ঢাকা : ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, শুক্রবার, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

কাদের স্বার্থে ৫২ দিন আগে বিসিবির দল ঘোষণা?

bangladesh-cricket-team

জাহিদুল ইসলামজাহিদুল ইসলাম, বিডি টোয়েন্টিফোর টাইমস : অনেকটা হুট করেই গত ৪ নভেম্বর নিউজিল্যান্ড সফরের দল ঘোষণা করে বিসিবি। এরপর থেকেই বিতর্কিত সে দল নিয়ে চলছে আলোচনা আর সমালোচনা । বাংলাদেশ ক্রিকেট নিয়ে ভাবেন সেই সমর্থক গোষ্ঠীদের মতামত ও প্রতিক্রিয়ার ফলোঅাপে বিডি টেয়েন্টিফোর টাইমসের এই বিশেষ প্রতিবেদন-

বৃহস্পতিবার ঘড়ির কাটায় সময় তখন ১১ টা বেজে ৫৬ মিনিট। টিএসসিতে এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থীদের সাথে কথা হয়। তাদের কাছে জানতে হয় কেন ৫২ দিন আগে দল ঘোষণা করল বিসিবি। বাংলাদেশ দলে এখন পারফরমারের ছড়াছড়ি। প্রতিটি পজিশনেই রয়েছে একাধিক বিকল্প। ওপেনিং ব্যাটসম্যানদের কথাই ধরুন। তামিমের পার্টনা কে হবেন?  সেখনেও আপনি একদমে ৫ টি  অপশনের কথা বলতে পারেন। সৌম্য-কায়েস-বিজয়-নাফিস-মেহেদী মারুফ। যাদের সবাই যথেস্টই সামর্থ্যবান। দলে যখন এমন একটি পরিস্থিতি সেখানে নিউজিল্যান্ডের মত কঠিন এক সফরের ৫২ দিন আগে কেন দল ঘোষণা? বিসিবির কাছে কি বিপেএলে যারা পারফর্ম করবেন তাদের কোন মূল্য নেই? তবে কি অফ ফর্মে থাকা সৌম্য-শুভাগত নবাগত এবাদত-শুভাশিসদের দলে রাখতেই এই অপকৌশল?

অথচ দিপাক্ষিক সিরিজে এত সময় আগে দল ঘোষণার কোন দরকার পরে না। আগেভাগে দল ঘোষণা করতে বিধিনিষেধ থাকে কেবল বিশ্বকাপের মত বড় আসরে।  চলতি বছরে ভারতে অনুষ্ঠেও আইসিসি ওয়ার্ল্ড টি টোয়েন্টিতেও কিন্ত বাংলাদেশ দল ঘোষণা করা হয়েছিলো ৩৫ দিন আগে। সেখানে একটি দ্বিপাক্ষিক সিরিজের ৫২ দিন আগে কিভাবে দল ঘোষণা করা হলো? বিসিবি হয়ত ঢাল হিসেবে দেখাতে চাইবে আমরা তো কেবল ২২ সদস্যের প্রাথমিক দল দিয়েছি! তাহলে কি বিসিবর কাছে বিপিএলের কোন ভ্যালু নেই?  যারা ফর্মহীন তাদেরকে নিরবেই আরও সুযোগ দিতেই কি এই কৌশল?

তাহলে  কি বিপিএলে পারফর্ম করা ক্রিকেটারদের  বিববেচনায় রাখা হচ্ছে না? সেটা আগে থেকেই চূড়ান্ত? তানাহলে দল ঘোষনাটা বিপিএলের পর কিংবা শেষের কিছু দিন আগে কি করা যেত না?

নির্বাচকরা কি ভাবছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা নির্বোধ-মূর্খ? তাহলে আমি বলব বিসিবি ভুল করেছে। তাদের প্রতিটি পদক্ষেপই ক্রিকেটপ্রেমীরা আতশী কাচের নিয়ে নিয়ে নীরীক্ষা করেন। কোন সিদ্ধান্তটি সঠিক হলো আর কোন সিদ্ধান্তটি সঠিক নয় এসব ধরতে বড় মাপের ক্রিকেট বোদ্ধা হতে হয় না। ভেতরে একটু সততা আর শুদ্ধতা থাকলেই হয়। কথাগুলো বলছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী  আবু হুজাইফা জাকারিয়া। উপস্থিত বাকিরাও যথেষ্টই ধুয়ে দিলেন বিসিবিকে। কেউ কেউ তো স্পষ্টই বলে দিলেন দলে  নতুন কাউকে নেবে না অার অফ ফর্মে থাকা সৌম্য ও শুভাগতকে রাখতেই তাদের এই অপকৌশল। না হয়ে বিপিএলে পারফরম্যান্স ও ফর্মের কথা তো বিবেচনা করতেই পারত তারা।

সফলতার ভেলায় ভাসতে ভাসতে তারা হয়ত নিজেদেরকে অগাধ পন্ডিতই মনে করছেন না হলে এমনটা কেন হবে? প্রশ্নটি করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী খাইরুল ইসলাম। তিনি আক্ষেপ করে বলেন-বিসিবির কাছে কেবল তাদের পছন্দের ক্রিকেটারদেরই ভ্যালু আছে। গত বিপিএলের কথাই ধরুন। রানখড়ার সেবারের আসরে  দেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে দারুন ব্যাট করেছিলেন। দারুন বলতে দেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে সবচেয়ে ভালো ব্যাটিং করছিলেন জহুরুল ইসলাম অমি। অথচ বিপিএল শেষে বিশ্বকাপগামী ৩০ সদস্যের দলেও রাখা হলো না জহুরুল ইসলাম অমিকে। কারণ তিনি বিসিবির পছন্দের খেলোয়ার তালিকাতেই নেই।

কোন এক অজানা কারণে দলে শাহরিয়ার নাফিসের দড়জা বন্ধ! সেরা ফর্মে আছেন গত ২ বছর ধরেই। এরপরও নির্বাচকদের মনে দাগ কাটতে পারেননি শাহরিয়ার নাফিস। শাহরিয়ারকে দলে নেয়ার ব্যাপারে সাংবাদিকরা নির্বাচকদের ভাবনা জানতে চাইলে যে উত্তর দিলেন তাতে কেবল শাহরিয়ার নন মন ভেঙে গেছে কোটি টাইগার সমর্থকদেরই। এমন অাকাশছোঁয়া ফর্মে থাকা একজন ক্রিকেটার সম্পর্কে নির্বাচকদের জবাব- দলে কোন জায়গাতে খেলবে সে?  জায়গা তো ফাঁকা নেই!

নির্বাচকদের আরও অভিযোগ তিনি নাকি আনফিট ক্রিকেটার। অথচ গেল ২ বছরে ২৭ কেজি ওজন কমিয়ে তিনি ফিরে গেছেন যেন  ক্যারিয়ারের সেই শুরুর দিনগুলোয়।  ব্যাটে রান আর চনমনে ভাবই বলে দিচ্ছে সব।

অথচ গত ৬ মাস ধরে নিজের ছায়া হয়ে আছেন সৌম্য সরকার। সেই সৌম্য সরকার ঠিকই নিউজিল্যান্ড সফরের দলে ঠাইঁ পেয়ে যান! বিস্ময় নাকি মহাবিস্ময়? ক্যারিয়ারের এমন ভালো অবস্থানে থেকেও যদি আর দলে ঠাই না পান তাহলে কি নির্বাচকরা চেয়ে আছেন শাহরিয়ার নাফিসের ফর্ম পড়ে যাওয়ার অপেক্ষাতে ? যেখানে তাকে দলে না নেয়ার যুুক্তি দিতে পারবেন? দল নির্বাচনে যুগ যুগ ধরেই কিছু না কিছু বিতর্ক রেখেই যান আমাদের নির্বাচকরা। যাদের পছন্দের দল সাজানোর বলি দিতে হয় শাহরিয়ার নাফিস, নাসির হোসেন ও রুবেল হোসেনদের মত পরীক্ষীত ক্রিকেটারদের। অার তাতে দুদিনের জন্য হলেও কপাল  খুলে যায় লিটন দাস, শুভাগত কিংবা কামরুল ইসলাম রাব্বিদের মত অপেক্ষাকৃত কম যোগ্য ক্রিকেটারদের।

