ঢাকা : ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬, মঙ্গলবার, ২:৪১ পূর্বাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

নাফিস ও নাফীসের ফের জাতীয় দলে খেলার বিষয়ে যা বললেন হাবিবুল বাশার

nafees

স্পোর্টস ডেস্ক: নাফিস ও নাফীসের শুরুর গল্পটা বেশ সাফল্যের। দুজনেই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান। ডানহাতি ব্যাটসম্যান নাফিস ইকবালের ব্যাটে ছিল প্রতাপশালী ইংল্যান্ডের বোলিংকে সাধারণ মানে নামিয়ে আনার ঔদ্ধত্য, আর শাহরিয়ার নাফীসের ব্যাটে তো ফতুল্লায় অজেয় অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে দেওয়ার স্বপ্ন দেখেছিল বাংলাদেশ। প্রত্যাশার প্রতিশ্রুতি রাখতে পারেননি দুজনের কেউই। নাফীস তো তবু বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের এই আসরে সাফল্যের ঝলক দেখিয়ে মনে করিয়ে দিচ্ছেন নিজের সেরা সময়কে। কিন্তু নাফিস? বিপিএলে থাকলেও মাঠের খেলায় যে তিনি নেই! খুলনা টাইটানসের ম্যানেজার হয়ে এখন দলের খেলার বাইরের বিষয়গুলো সামলাতেই ব্যস্ত।

বয়সের পার্থক্য খুব বেশি দিনের নয়। শাহরিয়ার নাফীস জন্মেছেন ১৯৮৫ সালের মে দিবসে, আর নাফিস ইকবালের জন্ম অক্টোবরের শেষ দিনে। তবে ক্রিকেটার হিসেবে নাফিস ‘সিনিয়র’। চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী খান পরিবারের ছেলের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখা ২০০৩ সালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী শাহরিয়ার নাফীসের অভিষেক বছর দুয়েক পর, ২০০৫ সালে। সমসাময়িক এবং নামের মিল থাকলেও এই দুজন একসঙ্গে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন কমই, মাত্র তিন টেস্টে তাঁরা ছিলেন সতীর্থ।

যদিও দুজনের পরিচয়টা আরো আগের, ২০০৪ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ক্যাম্প থেকেই। নিজের শহরে খুলনা টাইটানসের অনুশীলন দেখতে দেখতেই নাফিস ফিরে গেলেন সেই দিনগুলোতে, ‘অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ক্যাম্পে প্রথম দেখি শাহরিয়ারকে। রিচার্ড ম্যাকিন্স তখন কোচ। কঠিন পরিশ্রম


করাতেন ক্যাম্পে। শীতের বিকেলেও আইসবাথ নিতে বাধ্য করতেন। সেসময়ই শাহরিয়ারকে দেখি। আমরা তো দুপুরের খাবারের পর বিরতিতে ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়তাম, সে সকালের এত খাটুনির পরও দুপুরে খেয়ে নেটে ব্যাট করতে যেত। একা একা অনুশীলন করত।’ তবে সেই অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপটা খেলা হয়নি শাহরিয়ার নাফীসের। এটাই বোধহয় তাকে আরো জেদি করে তুলেছিল, এমনটাই মনে করেন নাফিস ইকবাল।

