ঢাকা : ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬, শনিবার, ৮:৫২ অপরাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানবান্ধব সাংসদ পরিবার!

99347478fb21f3c3c1eb9337dd51c861-ranjit-kumar-roy-mp

যশোর-৪ আসনের (অভয়নগর, বাঘারপাড়া ও সদরের একাংশ) সাংসদ রণজিৎ কুমার রায় ও তাঁর পরিবারের সবাই বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি। এর মধ্যে সাংসদ বিধি লঙ্ঘন করে পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতির দায়িত্বে আছেন। তাঁর স্ত্রী চারটি, বড় ছেলে দুটি ও ছোট ছেলে একটির সভাপতি।
রণজিৎ কুমারের স্ত্রী নিয়তি রানী রায় গৃহিণী। বড় ছেলে রাজীব রায়ের ঢাকায় বিজ্ঞাপনী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ছোট ছেলে সজীব রায় বেসরকারি মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করে ইন্টার্নশিপ (শিক্ষানবিশ) করছেন। রণজিৎ কুমার রায় এর আগে একই আসনের সাংসদ থাকাকালে নিজ নির্বাচনী এলাকার ১৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতি ছিলেন।
২০০৯ সালের নতুন প্রবিধান অনুযায়ী সাংসদেরা নিজ এলাকার সর্বোচ্চ চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতি হতে পারেন। অবশ্য সম্প্রতি উচ্চ আদালতের রায়ে পদাধিকারবলে সাংসদদের উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিচালনা পর্ষদে সভাপতি মনোনীত হওয়ার সুযোগ বন্ধ হয়ে যায়। আর প্রবিধান অনুসারে অন্য যে কেউ চাইলে নির্বাচনের মাধ্যমে সর্বোচ্চ দুটির সভাপতি হতে পারেন।

শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাংসদ রণজিৎ কুমার বর্তমানে বাঘারপাড়ার শহীদ সিরাজুদ্দীন হোসেন ডিগ্রি কলেজ, বাঘারপাড়া মহিলা ডিগ্রি কলেজ, খাজুরা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা, সদর উপজেলার সিঙ্গিয়া আদর্শ ডিগ্রি কলেজ ও অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়া কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি।

এ ছাড়া আদালতের রায়ে যশোর ছাতিয়ানতলা গার্লস স্কুল অ্যান্ড ইউনাইটেড কলেজ, মহাকাল পাইলট উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজ এবং বারভাগ আলিম মাদ্রাসায় রণজিতের সভাপতির পদ বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে ছাতিয়ানতলা গার্লস স্কুল অ্যান্ড ইউনাইটেড কলেজের সভাপতি করা হয়েছে তাঁর ছোট ছেলে সজীব রায়কে। এ বিষয়ে সজীব রায়ের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

মুঠোফোনে জানতে চাইলে রণজিৎ কুমার রায় সম্প্রতি প্রথম আলোকে বলেন, তিনি বর্তমানে বাঘারপাড়ার শহীদ সিরাজুদ্দীন হোসেন ডিগ্রি কলেজ ও বাঘারপাড়া মহিলা ডিগ্রি কলেজের সভাপতি পদে আছেন। অন্য তিনটির দায়িত্ব বহু আগেই ছেড়ে দিয়েছেন।

তবে ওই তিন প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন শিক্ষক এই প্রতিবেদককে নিশ্চিত করেছেন, সাংসদ এখনো সভাপতি পদে আছেন। সিঙ্গিয়া আদর্শ ডিগ্রি কলেজের একাডেমিক ভবন নির্মাণে বরাদ্দের জন্য করা আবেদনে সভাপতি হিসেবে গত ২৫ অক্টোবর রণজিৎ কুমার সই করেছেন। আর নওয়াপাড়া কলেজের সভাপতি হিসেবে ৯ নভেম্বরও তিনি বেতন-ভাতার কাগজে সই করেন। খাজুরা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. এখলাছ উদ্দিন ৯ নভেম্বর বলেন, এখনো রণজিৎ কুমার সভাপতি পদে আছেন।

সাংসদ এর আগে বাঘারপাড়ার বাঘারপাড়া কলেজ, চিত্রা মডেল কলেজ, শুকদেবপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ভিটাবল্যা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, রায়পুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ধলগ্রাম মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বিএইচএল মাধ্যমিক বিদ্যালয়, এইচডিআর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বন্দবিলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, খাজুরা মাখনবালা বালিকা বিদ্যালয়, সেকেন্দারপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বাকড়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও বেতালপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং অভয়নগরের সুন্দলী এসটি স্কুল অ্যান্ড কলেজের সভাপতি ছিলেন। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই সভাপতিকে সরিয়ে তিনি মহাকাল পাইলট উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের সভাপতি হয়েছিলেন। ওই প্রতিষ্ঠানের সভাপতি মহিউদ্দিন আহম্মেদ এ ঘটনায় রণজিৎ কুমারসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন। জানতে চাইলে মহিউদ্দিন আহম্মেদ বলেন, ‘আদালত ওই ছয় পদে নিয়োগে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।’

সাংসদের স্ত্রী নিয়তি রানী রায় বাঘারপাড়ার মির্জাপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজ, সুন্দলী এসটি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, খাজুরা মাখনবালা মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং চণ্ডীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি। বড় ছেলে রাজীব রায় একই উপজেলার সেকেন্দারপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং গাইটঘাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি।

মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে রাজীব রায় বলেন, প্রতিষ্ঠানের উন্নতির স্বার্থেই স্থানীয় লোকজন তাঁকে নির্বাচিত করেন। নিয়তি রানী রায় বলেন, ‘স্থানীয় লোকজন সমর্থন করেছেন বলেই আমি সভাপতি হয়েছি।’

এ সম্পর্কিত আরও

Check Also

নির্মাণের ৯ মাসের মধ্যেই ভেঙে পড়ল ব্রিজ

নাটোরের বাগাতিপাড়ায় নির্মাণের ৯ মাসের মধ্যেই ভেঙে পড়েছে ব্রিজ। তবে ব্রিজটি কোন দপ্তর থেকে নির্মাণ …

Mountain View

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *