ঢাকা : ২৬ জুন, ২০১৭, সোমবার, ৪:৩৯ পূর্বাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

রোহিঙ্গাদের জন্য বন্ধই থাকবে বাংলাদেশের সীমান্ত

38875_129স্টাফ রিপোর্টার :মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গা শরণার্থীদেরকে বাংলাদেশে আসতে দেয়া হবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। মিয়ানমারে জাতিগত দাঙ্গায় মুসলিম এই জনগোষ্ঠীর ওপর আক্রমণের ঘটনায় তাদের জন্য বাংলাদেশের সীমান্ত খুলে দিতে জাতিসংঘের আহ্বানের পর পরই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা জানান।

দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চোরাচালার প্রতিরোধ সংক্রান্ত কমিটির বৈঠক শেষে এক ব্রিফিংএ মন্ত্রী জানান, রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কক্সবাজার বিজিবি সীমান্তে ২৪ ঘণ্টাই সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে এই বৈঠকে বিজিবি, পুলিশ ও র্যাবের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে চোরাচালান প্রতিরোধের পাশাপাশি রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ নিয়েও কথা হয়।

বৈঠক শেষে ব্রিফিংএ এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘সীমান্ত অপরাধ এবং বাংলাদেশে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘সীমান্ত দিয়ে তেজস্ক্রিয় পদার্থ বা প্রবেশ ঠেকাতে বিজিবির পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।‘ চোরাচালান প্রতিরোধে সরকার যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘দেশের সব স্থলবন্দর ও বিমানবন্দরে স্ক্যানিং মেশিন চালু করা হবে।

কোনো ধরনের তেজস্ক্রিয় পদার্থ যেন প্রবেশ করতে না পারে সে ব্যবস্থাও নেয়া হবে। তেজস্ক্রিয় পদার্থ থাকলে তা স্ক্যানিং মেশিনে ধরা পড়বে।’ সভায় জানানো হয়, জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত তিন লাখ ৮০ হাজার অভিযান চালিয়ে নয় হাজার ৮৬২ জন চোরাকারবারিকে গ্রেপ্তার করা হযেছ।

এতে এক হাজার ২৬১ কোটি মালামাল আটক করা হয়েছে। অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র প্রবেশ রোধে সীমান্ত এলাকার সব বাহিনীর সমন্বয়ে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত বিভাগওয়ারী চোরাচালান মামলায় এক হাজার ৪৮৮ জন আসামিকে সাজা দেয়া হয়েছে। চোরাচালান মামলা গতিশীল করার জন্য সভায় সিদ্ধান্ত হয়।

এছাড়া অভিযানের পাশাপাশি জনগণের সমন্বয়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে আলোচনা হয় সভায়। সীমান্ত এলাকায় সার্ভিলেন্স ডিভাইস স্থাপন ত্বরান্নিত করতে সভায় আলোচনা হয়েছে। মিয়ানমারের উত্তর সীমান্তের রাখাইন রাজ্যে গত ৯ অক্টোবর নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলায় নয় জনের প্রাণহানির পর রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান শুরু করে সেনাবাহিনী। এই অভিযানে এখন পর্যন্ত অন্তত ৬৯ জনকে হত্যা করার কথা স্বীকার করে সেনাবাহিনী।

এই অবস্থায় দেশ ছেড়ে পালাচ্ছে রোহিঙ্গারা। তাদের বেশিরভাগই বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছে। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর সম্প্রতি এক বিবৃতিতে রোহিঙ্গাদেরকে বাংলাদেশে প্রবেশের অনুমতি দিতে আহ্বান জানিয়েছে। তবে মিয়ানমান সীমান্ত দিয়ে প্রাণভয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদেরকে বাংলাদেশে ঢুকতে দিচ্ছে না সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি। গত শুক্রবার রাতে কক্সবাজারের টেকনাফের নাফ নদী দিয়ে নৌকায় করে আসা ১২৫ জন রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠায় বিজিবি।

একইভাবে বৃহস্পতিবার আরও ৭৮ জন এবং তার আগের দিন ১৮ জনকে ফেরত পাঠানো হয়। রাখাইন রাজ্যে সাম্প্রতিক দাঙ্গার পর অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে নজরদারি আরও বাড়িয়েছে বিজিবি। সেখানে মোতায়েন করা হয়েছে তিন প্লাটুন বিজিবি। বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের জন্য তৈরি দুটি শরণার্থী শিবিরে ৩০ হাজার বাসিন্দা থাকে। তবে এর বাইরে আরও অন্তত প্রায় পাঁচ লাখ অনবিন্ধিত রোহিঙ্গা আছে বলে ধারণা করা হয়। এদেরকে ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারকে বাংলাদেশ বারবার তাগাদা দিলেও তারা ইতিবাচক সাড়া দেয়নি কখনও।

রাখাইন রাজ্যে বসবাসকারী মুসলিম রোহিঙ্গাদেরকে নিজের নাগরিক হিসেবে স্বীকার করে না মিয়ানমার। তাদের নাগরিকত্বের অধিকারও কেড়ে নেওয়া হয় আশির দশকে। মিয়ানমারের দাবি, এই জনগোষ্ঠী বাংলাদেশ থেকে গিয়ে সেখানে আবাস গেড়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও

Check Also

ঈদ মোবারক

বার্তা কক্ষ,বিডি টুয়েন্টিফোর টাইমস:মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীর উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশসেরা নিউজ পোর্টাল …

আপনার-মন্তব্য