জম্মু-কাশ্মির সীমান্তে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলি

প্রকাশিতঃ নভেম্বর ২৩, ২০১৬ at ৩:৫৬ অপরাহ্ণ

564জম্মু-কাশ্মির সীমান্তে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কমপক্ষে ৩ টি এলাকায় ব্যাপক গুলিবর্ষণ শুরু হয়েছে। আজ (বুধবার) সকাল ৯ টা থেকে পাকিস্তানি সেনারা ভিমবের গলি, কৃষ্ণাঘাঁটি এবং নৌসেরা সেক্টরে ভারতীয় সেনাশিবির লক্ষ্য করে গুলি চালালে ভারতীয় সেনারাও পাক সেনা শিবির লক্ষ্য করে পাল্টা গুলিবর্ষণ করছে।

গণমাধ্যম সূত্রে প্রকাশ, পাক সেনারা নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর মর্টার হামলাসহ একনাগাড়ে গুলি চালাচ্ছে। ভারতীয় সেনারাও মর্টার এবং ভারী অস্ত্র ব্যবহার করে পাল্টা জবাব দিচ্ছে।

একটি সূত্রে প্রকাশ, ভারতীয় সেনারা পুঞ্চ, রাজৌরি, কেল এবং মছিল সেক্টরে নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর ১২০ মিলিমিটার মর্টার এবং মেশিনগান ব্যবহার করে পাক শিবিরে হামলা চালিয়েছে।

ভারতীয় সেনাবাহিনী সূত্রকে উদ্ধৃত করে গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, ২০০৩ সালের পরে এটাই ভারতীয় সেনাদের পক্ষ থেকে সবচেয়ে বড় আক্রমণ। ভারতীয় সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে পাকিস্তানি ওইসব শিবিরকে টার্গেট করা হয়েছে যেসব স্থান থেকে গেরিলাদের অনুপ্রবেশ করাতে সাহায্য করা হয়।

মঙ্গলবার পাকিস্তানি সেনা কম্যান্ডোরা নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর কুপওয়াড়ার মছিল সেক্টরে মনোজ কুমার কুশওয়া, প্রভু সিং এবং শশাঙ্ক কুমার সিং নামে ৩ ভারতীয় সেনা জওয়ানকে গুলি করে হত্যা করে। এদের মধ্যে রাজস্থানের বাসিন্দা প্রভু সিং নামে এক জওয়ানের লাশ বিকৃত করা হয় বলে অভিযোগ।

গত অক্টোবরের ২৯ তারিখ মছিল সেক্টরেই পাকাস্তানি হামলায় মনদীপ সিং নামে এক ভারতীয় সেনা জওয়ান নিহত হয়। সেসময় গেরিলারা তার লাশ বিকৃত করে দিয়ে যায় বলে অভিযোগ ওঠে। এভাবে মাত্র সপ্তাহ তিনেকের মধ্যে পুনরায় ভারতীয় সেনার লাশ বিকৃত করার খবরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে একে কাপুরুষোচিত বলে আখ্যা দিয়ে যোগ্য জবাব দেয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেয়া হয়। আজ বিভিন্ন সেক্টরে ভারী মর্টার ও গুলি চালিয়ে পাকিস্তানি আক্রমণের দ্রুত জবাব দেয়া হল বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

২০১৩ সালেও পাক বাহিনীর অতর্কিত হামলায় নিহত হয় ল্যান্স নায়েক হেমরাজ এবং ল্যান্স নায়েক সুধাকর সিং। সে সময়ও দুই সেনার লাশ ছিন্নভিন্ন করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এমনকি ল্যান্স নায়েক হেমরাজের মাথাও কেটে ফেলা হয়েছিল বলে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে ভারত।

পার্সটুডে

এ সম্পর্কিত আরও