Mountain View

দেশের ৬৮টি হাজতি কয়েদিরা নিয়মিত মুরগির মাংস!

প্রকাশিতঃ নভেম্বর ১৮, ২০১৬ at ৮:০৪ অপরাহ্ণ

malyস্টাফ রিপোর্টার : বন্দিদের নিয়মিত মুরগির মাংস খাওয়ানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে কারা অধিদফতর। ফলে দেশের ৬৮টি কারাগারের হাজতি কয়েদিরা নিয়মিত মুরগির মাংস দিয়ে ভাত খাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

সম্প্রতি কারা অধিদফতরের কর্মকর্তারা নির্ধারিত বাজেটের সঙ্গে অতিরিক্ত ভাতা যোগ করে বন্দিদের মুরগির মাংস খাওয়ানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান কারা অধিদফতরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।

কারা সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ১৩টি কেন্দ্রীয় ও ৫৫টি জেলা কারাগারে প্রায় ৮০ হাজার বন্দিদের দুপুর ও রাতের খাবারে নিয়মিত মাছ এবং মাংস (গরু ও ছাগল) খাওয়ানো হয়। কিন্তু বাজেট সীমিত থাকায় বেশ কয়েক বছর ধরে বন্দিদের মুরগির মাংস খাওয়ানো হতো না। কোনো কোনো কারাগারের জেল সুপার বিকল্প ব্যবস্থায় (গরুর মাংসের দামে মুরগির মাংস) বন্দিদের মাঝে মাঝে মুরগির মাংস খাওয়াতেন।

মুরগি খাওয়াতে হলে নির্ধারিত বাজেটের অতিরিক্ত কত টাকা ভাতা দিতে হবে- তা নির্ধারণে কারা অধিদফতরের ডিআইজি বজলুর রশীদকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠিত হয়েছে। এ কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন- কারা অধিদফতরের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা কামাল হোসেন।

এরই মধ্যে কমিটির সদস্যরা বাজার পরিদর্শন করে মুরগির মাংস খাওয়ানোর জন্য ৫০ শতাংশ অতিরিক্ত ভাতা প্রয়োজন উল্লেখ করে একটি প্রতিবেদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করছেন।

কারাগারগুলোতে এতদিন নিয়মিত মুরগির মাংস না খাওয়ানোর নেপথ্যে কারণ জানতে চাইলে এআইজি (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, দেশের কারাগারগুলোতে বন্দিপ্রতি দৈনিক ৩৬ গ্রাম মাছ বা মাংস খাওয়ানোর জন্য বাজেট বরাদ্দ রয়েছে। ৩৬ গ্রাম বরাদ্দ থাকলেও মাছের ক্ষেত্রে মাথা, লেজ বা মাংস কিনলে হাড় ও নাড়িভুড়ি বাদ দিলে মাত্র ২৯ গ্রাম মাংস পাওয়া যায়।

তিনি আরো বলেন, সেক্ষেত্রে নির্ধারিত বাজেটের শতকরা ৩০ ভাগ অতিরিক্ত ভাতা প্রদান করা হয়। কিন্তু মুরগির মাংসের নাড়িভুড়ি, চামড়া, মাথা, পা ও পাখাসহ বিভিন্ন অংশ বাদ দিলে ২৯ গ্রামেরও কম মাংস পাওয়া যায়। রান্নার পর ২৯ গ্রামের কম মাংস খাওয়ার জন্য খুবই কম। এ কারণে বিগত কয়েক বছর মুরগির মাংস খাওয়ানো বন্ধ ছিল।

সম্প্রতি মুরগির মাংস খাওয়ানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত হওয়ার পর কমিটি বাজার পর্যালোচনা করে অতিরিক্ত ৫০ শতাংশ ভাতা প্রয়োজন হতে পারে বলে মনে করছেন আবদুল্লাহ আল মামুন।

এ সম্পর্কিত আরও