Mountain View

ব্যাটিং নিয়ে দিশেহারা খুলনা

প্রকাশিতঃ নভেম্বর ২৩, ২০১৬ at ৫:২৯ অপরাহ্ণ

564ব্যাটিংয়ে প্রথম দশজনের মধ্যেই কেউ নেই, বোলিংয়ে প্রথম চারজনের ভেতরেই আছেন দু’জন_ চলমান বিপিএলে খুলনা টাইটানস যে কীভাবে খেলছে, তা বুঝতে এ তথ্যটাই যথেষ্ট। টসে জয় বা হার, সব ম্যাচেরই শুরুতে ব্যাট করেছে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের দল। কিন্তু নির্ভার অবস্থায় ব্যাটিং করেও বোলারদের ওপরই প্রতিবার ভার বাড়াচ্ছেন ব্যাটসম্যানরা। এখন পর্যন্ত খেলা সাত ম্যাচের দলের গড় রান মাত্র ১২৬ করে। দেড়শ’ পেরোনো গেছে মাত্র দু’বার, সর্বোচ্চ ১৫৭; একটা ম্যাচে আবার মাত্র ৪৪ রানে গুটিয়ে যাওয়া দুঃসহ স্মৃতিও আছে। সব মিলিয়ে ব্যাটিং নিয়ে বেগতিক অবস্থা খুলনার।

অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ নিজেও চিন্তিত দলের এ দুরবস্থা নিয়ে। দুটি ম্যাচে দলের সর্বোচ্চ ইনিংসটা খেলেছেন; কিন্তু যেদিন নিজে পারেননি সেদিন সতীর্থরাও পারেননি। নিকোলাস পুরান, আবদুল মজিদ, রিকি ওয়েসেলস, হাসানুজ্জামান আর আন্দ্রে ফ্লেচারদের অদল-বদল করিয়ে খেলানো ওপেনিং জুটি একবারই মাত্র ৪৫ রানের ভালো ভিত্তি দিতে পেরেছে। দলের হয়ে সবচেয়ে বেশি ১৬৮ রান করা ব্যাটসম্যান এবং অধিনায়ক হিসেবে মাহমুদুল্লাহ এ নিয়ে যেন দিশেহারা, ‘অবশ্যই চিন্তিত(ওপেনিং জুটি নিয়ে)। এখন তো টুর্নামেন্টের মাঝপথে চলে এসেছি। টপ অর্ডারের ব্যাটিং নিয়ে চিন্তা হচ্ছে। বেশ কয়েকটা পরিবর্তন এনেছি। কোনোটাই কাজে দিচ্ছে না।’ চট্টগ্রাম পর্বের বিপিএলে প্রায় প্রতি ম্যাচেই রান উঠেছে। কিন্তু একই মাঠে নেমে গতকালও খুলনা বিশ ওভারে করতে পেরেছে মোটে ১২৫ রান। পাওয়ার প্লের ৩৬ বলে উঠেছে মাত্র ৩৩ রান।

গত তিনটি ম্যাচেই ইনিংসের অনেকটা সময় ধরে ব্যাটিং করেছেন তাইবুর রহমান পারভেজ। ঘরোয়া ক্রিকেটে চার দিনের ম্যাচে তার কিছুটা নামডাক থাকলেও টি২০-তে সেভাবে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারেননি। অথচ সেই তাইবুরের ওপরই বেশি ভরসা করছে খুলনা। গতকালও ৩৭ বল খেলে করেছেন ৩২ রান। আগের দুটি ম্যাচে ১০ বলে ১০ এবং ২২ বলে ২১ করেছেন। স্ট্রাইক রেট তার একশ’র নিচেই থাকছে। প্রতিপক্ষের অসাধারণ বোলিং কিংবা উইকেট নয়, নিজেদের ব্যটিং ব্যর্থতাকেই এর কারণ বলে মনে করছেন রিয়াদ, ‘উইকেট খুবই ভালো ছিল। আমরাই নিজেদের ঠিকভাবে প্রয়োগ করতে পারিনি। কোন বোলারকে কীভাবে খেলতে হবে, সে পরিকল্পনা ঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারিনি। আমাদের আরও আক্রমণাত্মক খেলা উচিত ছিল। কারণ প্রথম ৬টা ওভার গুরুত্বপূর্ণ। আজকের (গতকালের) যে পিচ ছিল ওটা ১৬০ রানের উইকেট ছিল।’ ম্যাচের পর ম্যাচ খুলনার এমন ব্যাটিং ব্যর্থতার কারণ কী, নির্দিষ্ট কোনো পজিশনে খেলার মতো সঠিক খেলোয়াড় কি নেই, কোনো হার্ডহিটার ব্যাটসম্যানের অভাব মনে হচ্ছে কি খুলনার? মালিক কর্তৃপক্ষ কর্তৃক খেলোয়াড় কেনা-সংক্রান্ত প্রশ্ন বলেই হয়তো বর্তমান স্কোয়াড নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে চাইলেন মাহমুদুল্লাহ, ‘আমি এখনও আশাবাদী দল এক ম্যাচে ভালো গতি পেয়ে গেলে ওপেনিং ও টপ অর্ডারের আত্মবিশ্বাস বেড়ে যাবে। না পারার কারণটা সহজ, মারতে যাচ্ছে আউট হয়ে যাচ্ছে। আর আমাদের দলের হিটার তো খারাপ নয়। ফ্লেচার, ওয়েসেলস খুব ভালো মারতে পারে। মজিদ গত দুই বছর ভালো স্কোরার ছিল।

প্রিমিয়ার লীগে খুব ভালো ব্যাট করেছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এখানে ক্লিক করছে না। হাসানুজ্জামান কয়েকটা ম্যাচে ভালো শুরু করেছে। কিন্তু এগিয়ে নিতে পারেনি। আশা করি সব ঠিক হয়ে যাবে।’ খুলনা এবার যে দুটি ম্যাচ হেরেছে উভয়টিই রংপুরের বিপক্ষে। অবশ্য চট্টগ্রামের গতকালের ম্যাচের তুলনায় ঢাকায় খেলা প্রথম ম্যাচটাই ছিল বেশি অস্বস্তির। সেদিন মাত্র ৪৪ রানে অলআউট হয়ে যাওয়ার দুঃসহ অভিজ্ঞতা এখনও তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে খুলনাকে। তবে লজ্জার সেই ইনিংসকে ভালো করার প্রেরণা হিসেবেই নিতে চান টাইটানস অধিনায়ক, ‘(৪৪ রানের) কথা তো মনে ছিলই। সেদিন আমি একটা কথা বলেছিলাম, ইনিংসটা যেন আমরা না ভুলি।

এটা মনে রাখলেই হলো। তাহলে আমরা শিক্ষা নিতে পারব। যদি ভুলে যাই, তবে এ ভুলগুলোই আবার হবে। আজ (গতকাল) যদি একশ চলি্লশের বেশি করতে পারতাম, তবে হয়তো ভিন্ন কিছু করতে পারতাম। বোলাররা ডিফেন্ড করার কিছু পেত। আমাদের বোলিং খুব ভালো হচ্ছে। ব্যাটিংটা আরেকটু ভালো করতে পারলে টিম কম্বিনেশন আরও ভালো হবে।’

এ সম্পর্কিত আরও

Mountain View