ঢাকা : ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, বৃহস্পতিবার, ১১:৫৯ পূর্বাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

তাহলে এই হল সেই নাটের গুরু? যার কারণে ট্রাম্পের জয়! জানেন কে তিনি?

5638498daf9cc32d0e9df16d77287e24x600x400x19আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ  নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরকার গঠনের উদ্যোগে যে স্থবিরতা নেমে এসেছে, তার নেপথ্যে ক্রীড়ানকের ভূমিকা পালন করেছেন তার মেয়ে-জামাই জ্যারেড কুশনার। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন, পলিটিকো এবং নিউ ইয়র্ক টাইমসসহ বেশকিছু সংবাদমাধ্যম খবরটি নিশ্চিত করেছে। তারা জানিয়েছে, জামাতার ‘রাজনৈতিক প্রজ্ঞা’র প্রতি ট্রাম্পের অগাধ আস্থা। নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্টের সেই আস্থার সুযোগ নিয়েই ব্যক্তিগত প্রতিশোধস্পৃহা থেকে তিনি অন্তবর্তী দলটির নেতৃত্ব থাকা নিউ জার্সির গভর্নর ক্রিস ক্রিস্টিসহ তার অনুসারীদের ক্ষমতা খর্ব করেছেন। আর এতেই সরকার পরিবর্তন প্রক্রিয়ায় স্থবিরতা নেমে এসেছে।
 
ট্রাম্প আনুষ্ঠানিক শপথ নেবেন আসছে বছরের ২০ জানুয়ারি। মার্কিন রীতি মেনে, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিজয়ের দিন থেকে শুরু করে ট্রাম্পের শপথের আগ পর্যন্ত কাজ করছে ক্ষমতা হস্তান্তরে গঠিত এক অন্তবর্তী দল। প্রেসিডেন্সিয়াল ট্রানজিশন অ্যাক্ট নামের আইনের অধীনে এই দল অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে সরকার গঠন ও অন্যান্য পদে নিয়োগ দেওয়াসহ পরামর্শ দিয়ে থাকে।
 
ট্রাম্পের ১৬ সদস্যের অন্তবর্তী দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন নিউ জার্সির গভর্নর ক্রিস ক্রিস্টি। নির্বাচনী প্রচারে যে কয়জন জ্যেষ্ঠ রাজনীতিককে ট্রাম্প নিজের পাশে পেয়েছিলেন, ক্রিস্টি তাঁদের অন্যতম। কিন্তু নির্বাচিত হওয়ার অব্যবহিত পরেই ক্রিস্টিকে সরিয়ে দিয়ে তাঁর স্থানে নবনির্বাচিত ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। সান্ত্বনা হিসেবে ক্রিস্টিকে এই কমিটির ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ক্রিস্টির পদাবনতির পর মঙ্গলবার সকালে তাঁর ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত সাবেক কংগ্রেসম্যান মাইক রজার্সও এই কমিটি থেকে সরে গেছেন। পররাষ্ট্র নীতির ক্ষেত্রে ট্রাম্পের অন্যতম উপদেষ্টা বলে বিবেচিত হতেন তিনি। বলা হচ্ছে, ট্রানজিশন টিমের সাবেক প্রধান ক্রিস ক্রিস্টির সঙ্গে সম্পর্ক থাকার কারণেই নাকি পদত্যাগে বাধ্য হয়েছেন তিনি। নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদন বলা হয়, এছাড়া এই টিমের আরেক সদস্য ম্যাথিউ ফ্রিডম্যানকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। তার সঙ্গেও ক্রিস্টির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে বলে মনে করা হচ্ছে।
 
মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস জানাচ্ছে, যে ক্রিস্টির নেতৃত্বে ওই অন্তবর্তী দল কাজ করছিলো তিনি চলে যাওয়া্য় এক ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়েছে। মন্থর হয়েছে কাজের গতি। সবমিলে স্থবিরতা নেমে এসেছে রিপাবলিকান শিবিরে। সিএনএন, নিউ ইয়র্ক টাইমস এবং পলিটিকোর খবর বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এই স্থবিরতার নেপথ্যে রয়েছেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার।
 
২০০৫ সালে নিউ জার্সির অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ক্রিস্টি জ্যারেড কুশনারের ব্যবসায়ী পিতা চার্লসকে ‘লোভ, আর্থিক অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের’ অভিযোগে দুই বছরের জন্য জেলে পাঠাতে সক্ষম হয়েছিলেন। সে কারণে ক্রিস্টিকে এই দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এদিকে ট্রাম্প টাওয়ারের অভ্যন্তরীণ দুই সূত্রকে উদ্ধৃত করে পলিটিকোর প্রতিবেদনে বলা হয়, ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরুতে নাকি বেননকেই চিফ অব স্টাফ করতে চাইছিলেন। তবে কুশনারের হস্তক্ষেপে নাকি মতামত পাল্টেছেন তিনি। শেষ পর্যন্ত জামাতার কথাই শুনেছেন ট্রাম্প।কুশনারের কথা মেনেই রিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটি –আরএনসির চেয়ারম্যান রেইন্স প্রিয়েবাসকে চিপ অব স্টাফ হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেন তিনি।
 
কুশনারের বয়স ৩৫। শ্বশুরের মতো তারও আবাসন ব্যবসা রয়েছে। প্রচারণার দিনগুলোতেই ক্রমশ ট্রাম্প শিবিরের একজন প্রভাবশালী ব‌্যক্তি হিসেবে সামনে আসতে থাকেন তিনি। রিপাবলিকান পার্টির মনোনয়ন পাওয়া থেকে শুরু করে ট্রাম্পকে নির্বাচনী বৈতরণী পার করা পর্যন্ত বহুমুখী দায়িত্ব তিনি পালন করেছেন।
 
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স লিখেছে, ২০০৯ সালে ইভাঙ্কাকে বিয়ে করার পর থেকেই ব্যবসা ও রাজনীতিতে শ্বশুরকে ছায়ার মত সঙ্গ দেন কুশনার। তার ‘রাজনৈতিক প্রজ্ঞা’র ওপর ট্রাম্পের অগাধ আস্থা। গত মে মাসে ইন্ডিয়ানা প্রাইমারির সময় কুশনারকে পাশে রেখে পরিচয় করে দেন ট্রাম্প। বলেন, ‘সত্যি কথা বলতে কি, জ‌্যারেড আবাসন ব্যবসায় বেশ সফল। যদিও আমার মনে হয়, আবাসন ব্যবসার চেয়ে রাজনীতি সে অনেক বেশি পছন্দ করে।… সে রাজনীতিতেও বেশ ভালো।’ উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের বিধান অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট তার নিকটাত্মীয়দের প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিতে পারেন না। কুশনারকে কোনো পদে দেখা না গেলেও ঘরে-বাইরে ট্রাম্পজামাতার প্রভাব কমবে না।
 
এদিকে সিএনএন তাদের এক প্রতিবেদনে বলছে, স্ত্রী ইভানকা ট্রাম্প যতোটা পরিচিত, ততোটা পরিচিত নন তার স্বামী জ্যারেড কুশনার। তবে লোকচক্ষুর অন্তরালে বিশাল ক্ষমতার অধিকারী তিনি। সিএনএন-এর খবরে বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউসে ওবামা-ট্রাম্পের সাক্ষাতের প্রসঙ্গ। ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর ওইদিন পুরো পৃথিবী অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে উত্তরসূরী ট্রাম্পের প্রথম সাক্ষাৎ নিয়ে। তবে সেদিন হোয়াইট হাউসেন ক্যামেরার ফ্রেমে বিশেষভাবে ধরা পড়েন ধীরস্থির এক তরুণ। সাউথ লনে প্রেসিডেন্ট ওবামার চিফ অব স্টাফের সঙ্গে কথা বলছিলেন তিনি। ইনিই সেই জ‌্যারেড কুশনার।
 
সিএনএন লিখেছে, ট্রাম্পের শপথের দিন এই কুশনারকে কোন ভূমিকায় দেখা যাবে তা পরিস্কার নয়। কেননা বিধিমোতাবেক ট্রাম্পের আত্মীয় হওয়ার কারণে তিনি প্রশাসনিক কোনও পদ পাবেন না। তা সত্ত্বেও নির্বাচনের দুদিন পর গত ১০ নভেম্বর ওই ছবি ব্যাপক আলোচনার আলোচনার জন্ম দেয়।

এ সম্পর্কিত আরও

Check Also

রোহিঙ্গা নির্যাতন তদন্তে গিয়ে বাঁধার মুখে কফি আনান, গুরুতর অভিযোগ

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের তদন্ত কমিশনকে দেশটির সরকার পর্যাপ্ত সহায়তা দিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন জাতিসংঘের …

Mountain View

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *