ঢাকা : ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, রবিবার, ৪:২৩ অপরাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

যে কারণে হিন্দু নারীরা সিঁদুর পরেন?

38875_129হিন্দু বিবাহিত নারীদের কপালে সিঁদুর পরা আবশ্যক। সনাতন ধর্ম মতে এটি বাধ্যতামূলক প্রথা। কিন্তু, তারা কেন এ সিঁদুর পরেন? এর নেপথ্য কারণই বা কী? তা কি আমরা কেউ জানি? সিন্দুর বা কুঙ্কুমচর্চা প্রাচীন ভারতে কেবল নারীদের জন্য নির্দিষ্ট ছিল না। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সেযুগে এ বিশেষ প্রসাধানটি করতেন। কালক্রমে পুরুষের প্রসাধন-তালিকা থেকে কুঙ্কুম বাদ পড়ে। তবে আজও বেশ কিছু পুরুষ কপালে সিঁদুরের তিলক পরেন। বিশেষ করে শাক্ত মতাবলম্বীদের মধ্যে সিঁদুরের তিলকসেবার রেওয়াজ পুরোপুরি রয়েছে। পুরুষদের আঙিনায় বিরল হয়ে পড়লেও বিপুলসংখ্যক বিবাহিতা হিন্দু নারী সিঁদুরবিহীন অবস্থার কথা ভাবতেই পারেন না। অনেকেই বলে থাকেন, সিঁদুর একান্তভাবে বন্ধনের চিহ্ন। বিবাহিতা নারীকে সিন্দুর চিহ্নিত করে সমাজকে জানিয়ে দেওয়া হয়— এই নারী অন্যের সম্পত্তি ইত্যাদি। কিন্তু প্রকৃত প্রস্তাবে ব্যাপারটা মোটেই এতটা সহজ-সরল নয়।

হিন্দু নারীর সিঁদুর পরা নিয়ে সাংস্কৃতিক নৃতত্ত্ব ভিন্ন কথা বলে। সেই বিদ্যার বিশেষজ্ঞদের মতে, লাল বর্ণের সিঁদুর কপালে ধারণ করার অর্থ জড়িয়ে রয়েছে আদিম উর্বরাশক্তির উপাসনার মধ্যে। হিন্দু ধর্ম বলে আজ যা পরিচিত, তার উৎস এক টোটেমবাহী কৌম সমাজে। সেখানে গাছ, পাথর, মাটি ইত্যাদিকে প্রাকৃতিক শক্তির প্রতীক বলে মনে করত। আর তাদের কাছে লাল রংটি ছিল সৃষ্টির প্রতীক। সেই আদিম কাল থেকেই লাল সিঁদুরকে ভারতীয়রা বেছে নেন তাঁদের একান্ত প্রসাধন হিসেবে। বিবাহিতা মহিলাদের ললাটে কুঙ্কুম তাঁদের সন্তানধারণক্ষম হিসেবেই বর্ণনা করে। তার বেশি কিছু নয়।

কিন্তু নৃতাত্ত্বিকদের এই বক্তব্যের সঙ্গে শাস্ত্রবচনের কোনও মিলই নেই। শাস্ত্র অনুযায়ী, লাল কুঙ্কুম শক্তির প্রতীক। মানব শরীরের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন দেবতা অবস্থান করেন। ললাটে অধিষ্ঠান করেন ব্রহ্মা। লাল কুঙ্কুম ব্রহ্মাকে তুষ্ট করার জন্য ব্যবহৃত হয়। তা ছাড়া, কপালের ঠিক মধ্যভাগে সূর্যালোক পড়ার ব্যাপারটাকে আটকাতেও সিঁদুর ব্যবহৃত হয় বলে ধারণা করা যায়।

কপালে সিঁদুর প্রয়োগেরও কিছু বিধি ও ফলনির্দেশ শাস্ত্র প্রদান করে। জানা যায়, তর্জনি দিয়ে সিঁদুর পরলে শান্তি পাওয়া যায়। মধ্যমা দিয়ে ধারণ করলে আয়ু বৃদ্ধি পায়। প্রাচীন কালে হলুদ গুঁড়ো দিয়ে সিঁদুর তৈরি হত। তার পরে তাতে লাল কালি মিশিয়ে রাঙিয়ে তোলা হত। কুঙ্কুমচর্চার কেন্দ্রবিন্দুটি হল আজ্ঞাচক্র। এখানে সিঁদুর প্রয়োগে আত্মশক্তি বাড়ে। নারীকে ‘শক্তি’ হিসেবেই জ্ঞান করে হিন্দু পরম্পরা। কুঙ্কুম বা সিঁদুর তাঁদের আজ্ঞাচক্রে প্রদানের বিষয়টি সেই কথাটিকেই মনে করিয়ে দেয়। সূত্র: অনলাইন

এ সম্পর্কিত আরও

Check Also

d203cfeaa7bd37eb2a18984da260b55ex600x400x41-1

এডস রুখতে খাবারে গুরুত্ব ডাক্তারদের

নিত্যদিন সকালে জলখাবারে পাউরুটির সঙ্গে ফল হিসাবে কলা খাওয়া হয় অনেক বাড়িতেই৷ যদিও আধুনিক নেট …

Mountain View

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *