ঢাকা : ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬, সোমবার, ৪:৩২ অপরাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

শিক্ষক হতে চাইলে দিতে হবে কুমারীত্বের পরীক্ষা!

fb_20161117_10_22_44_saved_pictureআন্তর্জাতিক ডেস্কঃ  বিশ্বে এখন মেয়েদের সম্মানরক্ষা বিষয়ে সচেতনতা বাড়ছে, নারী-অধিকার সম্পর্কে সক্রিয় হয়ে উঠছে বিভিন্ন গণসংগঠন। কিন্তু ব্রাজিলে দেখা গেল এক উল্টো চিত্র। সেখানে কোনো মেয়ে শিক্ষকতা পেশায় ঢুকতে চাইলে ডাক্তারি পরীক্ষার মাধ্যমে তার কুমারীত্ব যাচাই করে দেখা হয়।
 
ব্রাজিলের সাও পাওলোতে কোনো মেয়ে যদি শিক্ষকতার পেশায় যুক্ত হতে চান, তাহলে ডাক্তারি সার্টিফিকেটের মাধ্যমে তাকে আগে প্রমাণ করতে হয় যে, তিনি সক্রিয় যৌন জীবন-যাপন করছেন না, এবং তিনি সার্ভাইকাল অর্থাৎ জরায়ুমুখের ক্যানসার কিংবা কোনো যৌন রোগে আক্রান্ত নন।
 
এই সার্টিফিকেট পেতে হলে নারীদের সরকারের দ্বারা স্বীকৃত কোনো স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের দ্বারস্থ হতে হয়। সাধারণত তারপর সেই ডাক্তার প্যাপ স্মেয়ার টেস্টের মাধ্যমে রোগীর পরীক্ষা করেন। পরীক্ষার সময় স্পেকুলাম যন্ত্রের মাধ্যমে যোনিমুখকে বিবর্ধিত করে জরায়ুমুখ থেকে কোষের ক্ষুদ্র অংশ পরীক্ষার জন্য কেটে নেওয়া হয়। ফলে এই পরীক্ষা নারীদের পক্ষে শুধু যে অবমাননাকর তা-ই নয়, শারীরিকভাবে যন্ত্রণাদায়কও।
 
ব্রাজিলিয়ান প্রশাসনের দাবি, এই পরীক্ষার মাধ্যমে আসলে যাচাই করতে চাওয়া হয় যে, যিনি শিক্ষকতার কাজে যুক্ত হচ্ছেন, তিনি শারীরিকভাবে সুস্থ কি না। অর্থাৎ তিনি অন্তত ২০ বছর নিরবচ্ছিন্নভাবে এই চাকরি করে যেতে পারবেন কি না এবং নিয়মিত স্কুলে বা কলেজে উপস্থিত থাকতে পারবেন কি না।
 
কিন্তু মানবতাবাদী এবং নারীবাদী সংগঠনগুলি এই যুক্তি মানতে নারাজ। তাদের বক্তব্য, এই পরীক্ষা একটি মেয়ের স্বাধীনতা ও সম্মানে সরাসরি হস্তক্ষেপ। সাও পাওলোর নারী-অধিকার আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী আনা পাওলা বলেন, ‘কোনো মেয়ে যৌনজীবনে কতটা সক্রিয়, তা আদৌ তার শারীরিক সুস্থতার পরিচায়ক নয়।’
 
চাকরির জন্য পালনীয় এই অদ্ভুত রীতিকে ‘মধ্যযুগীয়’ বলে দাবি করে এটিকে বন্ধ করার জন্য সরব হয়েছে ব্রাজিলের বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন।
 
সরকার অবশ্য বিবৃত প্রকাশ করে সাফাই গাইছে, ‘এই পরীক্ষা মোটেই কোনো বাধ্যতামূলক বিষয় নয়। কোনো মেয়ে চাইলে এই পরীক্ষাকে এড়িয়ে যেতে পারেন।’
 
‘বাধ্যতামূলক’ যদি না-ও হয়, ‘ঐচ্ছিক’ বিষয় হিসেবেই বা এমন অবমাননাকর একটি পরীক্ষা কেন চালু থাকবে এই একবিংশ শতকে, সেই প্রশ্নই তুলছেন ব্রাজিলের মুক্তমনা মানুষেরা।

এ সম্পর্কিত আরও

Check Also

23cac260e0e06efa81849ba8495e00cfx236x157x8

মুসলিম রোহিঙ্গাদের নতুন আশ্রয়স্থল উত্তপ্ত কাশ্মীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনে নিজ ভূমি ছেড়ে অন্যত্র পালাচ্ছেন দেশটির মুসলিম রোহিঙ্গারা। বছরের পর …

Mountain View

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *