কেপটাউনে আজ বিবাহিত ও অবিবাহিতদের শক্তি পরীক্ষা

প্রকাশিতঃ নভেম্বর ২০, ২০১৬ at ২:৫২ অপরাহ্ণ

38875_129কাদের শক্তি বেশি? বিবাহিতদের নাকি অবিবাহিতের? শক্তি পরীক্ষা হবে তাদের মধ্যে আজ রোববার। দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনে বেলগ্রেভিয়া ক্রিকেট গ্রাউন্ড। সেখানেই শক্তি পরীক্ষায় অবতীর্ণ হবে দুই দল দুপুর বারোটায়। শক্তি পরীক্ষার মাধ্যম ক্রিকেট। তাও আবার হার্ড বল।
 
আগামী কাল ক্রিকেট শক্তি পরীক্ষায় মাঠে নামলেও দু ‘দলের মধ্যে বাকযুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে কয়েক দিন আগে থেকেই। কখনো মুখোমুখি, কখনো ফোন টু ফোনে, কখনো আবার মেসেজের মাধ্যমে শক্তি প্রকাশ করে ঘায়েল করার চেষ্টা চলছে প্রতিপক্ষকে।
 
বিবাহিত ও অবিবাহিতদের মধ্যে আজকের এই ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে কেপটাউনে চলছে উৎসবের আমেজ। দু ‘ ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছেন কেপটাউনে বসবাসরত সকল বাংলাদেশী। বিবাহিতদের জয়ের আশা শতভাগ রয়েছে। একই আশায় বুক বেধে আছেন অবিবাহিতদের মাঝেও। উভয় দলের মাঝে মান সন্মান রক্ষা করার সূদূর প্রচেষ্টা থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।
 
দু ‘দলের ক্রিকেট শক্তি বিশ্লেষণ করলে দাড়াবে সমানে সমান। কিন্তু আজ ভাগ্য কাদের দিকে ঝুলবে খেলা শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিধাতা ছাড়া আর কে জানে?গেল রাত বারটা এক মিনিটে অন লাইনে দু ‘দলের চুড়ান্ত খেলোয়াড় তালিকা প্রকাশ করেছেন।
 
যারা একই সংগে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করছেন, তারাই আজ একে অপরের প্রতিপক্ষ। কেপটাউনে চলতি মৌসুমে ক্রিকেট টুর্ণামেন্টে অংশগ্রহণকৃত ২১ দলের মধ্যে একটি মাত্র বিদেশী খেলোয়াড়দের দ্বারা গঠিত দল এভেন্ডেল ক্রিকেট ক্লাব। যাদের মধ্যে আবার সকলেই বাংলাদেশী। এই এভেন্ডেল ক্লাবের সবাই আজ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে শক্তি পরীক্ষায় অংশ নিবেন।
 
অবিবাহিতদের মধ্যে রুবেল আজ শতভাগ দিবেন। তিনি একজন উইকেট কিপার কাম ব্যাটসম্যান। আজ অধিনায়কের ভুমিকায় দেখা যাবে তাকে এটা নিশ্চিত। তার ব্যাট যেদিন হাসে তার দলও সেদিন হাসে। তাকে দ্রুত সাজ ঘরে ফেরাতে না পারলে কষ্টের বোঝা ভারি হবে অবিবাহিতদের জন্য। কিন্তু তার জন্য জুজু বুড়ি হয়ে আসতে পারেন পেসার ইয়াসীন, অফ স্পিনার মাসুদ ও মাসুমের মধ্যে যে কেউ।
 
অবিবাহিতদের অলরাউন্ডার প্রমি। তিনি স্কুল ক্রিকেটে কেপটাউন থেকে ইন্ডিয়ায় বিভিন্ন স্কুলে ক্রিকেট খেলেছেন। তার ঘাস ফঁড়িং ফিল্ডিং দর্শকদের বেশ আনন্দ দেয়। তার ব্যাটিং গভীরতা অনেক। পেস বোলিং করে থাকেন। তার জন্য মাসুদ, মাসুম ও মনির এদের মধ্যে যে কেউ পথের কাঁটা হয়ে হতে পারেন।
 
অলরাউন্ডার মাহিন অবিবাহিতদের দলে। তিনি ব্রাম্মণবাড়িয়া জেলা দলের সাবেক ক্রিকেটার। কেপটাউনে একজন কোচের আধিনে নিয়মিত ক্রিকেট চর্চা করে যাচ্ছেন। সকল ধরনের বলকে প্রতিহত করতে পটু। তার জন্য একটি লোভনীয় বল কাল হয়ে যেতে পারে।
 
