চিরিরবন্দরে হরিমন্দির প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে কমলমতি শিশুদের পাঠদান

প্রকাশিতঃ নভেম্বর ১৮, ২০১৬ at ৮:১৭ অপরাহ্ণ

 hqdefaultচিরিরবন্দর(দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুর চিরিরবন্দর উপজেলার আলোকডিহি ইউনিয়নের হরিমন্দির সরকারি প্রাথমিক  বিদ্যালয়ে ঝুঁকিপূর্ণ শ্রেণি কক্ষে চলছে পাঠদান। এ বিদ্যালয়ের পুরনো ভবনের অবস্থা অত্যন্ত জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। বিদ্যালয় ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল ধরেছে। ছাদসহ বিভিন্ন স্থানের সিমেন্ট, বালু ও ইট-খোয়া খসে পড়েছে। 
 
জানা যায়, ১৯৭২ সালের দিকে এলাকাবাসীর প্রচেষ্টায় ২৭ শতক জমির উপর বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রথমে টিনের বেড়া দিয়ে এ বিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হলে সাত বছর ধরে বাঁশের বেড়া দিয়ে স্কুলটি পরিচালনা করা হয়। ১৯৭৮ সালের দিকে স্কুলটি রেজিস্ট্রেশন পেলে ধারার বেড়া দিয়েই কার্যক্রম চালানো হয়। এবং ১৯৯৩-৯৪ অর্থ বছরে ৪ লক্ষ ২০ হাজার টাকা ব্যয়ে সরকারি ভাবে তিনটি শ্রেণি কক্ষ ও একটি অফিস কক্ষ সহ চার কক্ষ বিশিষ্ট একটি ভবন নির্মাণ করা হয়। কিন্তু শ্রেণি কক্ষ ও অফিস কক্ষটি অত্যন্ত সরু ও সঙ্কীর্ণ হওয়ায় এর মধ্যে টেবিল-চেয়ার রাখা দুরূহ হয়ে পড়ে। 
 
হরিমন্দির স্কুলের প্রধান শিক্ষক রনজীত কুমার রায় জানান, এ অফিস কক্ষ সহ শ্রেণি কক্ষ গুলো দায় সারা ভাবে নির্মাণ করায় এখনই তা জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যেই বিদ্যালয়টির শ্রেণি কক্ষ গুলোর ছাদের পলেস্তরা খসে পড়া ছাড়াও দেয়াল ও ছাদে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। তাছাড়া একটি শ্রেণি কক্ষের ছাদের ওপরের কিছু অংশ ধসে ফাঁকা হয়ে গেছে এবং ছাদ ঢালাইয়ের রড নিচের দিকে ঝুলে পড়েছে। যেকোনো সময় তা ধসে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এ আশঙ্কায়  প্রায় দীর্ঘ দিন ধরে ভবনের বাইরে খোলা আকাশের নিচে ক্লাস নেয়া হয়। এ জরার্জীর্ণ ভবনটি ভেঙে সেখানে নতুন ভবন নির্মাণ করা বিশেষ জরুরি বলে স্কুলের সব শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক জানান। 
 
স্কুলের সহকারী শিক্ষক মোহাম্মাদ উল্লা  বলেন, প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে জরাজীর্ণ শ্রেণিতে শিশুদের পাঠদান করা হয়। ঝড়বৃষ্টি শুরু হলে দুর্ঘটনার আশঙ্কায় এ ভবনের জরাজীর্ণ কক্ষ থেকে বের হয়ে নিরাপদ স্থানে যেতে হয়। 
 
স্কুলের পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী মাইসা ইসলাম , রেহেনা খাতুন , চতুর্থ শ্রেণীর  মেহেদী হাসান , ইউনুস আলী বলে, ‘এ স্কুলের জরাজীর্ণ শ্রেণি কক্ষে বসে ক্লাস করার সময় প্রায়ই ছাদ থেকে পলেস্তরা খসে পড়ে। তা ছাড়া ছাদ ও প্রাচীরে ফাটল দেখা দেয়ায় আমরা ভয়ে থাকি। পলেস্তরা খসে পড়ে শিক্ষার্থী আহত হওয়া ছাড়াও বৃষ্টির সময় ছাদ দিয়ে পানি পড়ে বইখাতা নষ্ট হয়ে যায়।’
 
এ প্রসঙ্গে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো: জাকিরুল ইসলাম বলেন, ইতি পূর্বে হরিমন্দির সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতল তলা ভবন নির্মানের  বরাদ্দ হয়েছিলো । কিন্তু ভবনটি ঝুকিপূর্ন হওয়ায় তা করা সম্ভব হয়নি। তবে স্কুলটি তালিকা ভুক্ত রয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা আমরা অধিদপ্তরে পাঠাই। সেখান থেকে বিষয়টা তারা দেখে। 

এ সম্পর্কিত আরও