Mountain View

বর্তমানে কবরে গিয়েও নিরাপদ নয় মৃতদেহ

প্রকাশিতঃ নভেম্বর ১৭, ২০১৬ at ৫:১৩ অপরাহ্ণ

fb_20161117_10_22_44_saved_pictureস্টাফ রিপোর্টার : মৃত্যুর পর মানুষের শেষ জায়গা কবরস্থান। কিন্তু সেখানে কি নিরাপদ মরদেহ? রাতের অন্ধকারে কবর থেকে চুরি হয়ে যাচ্ছে কঙ্কাল। পরে অধিক লাভের আশায় তা বিক্রি হয়ে যাচ্ছে মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের কাছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন অধিক মুনাফা ও আইনের যথাযথ প্রয়োগ না থাকার কারণে ঘটছে এমন ঘটনা।
রাজধানীর জুরাইন কবরস্থানে একটি অনুসন্ধানে এমন আট থেকে দশটি কবর পাওয়া গেছে যার ভিতরে মৃতদেহের কোন চিহ্নও পাওয়া যায়নি। এলাকাবাসীরা জানান, গত রোজার ঈদের আগে কবরগুলোতে বেওয়ারিশ মৃতদেহ দাফন করা হয়েছিল। মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে সংঘবদ্ধ একটি চক্র কঙ্কালগুলো চুরি করে নিয়ে গেছে। কবরস্থানের নিরাপত্তারক্ষীরা প্রথমে বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরে তা স্বীকার করেন।
কবর থেকে কঙ্কাল চুরির কাজে নিয়োজিত সংশ্লিষ্ট এক সদস্য জানায়, রাতের অন্ধকারে অনেকের যোগসাজশেই কবর থেকে চুরি করা হয় কঙ্কাল।
সম্প্রতি রাজধানীর মিরপুর কবরস্থানে কবর থেকে কঙ্কাল চুরির কয়েকজন সদস্যকে গ্রেফতার করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তাদেরকে রিমান্ডে নিয়ে পাওয়া যায় নানা তথ্য।
মিরপুরের উপ-পুলিশ কমিশনার মামুন আহমাদ বলেন, একটা গ্রুপ আছে যারা লাশ কালেকশন করে, আরেক গ্রুপ তা প্রসেস করে, আরেক জন বাজারজাত করে। যারা কালেকশন করে তাদের গ্রেফতার করলে আমরা জনতে পারবো কিভাবে তারা সংগ্রহ করে আর কোথায় তারা প্রসেস করে।
মূলত এই সব কঙ্কাল সংগ্রহ করা হয় সরকারি ও বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে। দেশে ৯৯টি মেডিক্যালে প্রায় দশ হাজার শিক্ষার্থীর শিক্ষা কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজন প্রচুল কঙ্কালের। চাহিদা অনুযায়ী সরবাহ না থাকায় কবর থেকে কঙ্কাল চুরির ঘটনা ঘটছে।
অধ্যাপক ড. এম ইকবাল আহসান বলেন, বিদেশের ওরা অর্টিফিসিয়াল কঙ্কাল তৈরি করে সেটা খুবই দামি হয়ে থাকে। নিম্নবিত্ত এবং মধ্যবিত্ত যে শ্রেণী তাদের জন্য এই খরচ বহন করা সম্ভব হয় না। মেডিকেলের ছাত্রদের চাহিদার কারণে কঙ্কাল একটি ব্যবসায়ীক পণ্য হয়ে গেছে।
চাহিদা বেড়ে যাওয়ার কারণে বেড়ে গেছে কঙ্কালের দামও। আগে একটি কঙ্কাল বিক্রি হতো দশ হাজার টাকায় এখন সেটা বিক্রি হয় চল্লিশ হাজার টাকায়।

এ সম্পর্কিত আরও

Mountain View