টি-টোয়েন্টি ভালো লাগে না বলে বিপিএলের নিলামে নিজের নামই দেননি নাফিস ইকবাল। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ, চট্টগ্রাম লিগ, জাতীয় ক্রিকেট লিগে খেলছেন। তবে পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে খেলা চালিয়ে গেলেও নিজে ভালো করেই বুঝেছেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার দরজা তাঁর জন্য বন্ধ হয়ে গেছে অনেক আগেই। ব্যস্ততা বাড়িয়েছেন মাঠের বাইরেও। পারিবারিক দায়িত্ব বেড়েছে, নিজের রেস্তোরাঁ ‘দম ফুঁক’ এর দেখভাল তো আছেই। খুলনা টাইটানসের ম্যানেজার হওয়ার মাধ্যমে হয়তো জানান দিলেন ভবিষ্যতে ক্রিকেট প্রশাসনে জড়িত হওয়ার ইচ্ছাও। কিন্তু শাহরিয়ার নাফীস এখনো আঁকড়ে আছেন মাঠের খেলাকেই। একটা সময়ে বাংলাদেশ দলের সহ-অধিনায়ক নাফীস এখনো হাল ছেড়ে দিতে রাজি নন। ইংল্যান্ডের বাংলাদেশ সফরের প্রস্তুতিতে হাই পারফরম্যান্স স্কোয়াডের সদস্য ছিলেন, চট্টগ্রামে বিসিবি একাদশের হয়ে ইংল্যান্ড একাদশের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচও খেলেছেন। আর এবারের বিপিএলে তো প্রথম চার ইনিংসের তিনটিতেই হাফসেঞ্চুরি!

নিজের সীমাবদ্ধতার কথা মেনে নিয়ে শাহরিয়ার নাফীসকেই কৃতিত্বটা দিলেন নাফিস ইকবাল, ‘ও নিজের খেলার ধরনটা বদলে নিয়েই বিপিএলে সাফল্য পাচ্ছে। প্রচণ্ড পরিশ্রমী। প্রতিভার সঙ্গে সঙ্গে পরিশ্রমটাও দরকার হয়। কারণ প্রতিভা আর পরিশ্রমের দৌড়ে শেষ পর্যন্ত কে জেতে সেটা তো দেখতেই পাচ্ছেন।’ পরিশ্রমটা অবশ্য এখন করছেন নাফিস, খুলনা টাইটানসের ম্যানেজার হিসেবে। নিজেই বললেন, ‘অনেক দায়িত্ব আমার ওপর। একটার সঙ্গে অন্যটা জড়িয়ে। সারা দিন কাটে ব্যস্ততায়।’ হাসতে হাসতেই বলছিলেন, এই দায়িত্বের ব্যস্ততার কারণে দূরত্ব তৈরি হয়েছে স্ত্রী ও সন্তানের সঙ্গেও।

জাতীয় দলে অভিভাবকের মতো যাঁকে পেয়েছেন মাথার ওপর, সেই সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার খুলনা টাইটানসের উপদেষ্টা। জাতীয় তাদের ফের খেলার সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। তাঁর কাছেই সাবেক দুই সতীর্থ ও অনুজের ব্যাপারে জানতে চেয়ে উত্তর মিলল, ‘এটা আসলে প্রত্যেকের নিজস্ব ব্যাপার। নাফিস এখনো অবসর নেয়নি, শাহরিয়ারও খেলছে এবং বিপিএলে ভালোই করছে।’ একই সঙ্গে এটাও কিন্তু বলেছেন বিপিএলে আনকোরা মেহেদী মারুফ ভালো করায় যেমন ভালো লাগছে, তেমনি অভিজ্ঞ শাহরিয়ার নাফীসের ভালো করাতেও ভবিষ্যতে টি-টোয়েন্টির দল নির্বাচনের জন্য তাঁদের হাতে অনেক খেলোয়াড়ের নাম উঠে আসছে।

প্রতিভা আর পরিশ্রমের সম্পর্কের রসায়নটা নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে শিখেছেন নাফিস ইকবাল। তাই তো বোধহয় এখন যেকোনো দায়িত্ব পেলেই নিজের কাজটা করার জন্য সকাল থেকে রাত অবধি খাটেন, খুঁত রাখতে চান না এতটুকুও। আক্ষেপটা এখানেই, এই উপলব্ধিটা তাঁর এক দশক আগে হলে হয়তো ওয়াহ ভাইদের মতো ইকবাল ভাইদের একটা দারুণ জুটি পেত বাংলাদেশ।

এ সম্পর্কিত আরও

Check Also

sabbir

ভিডিও বার্তার জবাবে হুমকি পেলেন সাব্বির!

স্পোর্টস ডেস্ক- সাব্বির রহমানকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) বড় অংকের জরিমানা করেছে কদিন আগে। কিন্তু …

Mountain View

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *