Mountain View

তাড়াশে কুমড়োর বড়ি তৈরি করে স্বাবলম্বী অনেক পরিবার

প্রকাশিতঃ নভেম্বর ১৮, ২০১৬ at ১২:৪৭ অপরাহ্ণ

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় কুমড়োর বড়ি তৈরি ও বিক্রয় করে এখন অনেক পরিবার স্বাবলম্বী।সরেজমিনে উপজেলার নওগাঁ গ্রামে গিয়ে দেখা যায় ৭/৮টি পরিবার কে কুমড়ো বড়ি তৈরি করতে। full_1204520187_1479447273

তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তাদের এ কুমড়ো বড়ি তৈরি করার আগে পারিবারিক অবস্থায় তেমন স্বচ্ছল ছিল না। সংসারে অভাব অনাটনে হাহাকার যেন লেগেই থাকতো। একবেলা পেট ভরে খেলে অন্য বেলায় খেতে পারবে কি তা নিয়ে শংকায় থাকতে হতো তাদের। কিন্তু বর্তমানে কুমড়ো বড়ি তৈরি করে তারা এখন স্বাবলম্বী।

এই কুমড়ো বড়ি তৈরি করতে হয়, ডাউল ভিজিয়ে গুরো করে সোয়াবিন তেল এর মাঝে ভেজে ছোট ছোট বড়ি করে পরে টিনের উপর শুকানো হয়। আগের দিনে ডাউল শিল পাটায় পরিবারের মেয়েরা সারা রাত ভর গুরো করে তা সারা দিন রোদ্রে শুকানোর পর কুমড়ো বড়ি তৈরি করতো। কিন্তু বর্তমানে সরকারের উন্নয়ন ভাবনায় দেশ ডিজিটালের সাথে সাথে কুমরো বড়ি তৈরি করার যন্ত্রও যেন ডিজিটাল হয়েছে। এখন আর রাতভর শিলপাটায় ডাউল গুরো করতে হয়না। ডাউল গুরো করার মেশিনের সাহায্যে ঘন্টার মধ্যই অনেক ডাউল গুরো করে বড়ি তৈরি করা যায় এমনটাই জানালেন নওগাঁ গ্রামের এক কুমরো বড়ি তৈরি করার কারিগর।

কুমড়ো বড়ি তৈরির কারিগর মুনছুর আলীর সাথে কথা বললে তিনি জানান,  কুমড়ো বড়ি তৈরি করতে প্রথমে তাদের প্রচুর পরিশ্রম করতে হতো। কিন্তু এখন ততটা পরিশ্রম করতে হয় না। কেননা এখন মেশিনের মাধ্যমে ডাল ফিনিস করা হয়, শুধু হাতের মাধ্যমে বড়ি তৈরি করতে হয়।

কুমড়ো বড়ি তৈরির আরেক কারিগর সিদ্দিকুর রহমান জানান, বড়ি তৈরিতে আমাদের পাশাপাশি পরিবারের নারীরা ও কাজ করে থাকে। আমি একদিনে আমার চাতালে ১২০ থেকে ১৩০ কেজি কুমড়ো বড়ি তৈরি করতে পারি। তারা হাট বাজারে কুমড়ো বড়ি খুচরা বিক্রয় করে ১০০ থেকে ১১০ টাকা কেজি এবং ঢাকা থেকে পাইকার এসে পাইকারী নেন  ৭০/৮০ কেজী দরে। বড়ি সারা বছর তৈরী করা গেলেও এটা শীতের সময়টাতে বেশী তৈরি হয়। কারণ এটি শীতের সময় রান্না করে খেতে বেশী সুস্বাদু লাগে।

কুমড়ো বড়ি তৈরি করে যেমন সমাজের ব্যাকারত দুর হচ্ছে। তেমনি বেশী লাভ থাকায় দিনে জন প্রিয় হয়ে উঠছে এই কুমড়ো বড়ি তৈরি।

এ সম্পর্কিত আরও

Mountain View