আবার অবিবাহিতদের মধ্যে তাদের দলকে পাহাড়ের চূড়ায় তুলে নিয়ে যেতে পারেন রিপন, রাসেল, কৌশিক, সোহেল ও আরিফ। বোলিং এ দাপোট দেখাতে পারেন এদের যে কেউ।
 
এভেন্ডেল ক্লাবের এবারের সেরা জুটি বিপুল ও ইয়াসীন। এই জুটি সেট হয়ে গেলে বিপক্ষ দলের জন্য বড়ই বিপদ। বিবাহিত দলের ওপেনিং ভিত্তি তারাই। বিপুলের আছে অভিজ্ঞতার ভান্ডার। আর ইয়াসীন তারুণ্যে টগবগ। তাদের আউট করার জন্য সাঁড়াশি আক্রমণের দ্বায়িত্ব পরতে পারে পেসার সুজা ও প্রমির। রিপন বা মাহিনকেও চিন্তায় রাখতে পারেন রুবেল।
 
এই দলে আরেক অলরাউন্ডার মাসুদ। অফ স্পিনের পাশাপাশি দারূন ব্যাটিং করে থাকেন। লম্বা লম্বা ইনিংস খেলার রেকর্ড অনেক আছে তার। তাকে দ্রুত আউট করতে না পারলে বড় একটা ইনিংস উপহার দিবেন তার দলকে। তবে তার জন্য রিপনের বোলিং সমস্যা হতে পারে।
 
বিবাহিত দলের আরেক কান্ডারী অলরাউন্ডার মাসুম। তিনি এভেন্ডেল ক্লাবের অধিনায়কও বটে। ব্যাটে ও বলে সমান পারদর্শী তিনি। অনেকেই মনে করেন আজকে তিনিই হবেন তুরুপের তাস।
 
দু দলের মধ্যে একমাত্র লেগ স্পিনার মনির শেখ। তার ঘুর্ণিপাক বল কি ভাবে মোকাবেলা করবেন সেটা নিয়ে বাড়তি চিন্তা করতে হচ্ছে অবিবাহিত ব্যাটসম্যানদের। তার বাঁক দেওয়া বল কি ভাবে তালুবন্দী করবেন সে চিন্তা রয়েছে উইকেট কিপার ওয়াসিমের। বল অপচয়বিহীণ একজন ব্যাটসম্যান হিসেবেও বেশ পরিচিত তিনি।
 
সবচেয়ে অভিজ্ঞ অফ স্পিনার আব্দুল হালিম। বিপক্ষ দলের কয়েকটি উইকেট তুলে নিবেন এতে কোন সন্দেহ নেই।
 
বিবাহিত দলের আরেক অলরাউন্ডার মোহাম্মদ শহিদ। এই বরিশালের জাহাজকে শুরুতেই আটকে দিতে না পারলে নিমজ্জ্বিত দলকেও রুস্তমের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে পারেন।
 
ব্যাটসম্যান সুমন খানের দর্শক নন্দিত শর্ট অফ ড্রাইভ। পিঞ্চ হিটার ইকবাল ও রান লোলুপ অপু। এদের যে কেউ আজ মাঠ কাঁপাতে পারেন। ওয়াসিমের পাঁচ মিশালি ব্যাটিং ফিল্ডারদের নতুন করে নড়েচড়ে দাঁড়াতে হয়।
 
খেলায় জয় পরাজয় থাকবেই। কিন্তু আজকের এই উত্তেজনা মিশ্র ম্যাচে পরাজয়ের গ্লানি নিয়ে কোন দলই মাঠ ত্যাগ করতে চাইবেন না। পরাজিত দলকে আগামী এক বছরের জন্য এই লজ্জার ঘানি বহন করতে হবে।
 
অবিবাহিত দলের কয়েকজনকে এবার বিবাহিত দলে ঢুকার ইচ্ছে ছিলো। কিন্তু ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও সম্ভব না হওয়ায় অতিরিক্ত টেনশন নিয়ে তাদেরকে মাঠে নামতে হচ্ছে। তবে শেষ হাসি কারা হাসবেন সেটা দেখার জন্য শেষ বল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে এটা নিশ্চিত ভাবেই বলা যায়। দর্শকরা একটা হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের অপেক্ষায় আছেন।

এ সম্পর্কিত আরও