এভাবে তো চলতে পারে না। দল নির্বাচনের চিরন্তন যে ক্রাইটেরিয়া পারফর্ম্যান্স সেটার তো মূল্যায়ন হতে হবে যথার্থভাবে।  না হলে এই সুযোগে অফফর্মে থাকা সৌম্য-শুভাগতরা দলে রয়ে যাবেন আর অন্য দিকে নাফিস-নাসিররা পারফরম্যান্স দেখিয়েও দলে সুযোগ পাবেন না। নিরবে নিভৃতিতেই এক চাপা কান্না কেদেঁ যাবেন। সে কান্নাঁয় মিশে অাছে অবহেলা আর উপেক্ষার এক বিষাদময় গল্প। খালি চোঁখে সেসব দেখা যায় না বলেই নির্বাচকরা প্রতিবারই পার পেয়ে যায়। কিনতু এভাবে আর কতকাল চলবে? ক্রিকেটার সিলেকশনে সিলেক্টরদেরকেও জবাবদিহীতার আওতায় আনা এখন সময়ের দাবী। প্রতিটি দল নিয়েই যদি তারা সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেন এবং সেগুলোর সাথে দলে নেয়া ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স যদি তাদের হয়ে কথা বলে কেবল তখনই ক্রিকেট দল নির্বাচন হবে বিতর্কমুক্ত। তেমনটাই প্রত্যাশা ষোল কোটি টাইগার সমর্থকের।

নিউজিল্যান্ড সফরের আগে অস্ট্রেলিয়ায় নির্ধারিত ১০ দিনের ক্যাম্প হবে টাইগারদের। সেখান থেকে ১৫ সদস্যের দল যাবে অস্ট্রেলিয়ায়।আসছে ৯ বা ১০ ডিসেম্বর অস্ট্রেলিয়া যাত্রা করবেন মাশরাফি বাহিনী।

স্ট্যান্ডবাই হিসেবে দলে রাখা হয়েছে রুবেল ও নাসির হোসেনসহ ৯ জন।

নিউজিল্যান্ডে ১ মাসের সফরে টাইগার বাহিনী খেলবে ৩টি করে ওয়ানডে ও টি-২০ ম্যাচ এবং ২টি টেস্ট ম্যাচ। আসছে ২৬ ডিসেম্বর নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে একদিনের ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে সিরিজ। পরের ২টি ওয়ানডে হবে ২৯ ও ৩১ ডিসেম্বর নেলসনে।

আসছে বছরের ৩ জানুয়ারি নেপিয়ারে প্রথম টি-২০ ম্যাচে মাঠে নামবে বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড। ৬ ও ৮ জানুয়ারি মাউনগানুইতে হবে বাকি ২টি টি-২০। এরপর ১২ জানুয়ারি ওয়েলিংটনে শুরু হবে সিরিজের প্রথম টেস্ট। ২০ থেকে ২৪ জানুয়ারি দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট ক্রাইস্টচার্চে।

বাংলাদেশের প্রাথমিক দল : তামিম ইকবাল, ইমরুল কায়েস, মুমিনুল হক, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, সাব্বির রহমান, সৌম্য সরকার, মোসাদ্দেক হোসেন, নুরুল হাসান সোহান, মেহেদী হাসান মিরাজ, শুভাগত হোম চৌধুরী, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাইজুল ইসলাম, মাশরাফি বিন মুর্তজা, মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, শফিউল ইসলাম, শুভাশিষ রায়, মোহাম্মদ শহীদ, এবাদত হোসেন ও তানভীর হায়দার।

স্ট্যান্ডবাই : শাহরিয়ার নাফিস, আব্দুল মজিদ, লিটন কুমার দাস, মোশাররফ হোসেন রুবেল, কামরুল ইসলাম রাব্বি, আল আমিন হোসেন, আলাউদ্দিন বাবু, নাসির হোসেন ও রুবেল হোসেন।

লেখক : সাবেক ক্রিকেটার – ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ক্রিকেট অ্যানালিস্ট

এ সম্পর্কিত আরও

Check Also

মৃত্যুর পর জয়ললিতার মুখে চারটি ছিদ্র!

ভারতের রাজাজি হলে দীর্ঘক্ষণ শায়িত তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতার বাম গালে চারটি বিন্দু দেখা গিয়েছিল। সেগুলো …

Mountain View

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *