Mountain View

গৌরনদীতে কোমড়ে অস্ত্র বেঁধে রাতে ঘুমোতে যায় পুলিশ সদস্যরা

প্রকাশিতঃ নভেম্বর ২৩, ২০১৬ at ৬:২৬ অপরাহ্ণ

Exif_JPEG_420

Exif_JPEG_420

গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধিঃ অস্ত্র ও গুলি হারালে চাকুরী হারাতে হবে। তাই কোমড়ে অস্ত্র বেঁধে রাতে ঘুমোতে যায় বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর আরআরএফ পুলিশ ক্যাম্পের পুলিশ সদস্যরা। অস্ত্রাগার, সেন্ট্রিপোষ্ট ও নিরাপত্তা দেয়াল না থাকার কারণেই আতংকের মধ্যেই পুলিশ সদস্যদের দিনাতিপাত করতে হচ্ছে।

 
সরেজমিনে জানা গেছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা দমনের জন্য ৯০ দশকে  বরিশাল-ঢাকা মহাসড়ক ঘেষা উপজেলার বাটাজোর বন্দর সংলগ্ন উত্তর পাশে আরআরএফ পুলিশ ক্যাম্পটি বসানো হয়। শুরু থেকে অদ্যবর্ধি বাটাজোর উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের একটি পরিত্যক্ত আধাপাকা ঘরে ক্যাম্পের কার্যক্রম শুরু হয়। দুই যুগেরও বেশী সময় ধরে ওই একই আধাপাকা ঘরে চলছে ক্যাম্পের কার্যক্রম। দীর্ঘদিন যাবত সংস্কার না করার কারণে অনেক আগেই ওই ঘরটি বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ওই আধাপাকা ঘরের দেয়ালের আস্তর খসে পড়েছে।
 
 টিনের চালা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই পানি পড়ে সবকিছু ভিজে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। জরাজীর্ন পুলিশ ক্যাম্পের সবকটি দরজা-জানালার অবস্থা খুবই নাজুক। এখানে অস্ত্রাগার ও সেন্ট্রিপোষ্ট না থাকায় এবং ক্যাম্পটির একদিকে মহাসড়ক অন্যদিকে আরও একটি সড়ক থাকায় পুলিশ সদস্যরা নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছেন । বাউন্ডারী ওয়াল না থাকার কারণে ক্যাম্পের সামনে প্রতিদিন বসে পান বরজের উপকরন (বাঁশ, চেরা ও চটি) বিক্রির হাট। এতে পুলিশ সদস্যীদের চলাচলে চরমভাবে বিঘিত হচ্ছে। ক্যাম্পের সামনের বারান্দায় মাটি দিয়ে সেন্ট্রিপোষ্ট তৈরি করে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
 
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে এ ক্যাম্পে পুলিশের ২০ জন সদস্য কর্মরত রয়েছে। এদের মধ্যে একজন এসআই, দুইজন এএসআই, দুইজন নায়েক ও ১৫ জন কনস্টেবল। তাদের জন্য  সুপেয় পানির ব্যবস্থা নেই। নিজস্ব লেট্রিন না থাকার কারণে এখানে কর্মরত পুলিশ সদস্যরা নিরূপায় হয়ে বাটাজোর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের লেট্রিন ব্যবহার করছেন। তারা গোসলের কাজ সারছেন অন্যের পুকুরে।
 
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ক্যাম্পের এক পুলিশ সদস্য ক্ষোভের সাথে জানান, ক্যাম্পে অস্ত্রাগার না থাকায় তারা অস্ত্র ও গুলি নিয়ে মহাবিপাকে পড়েছেন। তারা অস্ত্র হারানোর ভয়ে রাতে ঘুমোনোর সময় নিজের অস্ত্র কোমরের সাথে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখেন। আর গুলি রাখেন বিছানার নিচে। রাতে অস্ত্র ও গুলি সাথে নিয়েই পায়খানা প্রসাব করার জন্য তাদের বাথরুমে যেতে হয়। সূত্রে আরও জানা গেছে, এখানে পুলিশ সদস্যদের ডিউটি পালনের জন্য সরকারিভাবে কোন যানবাহনের ব্যবস্থা নেই। ক্যাম্পের পুলিশের জন্য একটি বাইসাইকেলও দেয়া হয়নি। এ কারণে তাদের পায়ে হেঁটে ডিউটি পালন করতে হচ্ছে। দূরে কোথাও ডিউটি পালনের জন্য যেতে হলে তাদের নিজের পকেটের টাকায় গাড়ি ভাড়া করতে হয়।
এ ব্যাপারে বাটাজোর আরআরএফ ক্যাম্পের ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক সৈয়দ কবির হোসেন জানান, ক্যাম্পের সমস্যা নিয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা সত্বেও কোন সুফল মেলেনি।
 
জেলা পুলিশ সুপার এস.এম আক্তারুজ্জামান মুঠোফোনে সাংবাদিকদের বলেন, ক্যাম্পটি আসলেই জরাজীর্ন। ক্যাম্পের সংস্কার কাজ করার জন্য স্থানীয় এমপি সাহেবের হস্তক্ষেপে চাওয়া হবে।

এ সম্পর্কিত আরও

Mountain View