ঢাকা : ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬, মঙ্গলবার, ২:৪৬ পূর্বাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

৯ ফুট মেয়েকে নিয়ে বিপদে বাবা

1232আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ মেয়েটির নাম সিদ্দিকা পারভিন। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ দিনাজপুরের বংশীহারি থানার শ্রীরামপুর থানার ২২ বছরের এই তরুণীকে নিয়ে একসময়ে তোলপাড় হয়েছিল। কারণ ৯ ফুট উচ্চতার সিদ্দিকার ওজন ১২৫ কেজি৷
 
এই বিরলতম খবর সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সাহায্যের জন্য হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সেই সঙ্গে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া হয়।
 
কিন্তু সবটাই যে ছিল লোক দেখানো। আর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা প্রকট হয়ে পড়েছে। তিন বছর পর বিনা চিকিৎসায়, অর্ধাহারে দিন কাটছে সিদ্দিকার। দিনমজুর কৃষক বাবা মেয়েকে নিয়ে ভীষণ বিপদে পড়েছেন। মাত্র তিন বছরেই বদলে গিয়েছে ছবি। একসময়ে প্রতিশ্রুতির বন্যা, সেইমতো বেশ কিছু সাহায্যও মিলেছিল। কিন্তু এখন আর পাশে দাঁড়ানোর মতো কেউ নেই। আর কেউ সাহায্যের হাতও বাড়ান না। যার ফলে, চরম দুর্দশার মধ্যে দিন পাড় করতে হচ্ছে সিদ্দিক্কার পরিবারের।
 
বিরলতম রোগের আক্রান্ত সিদ্দিকা পারভিন তার অস্বাভাবিক উচ্চতার জন্য ২০১৩ সালে খবরের শিরোনামে আসেন। তাকে নিয়ে হইচই শুরু হয়ে যায়। তখন রাজ্য সরকারের তদানীন্তন মন্ত্রী শঙ্কর চক্রবর্তী উদ্যোগী হয়ে সিদ্দিকাকে কলকাতায় নিয়ে যান। সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল পিজিতে দেড় মাস নিখরচায় চিকিৎসা হয় তার। লোকসভা নির্বাচনের আগে কংগ্রেস নেতা ওমপ্রকাশ মিশ্র সিদ্দিকার দিল্লিতে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দেন। 
 
চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে বলেন, পিটুইটারি গ্র‌ন্থিতে টিউমার থাকার কারণেই অস্বাভাবিক বৃ‌দ্ধি সিদ্দিকার। অপারেশন করে সেই টিউমার বাদও দেওয়া হয়। তখন তিন মাস অন্তর খাওয়া খরচ বাবদ ১০ হাজার টাকা পাঠাতেন ওমপ্রকাশ। কিন্তু দেড় বছর পর তা বন্ধ হয়ে যায়। ২০১৫ সালে সিদ্দিকা আবারো অসুস্থ হলে তাকে পুনরায় পিজি হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।
 
সরকারের তরফ থেকে সাহায্যর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। এখন তাকে চিকিৎসার জন্য প্রতিমাসে পিজিতে নিয়ে আসতে হয়। বিনা পয়সায় চিকিৎসা চললেও যাতায়াতের খরচ বহন করাই সমস্যা হয়ে উঠেছে সিদ্দিকার পরিবারের।
 
 
 
তার বাবা আফাজুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘মেয়ের সারাদিন দুই কেজি চালের ভাত লাগে। এছাড়া টিফিন রয়েছে। এখন ধনুকের মতো বেঁকে গেছে। চিকিৎসার জন্য কলকাতায় প্রতিমাসে নিয়ে যেতে হয়। ট্রেনের সিটে জায়গা হয় না। বেসরকারি পরিবহনেও যাতায়াত করা সমস্যায়। সবচেয়ে বড় কথা, প্রতিমাসে কলকাতায় নিয়ে যাওয়ার খরচ আর আমরা টানতে পারছি না।’ চিকিৎসা দূরে থাক, এখন সিদ্দিকার দুই বেলা খাওয়ার জোটানোই সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে আফাজুদ্দিনের কাছে। ফের কেউ যদি সাহায্যের হাত বাড়ান, এখন সেই প্রতীক্ষাই করছেন তিনি। 
 
এ প্রসঙ্গে জেলার অতিরিক্ত জেলাশাসক (সাধারণ) অমলকান্তি রায় বলেন, ‘বিষয়টি জানা ছিল না। সিদ্দিকার পরিবারের লোকেরা যোগাযোগ করলে ভাবনা-চিন্তা করা হবে। সমস্যা কিছু হবে না।’

এ সম্পর্কিত আরও

Check Also

15356055_1737676406553895_16267

গণভোটে হেরে পদত্যাগ করছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রীর মতে এই সাংবিধানিক সংস্কার দেশটির আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়ায় গতি ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে। যদিও …

Mountain View

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *