Mountain View

মুক্তিযোদ্ধাকে পিটিয়ে হত্যা: তিনদিনেও গ্রেফতার হয়নি আসামিরা

প্রকাশিতঃ নভেম্বর ১৮, ২০১৬ at ১১:৫৮ পূর্বাহ্ণ

mukti-salalmপিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ার মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস ছালাম খানকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় তিনদিনেও গ্রেফতার হয়নি কোনও আসামি। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভাণ্ডারিয়া ও রাজাপুরের মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষ। এদিকে,দ্রুত বিচার আইনে এ হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়েছেন নিহত মুক্তিযোদ্ধার ভাই আসাদুজ্জামান খান।

নিহত ছালাম খানের ভাই বলেন, ‘আমার ভাই হত্যা মামলাটি দ্রুত বিচার আইনে করার দাবি জানাই।’

রাজাপুরের সাতুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ছিদ্দিকুর বলেন, দেশের জন্য যুদ্ধ করেছেন আব্দুস ছালাম খান। আমি তাকে ব্যক্তিগতভাবে চিনি। তিনি একজন ভালো মানুষ ছিলেন। তাকে হামলা করে হত্যা করায় তীব্র নিন্দা জানাই। হামলাকারী ৬ নং সাতুরিয়া ইউপি সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাচ্চু ও শাহ আলম আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে জানান তিনি।

>মুক্তিযোদ্ধা সালাম হত্যা মামলার আসামি বাচ্চু হাওলাদারভাণ্ডারিয়া মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার মো. তৈয়বুর রহমান বলেন,স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি রাষ্ট্র ক্ষমতায়। তারপরেও এভাবে একজন মুক্তিযোদ্ধাকে পিটিয়ে হত্যা করা হলো তা কোনোভাবেই মানা যায় না। আমি হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।

ভাণ্ডারিয়া পৌরসভার পৌর সহায়তা কমিটির সদস্য গোলাম ছরোয়ার জমাদ্দার বলেন, ছালাম একজন শিক্ষক ছিলেন। অবসরে গিয়ে তিনি শিয়ালকাঠীতে তার বাবা আ. রহমান খানের নামে একটি কিন্ডারগার্টেন প্রতিষ্ঠা করেন। মানুষের বিপদে আপদে তিনি হাত বাড়িয়ে দিতেন। তার হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের আমি দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানাই।

তিনদিনেও কোনও আসামি গ্রেফতার না হওয়ায় রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুনির উল গিয়াসের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘হত্যার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’

প্রসঙ্গত, মুক্তিযোদ্ধা শিক্ষক আব্দুস ছালাম খানের বাবার নামে প্রতিষ্ঠিত আব্দুর রহমান খান কিন্ডারগার্টেনে শিক্ষকতা করতেন রাজাপুরের আমতলি গ্রামের মরিয়ম আক্তার মুক্তা। তিন মাসের বেতন বাকি থাকায় তার বকেয়া বেতন পরিশোধ করতে সোমবার (১৩ নভেম্বর) ওই মুক্তিযোদ্ধা ঝালকাঠি ও পিরোজপুরের সীমান্তবর্তী রাজাপুরের সাতুরিয়া এলাকার বকুলতলায় ওই শিক্ষিকার বাড়িতে যান। ফেরার পথে জমিজমা নিয়ে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে স্থানীয় সাতুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও ইউনিয়ন যুবলীগ সদস্য বাচ্চু হাওলাদার, ৬ নং ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি শাহ আলম, ৬ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে লোকজন ওই শিক্ষিকার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ তুলে মুক্তিযোদ্ধা ছালামকে পিটিয়ে আহত করে। পরে আবারও আমতলা বাজারে নিয়ে মারধর করে। আহত অবস্থায় মঙ্গলবার সকালে নিজ বাড়িতে মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যু হয়।এ ঘটনায় নিহতের ছেলে শামসুল আলম মুরাদ বাদী হয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও সাতুরিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য বাচ্চু হাওলাদার ও ৬ নং ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি শাহ আলমসহ নামধারী ৮ জনসহ আরও ২/৩ জনকে আসামি করে মঙ্গলবার রাতে রাজাপুর থানায় হত্যা মামলা করেন।

এ সম্পর্কিত আরও