Mountain View

জিটিভির কাছে কৃতজ্ঞ আইসিসি!

প্রকাশিতঃ নভেম্বর ২০, ২০১৬ at ৮:৫৭ অপরাহ্ণ

icc-gtv
গাজী কনসোর্টিয়ামের একদল প্রতিনিধিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। আইসিসি চায় বাংলাদেশের কাছ থেকে সারা বিশ্বের ব্রডকাস্টাররা শিখুক। এই প্রথম আইসিসি বাংলাদেশে থেকে একজনকে ডেকেছেন স্পোর্ট ব্রোডকাস্টিং এ সিএসআর এর একটি কেস উপস্থাপন করার জন্য।
গাজী কনসোর্টিয়ামের একটি দল টপ অফ মাইন্ড এর সিইও জিয়াউদ্দিন আদিল, টোটাল স্পোর্টস মার্কেটিং এর প্রোপাইটর মো. মইনুল হক চৌধুরী, জিটিভি এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর আমান আশ্রাফ ফাইয়াজ, ২১ নভেম্বর ইউকের ব্রোডকাস্ট ওয়ার্কশপ এ এই কেস উপস্থাপন করার জন্য উপস্থিত থাকবেন। এখানেই আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি এবং আইসিসি ওমেন্স ওয়ার্ল্ড কাপ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
জিয়াউদ্দিন আদিল বলেছেন, ‘আইসিসি আমাদের সামিউলকে নিয়ে প্রচেষ্টাকে স্বীকৃতি দেয়ার জন্য আমরা গর্বিত। সামিউল একরাতে বাংলাদেশি সোশ্যাল মিডিয়াতে সবচেয়ে বড় বিষয়ে পরিণত হয়েছে এবং সবাই তাকে নিয়ে কথা বলছে। আমরা তার সারাজীবনের আবেগের ফলাফল রূপে তার চোখ ঠিক করে দিতে পেরে গর্বিত। দৃষ্টিশক্তি মানুষের মানবিক অধিকার।’
মইনুল হক বলেছেন, ‘এটা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত আনন্দের বিষয়। কেননা আইসিসি আমাদের কাজকে স্বীকৃতি দিয়েছেন। আইসিসি বিশ্বাস করে পুরো বিশ্বের আমাদেরকে অনুসরণ করা উচিত। এটি আসলেই আমাদের জন্য গর্বের একটি বিষয়।’
আমান আশরাফ ফাইয়াজ বলেন, ‘বর্তমান সময় বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য অত্যন্ত উত্তেজনামূলক একটি সময়। আমরা আর অনুসরণ করছি না বরং নেতৃত্ব দিচ্ছি। আমরা বিনয়ের সাথে এই ভুমিকা গ্রহণ করছি এবং সামিউলের সাথে সিএসআর প্রজেক্টের যে প্রচেষ্টা করেছি; তা সারা পৃথিবীতে অনুসরণ করা হবে বলে আমাদের বিশ্বাস।’
সম্প্রতি গাজী কনসোর্টিয়াম তাদের অসামান্য ও বহুল আলোচিত সিএসআর প্রজেক্টের আওতায় একজন বাংলাদেশি ক্রিকেটের ভক্তের অন্ধচোখের দৃষ্টি ঠিক করে তাকে প্রথম খেলা দেখার সুযোগ করে দেয়া দেয়।
জিটিভি তার প্রত্যয়, ‘শুধু যা দেখতে চান তাই দেখতে পারবেন’ এর মাধ্যমে ‘সাইট টু ব্লাইন্ড”- ‘স্বপ্ন দেখে চোখ’ প্রজেক্টটি হাতে নিয়েছিল
সাইটসেভারস এর সাথে অংশীদারিত্বে জিটিভি পৌঁছে গিয়েছে সামিউলের কাছে; যিনি ক্রিকেটের দারুণ এক অনুরাগী। সামিউলের দৃষ্টি ছয় মাস বয়সেই সমস্যাক্রান্ত হয় ক্যাটারেক্ট এর কারণে; যা কয়েক বছরের মধ্যেই আরো জটিল হয়ে গিয়েছিল। সাইটসেভারস ফাউন্ডেশন- এর সহযোগিতায় সামিউলের উভয় চোখে অপারেশন করা হয় এবং তার দৃষ্টিশক্তি ফিরে আসে।
সামিউলের পরিবারে সদস্য সংখ্যা পাঁচজন, সেখানে আছেন তার মা এবং ভাইবোন যাদের খরচ নির্বাহ করেন সামিউলের ছোট ভাই সাইদুল; যিনি গ্রামে নাপিতের কাজ করেন। শারীরিক প্রতিবন্ধিতার পরও সামিউলের মধ্যে ক্রিকেটের প্রতি অন্তহীন উৎসাহ ছিল;  এবং বাংলাদেশ খেলেছে এমন একটি খেলাও থেকে সামিউল দুরে থাকেননি। গ্রামের খেলা দেখার জায়গায় সবাইকে জিজ্ঞেস করে করে খেলা দেখতেন বা বুঝে নিতেন সামিউল।
যখন সামিউল শুনলেন বাংলাদেশি বাঘেরা ইংল্যান্ডের সিংহদের হারিয়ে দিয়েছে; তখন তিনি বাংলাদেশের খেলা দেখার জন্য মরিয়া হয়ে উঠলেন। সামিউলের জীবনে অলৌকিক ও দুর্লভ এই অভিজ্ঞতার ব্যবস্থা করে দেয় জিটিভি। বাংলাদেশ বনাম ইংল্যান্ড এর ম্যাচে মাশরাফির দলের বিপরীতে জস বাটলারের দলের খেলা দেখতে মাঠে উপস্থিত ছিলেন সামিউল।
ম্যাচজুড়ে প্রত্যেক বাউন্ডারি এবং উইকেটপতনে সামিউলের গা শিরশিরিয়ে ওঠে; তিনি  জীবনে প্রথমবারের মতো সচক্ষে স্পষ্ট ক্রিকেট খেলা দেখতে পায়। ৯ অক্টোবর বাংলাদেশ দল জিতলে সামিউলের চোখে পানি এসে যায়। বাংলাদেশের জয় সামিউলের সারাজীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া হয়ে ওঠে।
আর সামাজিক দায়বদ্ধতার এই উদ্যোগে দারুণ খুশি হয়েছে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা। সেজন্যই একদল প্রতিনিধি দলকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে তারা।

এ সম্পর্কিত আরও