত হয়। আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকায় ১৯৫, চট্টগ্রামে ১০৪, খুলনায় ৪১, বরিশালে ১৩, সিলেট ৯৮ এবং ময়মনসিংহ, রাজশাহী, রংপুরে ৬ জন করে রয়েছেন। বর্তমানে দেশে ৯ হাজার ৫০০ এইডসে আক্রান্ত লোক রয়েছে। সংক্রমিতদের মধ্যে শিরায় মাদক গ্রহণকারীর সংখ্যাই বেশি।
 
এনএএসপির সিনিয়র ম্যানেজার মো. আক্তারুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, ৪৬৯ জন এইচআইভিতে সংক্রমিত হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে ৩০ শতাংশ বিদেশ থেকে আসা। যারা সেখানে সুই-সিরিঞ্জ নয়, সেক্সচুয়াল কারণে এইচআইভিতে আক্রান্ত হয়েছেন। বাকি ৭০ শতাংশ দেশেই এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। দেশে যারা এইচআইভিতে আক্রান্ত হয়েছেন তাদের মধ্যে বেশিরভাগই আক্রান্ত হয়েছেন শিরায় সুই-সিরিঞ্জ ব্যবহারের মাধ্যমে। এইডসে আক্রান্ত রোগ শনাক্তকরণ কার্যক্রম সরকারি হাসপাতালে পরিচালিত হচ্ছে এবং বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) মাধ্যমে এইচআইভি প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রাজধানী মোহাম্মদপুরের আশার আলো সোসাইটি একটি।
 
আশার আলো সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক হাবিবা খাতুন বলেন, এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর যত তাড়াতাড়ি চিকিৎসা হয়, তত ভালো। রোগী যদি নিয়মিত চিকিৎসা নেয়, পরিবার ও সামাজিক সাপোর্ট পায়, পরামর্শ মেনে চলে, পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ করে তাহলে অনেকদিন বাঁচতে পারে। আশার আলো সোসাইটিতে চিকিৎসাসেবা গ্রহণে আগ্রহী ২ হাজার ৪০০ জন লোক এই পর্যন্ত নিবন্ধন করেছেন। যারা নিবন্ধন করেছেন তাদের মধ্যে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে এইডস রোগীদের ওষুধ সরবরাহ নিয়ে যে সমস্যা তৈরি হয়েছিল সেটিও কেটে গেছে। এইডস রোগীদের চিকিৎসা প্রদানে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সময়ের জন্য ওষুধ কেনা হয়েছে; যা কেন্দ্রীয় ঔষধাগারে রাখা আছে।
 
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের হেলথ পপুলেশন অ্যান্ড নিউট্রেশন সেক্টর ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের (এইচপিএনএসডিপি) আওতাধীন ন্যাশনাল এইডস-এইচআইভি প্রোগ্রাম (এনএএসপি) এইচআইভি-এইডস আক্রান্তদের শনাক্তকরণ, চিকিৎসাসেবা প্রদান ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। 
 
সরকারের এই প্রকল্পের আওতায় ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী ও আক্রান্ত ব্যক্তিদের ২০টি জেলার ৬৮টি সেবাকেন্দ্রের মাধ্যমে বিনামূল্যে প্রতিরোধ ও চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পটি ২০১১ সালের শুরু হয়ে চলতি বছরের জুন মাসে শেষ হয়।
 
এনএএসপির এক কর্মকর্তা বলেন, প্রকল্পের মেয়াদ চলতি বছরের জুনে শেষ হলেও নতুন করে প্রোগ্রাম ঘোষণা করা হয়নি। প্রকল্পের মেয়াদ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু নতুন প্রকল্প গ্রহণ না করায় এইডস প্রোগ্রামের অনেক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। এতে এইডস-এইচআইভিতে আক্রান্তদের চিকিৎসা প্রদান ও প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, এইডস প্রোগ্রামের অনেক কার্যক্রম রয়েছে। নতুন প্রকল্প না হওয়ায় এইডসে আক্রান্তদের মধ্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান ও খাওয়ার ওষুধ সরবরাহ, কনডম সরবরাহ এ দুই ধরনের কার্যক্রম চালু রয়েছে। বাকি কার্যক্রমগুলো বন্ধ। প্রকল্পের মেয়াদ ৬ মাস বাড়িয়ে এর জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৯ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। এ পরিমাণ অর্থ দিয়ে এইডস প্রোগ্রামের সব কার্যক্রম চালু রাখা সম্ভব নয়। ওই কর্মকর্তা বলেন, আমরা একজন রোগীকে ২ বছর কনডম ও ওষুধ প্রদান করলাম। কিন্তু এক মাস যদি না দিই তাহলে এইডস প্রতিরোধ কার্যক্রম সফল হবে না। পর্যাপ্ত অর্থ, অবকাঠামো, চিকিৎসক, প্রয়োজনীয় উপকরণের অভাবে এইডস কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
 
