Mountain View

ভৈরবের রসূলপুরে খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে থেমে থেমে চলছে বাড়িঘরে হামলা,ভাংচুর,লুটপাট

প্রকাশিতঃ নভেম্বর ২০, ২০১৬ at ১০:৫৫ অপরাহ্ণ

বিশেষ প্রতিনিধি, মোঃ মাইন উদ্দিনঃকিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার সাদেকপুর ইউনিয়নের রসূলপুর গ্রামে খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাদেকপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ ফজলুল হক ও তাঁর অনুসারীরা তাঁদের প্রতিপক্ষ নূরার বাড়ির লোকজনের বাড়িঘরে কয়েক দফা হামলা, ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে ।

অভিযোগ কারীরা বলেন, মোঃ ফজলুল হক ও তাঁর অনুসারীরা তাঁদের প্রতিপক্ষ রসূলপুর গ্রামের নূরারবাড়ি, হাজী বাড়ি, খাঁ বাড়ি, জোলার বাড়ি ও রসূলপুরপূর্ব পাড়ার ছলামুন্সীর বাড়ির লোকজনের দোকানপাটসহ অন্তত ৭৫ টি বাড়িঘর ভাংচুর ও এসব ঘরের মালামাল লুট করেন ।

উল্লেখ্য, উপজেলার রসূলপুরে পূর্ব শক্রাতার জের ধরে গত ৫নভেম্বর (শনিবার) সকালে দুই বংশ কিরপিন বাড়ি ও নূরার বাড়ির মধ্যে একটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় কিরপিন বাড়ির পক্ষের অহিদ মিয়া (৫০)নামের একজন নিহত ও উভয় পক্ষের অন্তত অর্ধ শতাধিক লোক আহত হয় ।পরে নিহতের ভাই বাদী হয়ে নূরার বাড়ির লোকজনকে আসামী করে ভৈরব থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করলে আসামীরা গ্রেফতার এড়াতে আত্মগোপনে চলেযায় ।এই সুযোগে কিরপিন বাড়ির পক্ষে নেতৃত্বে থাকা আওয়ামী লীগ নেতা মোঃ ফজলুল হকের নেতৃত্বে তাঁর অনুসারীরা নূরার বাড়ির লোকজনের ৩৫টি, হাজী বাড়ির১০ টি, খাঁ বাড়ির ১০ টি, জোলার বড়ির ১৫ টি, ও রসূলপুরপূর্ব পাড়ার ছলা মুন্সীর বাড়ির ৫ টি ঘরসহ আরো দুইটিদোকান ঘরে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লুটপাটের তান্ডব চালায় ।

হামলা কারীরা ভাংচুরের সময় এসব ঘর ও দোকান থেকে নগত টাকাসহ কয়েক কোটি টাকা মূল্যের মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এসময় হামালাকারীদের হাত থেকে রেহায় পায়নি এসববাড়ির স্কুল পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীদের পড়ার চেয়ার-টেবিল, বই ও খাতা কলম । এই ঘটনার ফলে রসূলপুর গ্রামের বেশ কিছু পিএসসি পরিক্ষার্থীর পরিক্ষা দেওয়া বন্ধ হয়ে যাবে বলে দাবী করছেন শিক্ষার্থীদের অভিবাবকেরা ।

এব্যাপারে ওই এলাকার কয়েকজনের সাথে সাথে যোগাযোগ করা হলে রসূলপুর ৮নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি ও বর্তমান মেম্বার আঃ মান্নান খান,৮নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি মোঃ বসির মিয়া,সাদেকপুর ইউনিয়ন সেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ নজরুল ইসলাম ও সাদেকপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান আবু বক্কর এই প্রতিনিধিকে বলেন, আওয়ামী লীগ নেতা মোঃ ফজলুল হকের অনুসারীরা এসব বাড়িঘরে হামলা চালানোর আগে ঘরমালিকদের কাছে মোটা অংকের টাকা চাঁদা দাবী করেছিলেন ।তাঁদের চাহিদা অনুযায়ী যারা চাঁদার টাকা দিতে পারছেন তাঁদের ঘরে ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়নি ।আর যারা চাঁদা দিতে পারছে না তাঁদের ঘরে লুটপাট ওভাংচুর করা হয়েছে ।

এসব ঘটনা নিয়ে এ প্রতিনিধির ফেসবুকে পাঠানো তথ্য অনুযায়ী যাদের কাছে চাঁদা দাবী করছেন এবং চাহিদা অনুযায়ী চাঁদার টাকা দিয়েছেন তাঁরা হলেন, মরহুমফিরোজ মুক্তিযোদ্ধার ছেলে মোঃ আমিনুল হক ১ লক্ষ টাকা, মোঃ জুয়েল মিয়া ২ লক্ষ টাকা, তাজুল ইসলাম ওদ্বীন ইসলাম ১ লক্ষ টাকা ।নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি টেলিফোনে আরো জানান, উল্লেখিত ব্যাক্তিরা ছাড়াও অরোও অনেকেই আছেন যারা তাঁদের ভয়ে চাঁদা দেওয়ার বিষয়ে মুখখুলতে রাজি না । কেননা তাঁরা রসূলপুর গ্রামে এমন তান্ডব চালিয়েছে, যা পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে ।

ভাংচুর ও লুটপাটের বিষয় নিয়ে সাদেকপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ ফজলুল হকের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এই প্রতিনিধিকে বলেন রসূলপুরের কোথাও ৭৫ টি বাড়িঘর ভাংচুর করা হয়নি ।তবে যে দিন মার্ডারের ঘটনা ঘটে ছিলো এর পরের দিন উশৃঙ্খল কিছু ছেলে প্রতিপক্ষ নূরার বাড়ির প্রায় ৫টি ঘরে কিছুটা ভাংচুর করে ছিলেন ।চাঁদাবাজির বিষয়ে আরেক প্রশ্নের উত্তরে এই নেতা বলেন, এসব হচ্ছে তাঁদের সাঁজানো কথা ।এখানে চাঁদা দাবী করবে এমন কোনো লোক আমাদের
মাঝে নেই ।কয়েকজন শিক্ষার্থী পিএসসি পরিক্ষা দিতে পারছে না এমন আরেক প্রশ্নের উত্তরে এই নেতা বলেন, আমি আমাদের সকলকে জানিয়ে দিয়েছি আমাদের ঝগড়াকে কেন্দ্র করে রসূলপুর গ্রামের কারোর ছেলে মেয়ের যেন লেখা পড়ার কোনো বিঘ্ন না ঘটে ।

পরে এ বিষয় নিয়ে কথা হয় রসূলপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ শফিকুল ইসলামের সাথে ।তিনি এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন, রসূলপুর সরকারী প্রথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গত ১৯ নভেম্বর(শনিবার) বিকালে আমাকে জানিয়ে ছেন রসূলপুর গ্রামের দুইজন পরীক্ষর্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ থেকে বাদ ছিলেন,কিন্তু এখন তাঁরা সিদ্ধান্ত নিয়েছে পার্শবর্তী ভবানীপুর গ্রামে থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবেন ।এর পরে আর কেউ পরীক্ষা থেকে বাদ নেই বলে দাবীকরেন রসূলপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের এই প্রধান শিক্ষক ।

আজ ২০ নভেম্বর (রবিবার) সকালে রসূলপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সকল পিএসসি পরিক্ষার্থী পরিক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে কি না এমন এক প্রশ্নের উত্তরে বিদ্যালয়ের প্রধান মোঃ আকবর আলী এই প্রতিনিধিকে বলেন, আমার বিদ্যালয়ের সকল পরিক্ষার্থী আজ উপস্থিত হয়েছে ।অপর এক প্রশ্নের উত্তরে তিন বলেন, যদিও রসূলপুর গ্রামের এক একটি সহিংসতাকে ঘিরে ২ ছাত্রের পরিক্ষা অনিশ্চত ছিল, সেটা এখন নিশ্চত হয়েছেন।

এ সম্পর্কিত আরও

Mountain View