Mountain View

কুড়িগ্রামের ব্রহ্মপুত্র নদী ভাঙ্গনে গৃহহীন রাজীবপুরের ৪’শ পরিবার

প্রকাশিতঃ নভেম্বর ২২, ২০১৬ at ৭:৫৯ পূর্বাহ্ণ

img_20161122_073931এস.এম.আব্দুল্লা আল মামুন(উজ্জল), কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি; কুড়িগ্রাম জেলার রাজীবপুর উপজেলার মোহনগঞ্জ ইউনিয়নের নয়াচর বাজার এলাকা এবং কোদালকাটি ইউনিয়নের কোদালকাটি বাজার এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদীর ভাঙন ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। গত দশ দিনে ওই ইউনিয়নে প্রায় ৪শ’ পরিবারে তাদের ভিটেমাটি হারিয়ে পথে বসেছে।

ভাঙনের শিকার মানুষ জানিয়েছেন, গত ১০ নভেম্বর থেকে নদে হঠাৎ করেই ভাঙন দেখা দেয় এবং তা অব্যাহত রয়েছে। যে হারে ভাঙছে তাতে ওই ইউনিয়ন নিশ্চিন্ন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভাঙন প্রতিরোধে এলাকাবাসী মিছিল মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে।

সরেজমিনে ভাঙন কবলিত এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, নয়াচর বাজার এলাকায় প্রায় তিন কিলোমিটার ও কোদালকাটি বাজার এলাকায় প্রায় দুই কিলোমিটার জুড়ে ব্রহ্মপুত্র নদের ওই ভয়াবহ ভাঙন চলছে। ভাঙনে বিলীন হচ্ছে দিয়ারারচর, সবুজপাড়া, গোয়ালপাড়া, বাজারপাড়া। ভাঙনের মুখে পড়েছে দিয়ারারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

নয়াচর গোয়ালপাড়া গ্রামের দিনমজুর চাঁন মিয়া বলেন, মরার নদী আমগর ফকির কইরা দিল। শেষ সম্বল বাড়ির ভিটা তাও নদীদিত চইলা গেল। পোলাপান নিয়া এহন মাইনসের জায়গা আছি।

একই গ্রামের হাফিজা বেওয়া বলেন, থাওনের মতো আমার এডা ঘর ছিল এহন আর নাই। এই নদে আমি ১৫বার ভাঙনের শিকার হয়েছি। যেডাই ঘর তুলি নদী ভাঙনও যা সেডাই। ভাঙ্গনে নিঃস্ব হয়ে গেছে আতোয়ার হোসেন, ইয়াছিন আলী, সাজু মিয়া, আব্দুর রহীম, নীলকান্ত, আছিয়া বেগম ও ফাতেমা বেগমের মতো প্রায় দুই পরিবার।

রাজীবপুর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও নয়াচর সবুজপাড়া গ্রামের বাসিন্দা বিলকিস খাতুন জানান, অর্ধশত বছরের পুরাতন নয়াচর বাজারের অর্ধেক অংশ এরই মধ্যে ব্রহ্মপুত্র নদ গিলে খেয়েছে। বাকী অংশ এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। এই মুহুর্তে ভাঙন প্রতিরোধে কোনো উদ্যোগ না নিলে ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হবে ইউনিয়নবাসী। কেননা মাত্র ১০দিনের ব্যবধানে ৬ গ্রামের দুইশ’ পরিবারের ঘরবাড়ি হারিয়ে গেছে। ভাঙনের মুখে রয়েছে আরো অসংখ্য পরিবার। জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া দাবি জানান তিনি।

অপরদিকে ওই একই নদে কোদালকাটি ইউনিয়নের বাজার পাড়া, সাজাই, সাজাই হাটুদেওয়ানী পাড়া, মধ্য সাজাই, কারিগরপাড়ায়সহ দুই কিলোমিটার জুড়ে ভাঙনের তান্ডব চলছে। এখানেও দুইশরও বেশি পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়ে ভূমিহীনে পরিনত হয়েছে।

কোদালকাটি ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর ছক্কু জানান, ভাঙনের শিকার মানুষ গুলো দিনমজুর হওয়ার কারণে তাদের মাঝে হাহাকার অবস্থা বিরাজ করছে। যে হারে ভাঙছে তা প্রতিরোধ করা না গেলে কোদালকাটি নামের যে ইউনিয়ন ছিল তা বাস্তবে খুঁজে পাওয়া যাবে না।

রাজীবপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শফিউল আলম জানান, নয়াচর আর কোদালকাটিতে নদী ভাঙনের বিষয়টি জেলা প্রশাসক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করা হয়েছে। এছাড়াও উপজেলা সমন্বয় সভায় নদী ভাঙনের বিষয় এবং প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার বিষয়টি কার্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

রাজীবপুরে নদের ভাঙন প্রতিরোধে কোনো উদ্যোগ নেয়া হবে কিনা-এমন বিষয়ে জানতে চাইলে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান বলেন, নয়াচর বাজার এলাকায় আমরা এরই মধ্যে বালির বস্তা ও জিও ব্যাগ ফেলেছি। এছাড়া সাড়ে ৭ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে আমরা একটা প্রকল্প তৈরি করে মন্ত্রাণালয়ে দাখিল করেছি। প্রকল্প অনুমোদন ও অর্থ পাওয়া গেলে কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।

এ সম্পর্কিত আরও

Mountain View