বাংলাদেশে এইডসে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা সম্পর্কে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, বিভিন্নভাবে এইচআইভি ভাইরাস ছড়াচ্ছে। সিরিঞ্জ ব্যবহার করা যারা মাদক গ্রহণ করে তারাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। শুধু সিরিঞ্জ ব্যবহার করার কারণে নয়, যারা পতিতালয়ে যায় ও সমকামী হওয়ার কারণেও আক্রান্ত হচ্ছে। ধনী-গরিবসহ সব শ্রেণির মধ্যেই এইডস রোগী আছেন। যারা উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্ত তারা চিকিৎসা নিতে দেশের বাইরে চলে যান। নিম্নবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্তরা চিকিৎসা নেওয়ার জন্য সরকারি ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলোর শরণাপন্ন হয়।
 
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, ভৌগোলিক দিক থেকেও বাংলাদেশের অবস্থান একটি ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে। পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও ইরান নিয়ে গঠিত গোল্ডেন ক্রিসেন্ট, লাওস মিয়ানমার ও থাইল্যান্ড নিয়ে গঠিত গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গলের মাঝে এবং ভারতের পাশে হওয়ায় মাদকের সহজলভ্যতা ও মাদকাসক্তি এখানে একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাদকের অপব্যবহার এইচআইভি সংক্রমণের একটি বড় কারণ।
 
এইডসমুক্ত প্রজন্ম গড়তে পরিবর্তন, আমাদের স্বাস্থ্যের অধিকারÑ এই সেøাগানকে প্রতিপাদ্য করে তিন দিনব্যাপী ইন্টারন্যাশনাল কংগ্রেস অন এইডস ইন এশিয়া অ্যান্ড দ্য প্যাসিফিক (আইকাপ) সম্মেলন গত ১২ মার্চ ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়। রাজধানীর বসুন্ধরার আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে এ সম্মেলন বৈজ্ঞানিক ও কার্যপ্রণালিগত বিভিন্ন অগ্রগতি ও চ্যালেঞ্জবিষয়ক তথ্য বিনিময়, এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবা পাবার অধিকার, ঝুঁকিপূর্ণ ও আক্রান্ত জনগোষ্ঠী, লিঙ্গ সমতাভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা, ২০৩০ সাল নাগাদ এইডস নির্মূল কর্মসূচি ত্বরান্বিতকরণ এবং ২০১৫ সালের পরবর্তী উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের বিষয়টি তুলে ধরা হয়।
 
জাতীয় এইডসবিষয়ক কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, মাদক বেশি এলে সিরিঞ্জের ব্যবহারও বেশি হবে। দেশে বিপুল পরিমাণে মাদক আসছে। মাদক যাতে কম আসে সে ব্যবস্থা নিতে হবে। ছেলেরা সিরিঞ্জের মাধ্যমে শিরায় মাদক নেয়, কিন্তু তাদের মধ্যে কিন সিরিঞ্জ সরবরাহের ব্যবস্থা নেই। তারা কে কোথায় মাদক নেয় তা চিহ্নিতকরণে এবং তাদের সচেতন করতে কর্মসূচি গ্রহণ প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, হোটেলসহ বিভিন্ন স্থানে সেক্সচুয়াল ঘটনা ঘটে। সেগুলো আমাদের কার্যক্রমের আওতায় নেই। সেখানেও কিন উপকরণ সরবরাহ করার কর্মসূচি নিতে হবে। বিদেশ থেকে যারা আসছেন তাদের মধ্যে এইচআইভি সংক্রমিত কেউ-কেউ সাহায্য চায়। আবার অনেকে নিজেই এইচআইভিতে সংক্রমিত হওয়ার বিষয়টি জানে না। বিদেশ থেকে দেশে ফেরা লোকদের এইচআইভি ভাইরাস শনাক্তে কোনো প্রকল্প নেওয়া যেতে পারে।

এ সম্পর্কিত আরও

Check Also

500x350_658a64c4b265945be1325974fb6b78e8_20_8_2

অসুস্থ অবস্থায় যে ৯ খাবার কখনোই খাবেন না

লাইফ স্টাইল ডেস্কঃ অসুস্থ অবস্থায় যে ৯ খাদ্য ও পানীয় এড়িয়ে চললে আপনি আরো ভালো থাকবেন: …

Mountain View

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *