Mountain View

সিএনএন নিবন্ধে সূ চির নীরবতার কড়া সমালোচনা

প্রকাশিতঃ নভেম্বর ১৮, ২০১৬ at ৩:৩২ অপরাহ্ণ

malyআন্তর্জাতিক ডেস্কঃ  রাখাইনে জ্বলছে রোহিঙ্গাদের ঘরবাড়ি। পুড়ছে মানবতা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে প্রাণ হারিয়েছে শতাধিক মুসলিম। কিন্তু এতো কিছুর পরও নির্বিকার সূ চি, যাকে বিশ্বশান্তির জন্য নোবেল পুরস্কার দেয়া হয়েছে। সূ চির এমন নীরবতায় কড়া সমালোচনা করেছে বিশ্বখ্যাত গণমাধ্যম সিএনএন। 
 
মিয়ানমার বরাবর দাবি করে আসছে, রোহিঙ্গাদের ঘরবাড়িতে আগুন দিচ্ছে স্থানীয় সন্ত্রাসীরা। এসব ঠেকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রশাসনের কাছে থেকে কালেভদ্রে এমন আশ্বাস মিললেও সূ চি রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে এখনো চুপ। মিয়ানমারের এই সাম্প্রদায়িক নির্যাতন নিয়ে বাংলাদেশও চিন্তায় আছে। সীমান্ত পেরিয়ে অনেক রোহিঙ্গা উপকূলীয় অঞ্চলে অনুপ্রেবেশ করছে। সর্বশেষ অক্টোবরের দিকে রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকায় হামলার মাত্রা বাড়তে থাকে। যা এখনো চলমান। 
 
সিএনএনের নিবন্ধে বলা হয়েছে, আরাকান, বর্তমানে যাকে রাখাইন প্রদেশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বরাবরই বৌদ্ধ ও মুসলিম রোহিঙ্গাদের শান্তিপূর্ণ আবাসভূমি হিসেবে পরিচিত ছিল এই অঞ্চলটি। শত শত বছর ধরে রোহিঙ্গারা এখানে বাস করছে। তাদের পূর্বপুরুষরা আরব, পার্সি ও মুরিস বণিক, যারা দশম থেকে ষোড়শ শতকের মধ্যে আরাকানে এসেছিল। তাদের অনেকে স্থানীয় নারীদের বিয়ে করে দেশটিতে থেকে গিয়েছিল। 
 
কিন্তু ১৯৬২ সালে জেনারেল নে উইন ক্ষমতা দখল করার পর থেকে রোহিঙ্গাদের ওপর রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের মাত্রা বাড়তে থাকে। দেশজুড়ে চলতে থাকে সামরিক শাসকদের স্বৈরশাসন। গোদের ওপর বিষফোঁড়ার মতো ১৯৮২ সালে গৃহীত নাগরিকত্ব আইনে রোহিঙ্গাদের দেশের নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত করা হয় এবং প্রাতিষ্ঠানিকভাবে তাদের ওপর নির্যাতন করাটা নিয়মিত ব্যাপারেও পরিণত হয়। বিশ্বনেতারা ধারণা করছিলেন, সূ চির দল ক্ষমতায় গেলে এই সমস্যার সমাধান হবে। 
 
কিন্তু তিনি সবাইকে অবাক করে ‘নিশ্চুপ রাজার রূপকথা’ শুনিয়ে যাচ্ছেন। তবে তার এই রূপকথার ইতি টানতে উঠেপড়ে লেগেছে ইন্দোনেশিয়ার একটি সামাজিক সংগঠন। তারা সূ চির নোবেল বাতিলের দাবিতে গণপিটিশনের ডাক দিয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও