সংখ্যালঘুদের সম্পদ কুক্ষিগতকারীদের পরিসংখ্যান সময়ের দাবি

প্রকাশিতঃ নভেম্বর ২০, ২০১৬ at ৪:১৮ অপরাহ্ণ

38875_129মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম প্রধান : সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর চলমান দমন-পীড়ন দেশের সচেতন জনগোষ্ঠীকে ভাবিয়ে তুলেছে।সাম্প্রতিক বেশ কয়েকটি ঘটনা দেশের অগ্রসর মানুষকে ভাবিয়ে তুলেছে।অনাকাঙ্ক্ষিত এসব দুঃখজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখকে নারাজ আপামর মানুষ।

রামুর মন্দিরে অনাকাঙ্ক্ষিত সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় নিন্দার ঝড় বয় দেশব্যাপী। পৈশাচিক ওই হামলার পর মনে করা হয়েছিল এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি আর ঘটবে না।কিন্তু না, ঘটনার যে অবসান হয়নি; সাম্প্রতিক মন্দিরে হামলার ঘটনা সেটা মনে করে দেয়।

আমাদের দেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এ জন্য আমাদের অহঙ্কার কার না জানা। আজকে সে অহঙ্কারে ছেদ ঘটানোর অপচেষ্টা চলছে। এতটাকে রুখে দিতে হবে। সর্বনাশা এই কাজে যে বা যারা যুক্ত, তাদের চিহ্নিতপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

একটি কথা প্রায়ই বলেন দেশের অগ্রসর মানুষের প্রতিনিধিরা। কিন্তু সেটার বাস্তবতা পরিলক্ষিত হয় না। স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সম্পদ কারা ভোগ করছে, সেটার একটা পরিসংখ্যান হওয়া অতীব জরুরি।

মনে করা হয় একটি চিহ্নিত মহল সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতি অনুকম্পার আড়ালে তাদের সম্পদ কুক্ষিগত করছে। নানাভাবে জুজুর ভয় দেখিয়ে তাদের কৌশলে দেশছাড়া করে তাদের ভিটামাটি গ্রাস করছে। অনেক ক্ষেত্রে দলিলে স্বাক্ষরের পর টাকা না দিয়ে সীমান্ত পাড়ি দিতে বাধ্য করেছে।

যুগে যুগে কারা হিন্দুদের ব্যবহার করে আর তাদের সম্পদ বাগিয়ে নেয়, সেটা সবার জানা। মন্দির ভাঙ্গায় কারা পারদর্শী আর কারা অন্যদের দায়ী করে রাজনৈতিক ফায়দা লোটে, তাও অজানা নয়। মূলত প্রকৃত দায়ীরা রাজনৈতিক কারণে ছাড় পাওয়ায় এসব ঘটনার অবসান হচ্ছে না।

সম্প্রতি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতাল পল্লীর ঘটনা মিডিয়ার বদৌলতে দেশবাসী জেনে গেছে। সেখানে প্রকাশ্যে বর্বরভাবে সাপের মতো পিটিয়ে হত্যার বিষয়টি কার না হৃদয়ে দাগ কেটেছে। ঘটনার পৈশাচিকতা অন্তরাত্মা কাঁপায় বৈকি।

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতাল পল্লীর ঘটনা ঘটেছে পুরোটা আইন-শৃঙ্খখলা বাহিনীনহ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সামনে। এমনকি ক্ষমতাসীন স্থানীয় নেতা-কর্মীদের সামনে। এ ব্যাপারে সব সময়ই তায়ী করা হচ্ছে স্থানীয় এমপি ও জনৈক চেয়ারম্যানকে।

গরু পিটানোর মতো পিটিয়ে এরপর খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করা হয় নিরীহ হিসেবে পরিচিত সাঁওতালদের! প্রকাশ্যে যারা পিটিয়ে এবং খুঁচিয়ে সাঁওতালদের মৃত্যুর দুয়ারে ঠেলে দেয়, ঘটনা প্রমাণ করে মানুষ হত্যার অভিজ্ঞতায় তারা কতটা পটু।

এই ঘটনায় তিনটি তাজা প্রাণ আমাদের মাঝ থেকে হারিয়ে যায়। সেখানে ওই তিনজনের মৃত্যু হয়নি, মৃত্যু ঘটেছে আমাদের জাতিসত্তার। তেভাগা ঐতিহাসিক আন্দোলনে যাদের অবদান অবিস্মরণীয়, তাদের প্রতি শ্রদ্ধার পরিবর্তে যমদূতের পরাকাষ্টা দেখাচ্ছি আমরা।হাযরে মানুষ!

পরিশেষে একটা আবেদন। স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের যত বাড়িঘর ও সম্পদ বেহাত ও হাতবদল হয়েছে, সেটার জন্য একটা বিচার বিভাগীয় কমিটি গঠন করা হোক। সে কমিটি তুলে ধরবে ওই সম্পদের মালিকানায় প্রথম হাতবদলকারী ব্যক্তির রাজনীতিক পরিচয়।

লেখক : সাধারণ সম্পাদক- ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন
ই-মেইল : [email protected]

এ সম্পর্কিত আরও