ঢাকা : ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, শুক্রবার, ১১:২৩ অপরাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

‘অপরাধীরাই দেশ-সম্পদ ও ক্ষমতার মালিক’

1-11-2016স্টাফ রিপোর্টার : দুর্নীতি করা এখন গৌরব ও অহংকারের বিষয়। আজ অপরাধীরা দেশ, সম্পদ ও ক্ষমতার মালিক। আর নীতিবানরা চোরের মতো কোনো রকম সময় কাটিয়ে দিচ্ছে।’
রাজধানীর সেগুনবাগিচার শিল্পকলা একাডেমিতে সোমবার বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নিবাহী অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ একটি অনুষ্ঠানে এ সব কথা বলেন।
দুর্নীতি দমন কমিশনের ১২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক আবু সায়ীদ বলেন, ‘এখন রাজনীতিবিদরা মনে করে সরকার গঠন করতে পারলে সর্ব ক্ষমতার অধিকারী হওয়া যাবে আর বিরোধী দলে গেলে নিশ্চিহ্ন হতে হবে। বর্তমানে সংসদের ৬৯ শতাংশ সাংসদ ব্যবসায়ী। তারা রাষ্ট্রকে নিয়ে ব্যবসা করছে। আর দেশের মানুষকে পণ্য হিসেবে ব্যবহার করছেন।’
তিনি বলেন, ‘জাতির সবচেয়ে বড় হতাশার নাম দুর্নীতি। যারা দুর্নীতি করে তারা বেহায়া, নির্লজ্জ ও সাহসী। দুর্নীতিবাজরা আসলে ডাকাত। এটা লুণ্ঠন। এটি ছোট-বড়দের মধ্যে বৈষম্য তৈরী করে। দুর্নীতিবাজরা ডাকাতের মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে। এদের রুখতে হবে। এদের প্রতিরোধ করতে ডাকাতের মতো হতে হবে। নইলে প্রতিরোধ করা কঠিন হবে।’
আবু সায়ীদ বলেন, ‘রাজধানীর যানজট যেমন এ শহরকে দুঃসহ করে তুলছে। তেমনি দুর্নীতি জাতির দুঃখ। এটা এতটাই বেড়েছে যে বাংলাদেশ বারে বারে পৃথিবীর দুর্নীতিগ্রস্ত জাতি হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এখন সেই অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে বলব না। তবে উত্তরণের চেষ্টা চলছে।’
দুর্নীতি আমাদের মেরুদণ্ডকে ভেঙে দিয়েছে উল্লেখ করে আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেন, ‘প্রতিটি মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। এক সময় শক্তিমানরা যেমন দুর্বলকে শোষণ করতো এখন দুর্বলরাও শক্তিমানদের শোষণ করে। দুর্নীতি এমনভাবে আষ্টেপিষ্টে জড়িয়ে গেছে তা থেকে নিস্তার পাওয়া কঠিন। এটা যুদ্ধের বিষয়। সেই যুদ্ধে সকলের অংশগ্রহণ করতে হবে। এটা যদি সত্যি সত্যি শুরু করা যায় তাহলে দুর্নীতি পিছু হটতে শুরু করবে।’
স্বাধীনতার পরে মূল্যবোধের অবক্ষয় হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার পরে মানুষের মূল্যবোধের চরম অবক্ষয় হতে দেখা যায়। তখনকার সময় দাতাদের দেওয়া সাহায্যও লুটপাট হতো। বঙ্গবন্ধু এ কারণে বলেছিলেন চাটার দল সব চেটেুপুটে খেয়ে ফেলেছে। এর পরবর্তী সময় রাজনীতি দুর্নীতিপরায়ন হয়। ১৯৯১ সাল থেকে গণতন্ত্রের নামে সৈরতন্ত্র শাসন চলছে।’
দুদক সম্পর্কে আবু সায়ীদ বলেন, ‘এ দেশে রাঘব-বোয়ালদের কিছুই হয় না। এ কারণে সাধারণ মানুষ হতাশার মধ্যে জীবন যাপন করছে। কারণ আমাদের দেশে এমন কম ক্ষমতাবান মানুষ রয়েছেন যারা অপরাধ করে নাই। তাই বড়দের শাস্তির মুখোমুখি করতে হবে। খালি ছোটদের ধরলে কিছুই হবে না। তা না হলে দুর্নীতি সহনীয় পর্যায়ে আনা যাবে না। তবে বাংলাদেশে দুদক সব সময় চাপে থাকে। এটা আমরা অনুভব করি। দুদককে অধিক কার্যকর করতে নিজস্ব আর্মস ইউনিট ও পৃথক প্রসিকিউশন ইউনিট থাকা প্রয়োজন।’
সভাপতির বক্তব্যে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘মানুষের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তিকে বিবেচনা করলে হতাশ হতে হয়। কারণ প্রাপ্তির হার একেবারেই নগণ্য। দেশের দুর্নীতির মহাযজ্ঞ রুখতে আমরা প্রতিরোধের ওপর বেশি জোর দিয়েছি। আজকের শপথ যেন কাগজে কলম না হয়ে বাস্তবের শপথ হয়।’
অনুষ্ঠানে কমিশনের সব স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীর শপথবাক্য পাঠ করান দুদক চেয়ারম্যান। আলোচনা অনুষ্ঠানে কমিশনার (অনুসন্ধান) মো. নাসিরউদ্দিন আহমেদ, কমিশনার (তদন্ত) এ এফ এম আমিনুল ইসলাম, দুদক সচিব আবু মো. মোস্তফা কামালসহ দুদকরে মহাপরিচালকরা বক্তব্য দেন।

এ সম্পর্কিত আরও

Check Also

খালেদার প্রস্তাবের অনুলিপি বঙ্গভবনে, আলোচনার আশ্বাস

নতুন প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্য চার কমিশনারের নিয়োগের বিষয়ে খালেদা জিয়ার প্রস্তাবের অনুলিপি রাষ্ট্রপতি …

Mountain View

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *