ঢাকা : ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, শুক্রবার, ১:৪৪ অপরাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

মেয়রের মাসিক ৯৪ হাজার টাকার সম্মানীতে দুঃখী মানুষের মুখে হাসি

হিসাবটা এ রকম, মাসে ৯৪ হাজার ৫০০ টাকা। বছরে ১১ লাখ ৩৪ হাজার টাকা। দেড় বছরে ১৭ লাখ ১ হাজার টাকা। চসিক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনকে দেওয়া চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) ‘সম্মানীর’ পুরোটাই মাস শেষে জনতা ব্যাংকে মেয়রের আলাদা একটি হিসাবে জমা হয়। তবে টাকাটা চসিকের নির্ধারিত একজন কর্মকর্তার মাধ্যমে ব্যয় হয় দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর কাজে।full_759377301_1479359468

জানা গেছে, চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী মেয়র হিসেবে চসিকের সম্মানীর টাকা গ্রহণ করছেন না। ওই টাকা থেকে প্রতিমাসে নিজাম সড়কের নিষ্পাপ অটিজম ফাউন্ডেশনকে ৩০ হাজার টাকা, ১ নম্বর ওয়ার্ডের গুপ্তপাড়ার সিএসডি নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে ২০ হাজার টাকা এবং চসিকের কর আদায়কারী আবদুল মোমিন পাটোয়ারির ছেলেকে (এমবিবিএস দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র) ৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হচ্ছে। ২০১৫ সালের ৪ নভেম্বর নিষ্পাপ অটিজম ফাউন্ডেশনকে তিন মাসের একসঙ্গে ৯০ হাজার টাকা দিয়ে এ তহবিলের যাত্রা শুরু হয়। সর্বশেষ গত ১ নভেম্বর মাসিক তালিকাভুক্ত তিন খাতে দেওয়া হয় ৫৫ হাজার টাকা।

মাঝখানে ক্যানসার আক্রান্ত ‌দুইজনকে ৫০ হাজার করে ১ লাখ টাকা, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত একজনকে ৫০ হাজার, কুসুমকুমারী স্কুলের এক ছাত্রীর ব্রেন টিউমার অপারেশনের জন্য ৫০ হাজার, ব্রেস্ট টিউমার অপারেশনের জন্য একজনকে ৩০ হাজার, অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধাকে ৩০ হাজার, হুইল চেয়ার কিনে দেওয়ার জন্য একজনকে ৯ হাজার ৫০০ টাকা, ডায়াবেটিস রোগীর কৃত্রিম পায়ের জন্য ৩০ হাজার, টিউমার অপারেশনের জন্য ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে মেয়ের বিয়ের জন্য, ছেলের প্রস্রাবের রাস্তা অপারেশনসহ বিভিন্ন খাতে অনেককে টাকা দেওয়া হচ্ছে।

২০১৫ সালের ১৭ মে নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর চশমা হিলের বাসভবনে নগর মহিলা আওয়ামী লীগের সংবর্ধনা সভায় মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন সম্মানীর অর্থ প্রতিবন্ধী শিশু ও অসহায় মানুষের কল্যাণে ব্যয়ের ঘোষণা দিয়েছিলেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘আমাদের শহরে অনেক প্রতিবন্ধী সন্তান আছে। কোনো হতদরিদ্র পরিবারে যদি এরকম সন্তান থাকে তাহলে এর চেয়ে কষ্টের আর কিছু হয় না। তাদের দেখে আমি চোখের পানি ধরে রাখতে পারি না।’

সম্মানীর টাকা প্রসঙ্গে সম্প্রতি মেয়র নাছির উদ্দীন বলেন, নির্বাচনের সময় আমি ঘোষণা দিয়েছিলাম সম্মানীর টাকা নেব না। আমি তা ছুঁয়েও দেখিনা। প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে অটিজম ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন সংস্থা ও ব্যক্তিকে ওই টাকা থেকে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

প্রধান নির্ব‍াহী কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, মেয়রের কাছে প্রথম ২০১৫ সালের জুলাই মাসে ছয় দিনের সম্মানী বাবদ ১৮ ‍হাজার ২৯০ টাকার চেক নিয়ে গেলে মেয়র সেটি গ্রহণ না করে কোনো দাতব্য প্রতিষ্ঠানে দিয়ে দেওয়ার জন্য বলেন। এরপর থেকে মেয়রের সম্মানীর সাড়ে ৯৪ হাজার টাকা আমরা আলাদা একটি হিসাবে ব্যাংকে জমা করে দিই। সেখান থেকে নির্ধারিত দুটি প্রতিষ্ঠান ও একজন ব্যক্তিকে প্রতিমাসে এবং গরিব-দুঃখী মানুষকে মেয়রের অনুমোদন নিয়ে চেকের মাধ্যমে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এর বাইরে মেয়র ব্যক্তিগত টাকা থেকেও করপোরেশনের অনেক অসহায় কর্মচারীকে প্রতিদিন সহায়তা দেন। এর ফলে অনেক দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফুটছে।

মেয়রের সম্মানী বাবদ গড়ে তোলা তহবিলটি দেখভাল করেন চসিকের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির চৌধুরী। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে চাকরিজীবনে এ ধরনের ঘটনা নজিরবিহীন। যখন অসহায় মানুষগুলো মেয়রের দেওয়া চেক পান তখন তাদের চোখে মুখে যে খুশি খেলা করে তা আমাকে মুগ্ধ করে। তিনি বলেন, এ তহবিলের প্রতিটি চেকের বিপরীতে প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র আমরা সংরক্ষণ করছি। সূত্র: বাংলানিউজ

এ সম্পর্কিত আরও

Check Also

সুলতান সুলেমান দেখব না কেন?

২০১৫ সালের নভেম্বরে প্রচারে এসেছে দীপ্ত টিভি। শুরুর দিন থেকেই প্রচার করছে তুরস্কে নির্মিত টেলিভিশন …

Mountain View

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *