ঢাকা : ২৪ আগস্ট, ২০১৭, বৃহস্পতিবার, ৪:১৯ অপরাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

রোহিঙ্গারা রাতের সময়কে পারাপারে অনুকূল মনে করে

564বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ এখনও থামেনি। মিয়ানমার সরকারের বর্বরোচিত নির্যাতনের ফলে সেদেশের শত শত রোহিঙ্গা এদেশে আশ্রয় নেয়ার চেষ্টা করছে। তারা রাতের সময়কে অনুকূল মনে করে পারাপারের চেষ্টা করে।

ইতোমধ্যে প্রায় সহস্রাধিক রোহিঙ্গা টেকনাফের নয়াপাড়া ও উখিয়ার কুতুপালং অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছে। এছাড়াও সীমান্তের বিভিন্ন জঙ্গল ও পাহাড়ের পাদদেশে আশ্রয় নিয়েছে অন্তত সহস্রাধিক রোহিঙ্গা। আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা নারী ও শিশুদের নিয়ে দুর্বিসহ দিনযাপন করছে।

সীমান্ত এলাকার বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্রে এ খবর জানা গেছে।

এদিকে সীমান্ত পাড়ি দেয়ার সময় বুধবার কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে ৪ দালালসহ ৭০ রোহিঙ্গাকে আটক করেছে পুলিশ।

গত সোমবার তমুব্রুর ঘুমধুম সীমান্ত পথে আসা মিয়ানমারের মংডুর জাম্বুনিয়া এলাকার মো:জুবাইর (৬০) বলেন, দশ কিলোমিটার পায়ে হেঁটে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে রাতের আঁধারে উখিয়ার কুতুপালং অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা টাল এলাকার পাহাড়ের পাদদেশে আশ্রয় নিয়েছি। আমার পরিবারের সদস্য সংখ্যা নারী ও শিশুসহ ১১ জন। তিনদিন ধরে শুকনো খাবার খেয়ে কোনরকমে বেঁচে আছি। সন্তান-সন্ততি নিয়ে কিভাবে দিন কাটাবো এ চিন্তায় আছি।

তিনি বলেন, মিয়ানমারে নিজেদের প্রায় দেড় একর বসতভিটাসহ ধানী জমি ছিল। হালের বলদ ছাড়াও গৃহপালিত হাঁস, মুরগী, ক্ষেতখামার ইত্যাদি ছিল। সব হারিয়ে নি:স্ব হয়ে কোনোরকমে পালিয়ে এসেছি পরিবার নিয়ে।

আগে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা বস্তির বাসিন্দা আবু তৈয়ব জানান, সোমবার ভোর রাত থেকে যেসব রোহিঙ্গা সপরিবারে এসেছে, তারা বস্তির বিভিন্ন বাড়িঘরে আশ্রয় নিয়েছে।

মোহাম্মদ হাসেম (৩০) নামের আরেক অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গা জানান, তারা মংডু কেয়ারি পাড়া গ্রামের বাসিন্দা। মিয়ানমারের সেনাসদস্যরা তাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয়ায় ৪০ দিন যাবত বিভিন্ন বন-জঙ্গলে অবস্থান নেয়ার পর প্রায় ৬ মাইল পাহাড়ি পথ অতিক্রম করে উনচিপ্রাং সীমান্ত দিয়ে কুতুপালং বস্তিতে আশ্রয় নিয়েছেন।

সীমান্ত পারের বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, তারা নৌকা ভাড়া করে নাফ নদী পার হয়ে সেখান থেকে গাড়িতে করে কুতুপালং পৌঁছেছেন। তার পরিবারের সদস্য সংখ্যা হচ্ছে ১০ জন। অনুপ্রবেশের সময় তারা এক সঙ্গে ১৫/১৭ পরিবারের শতাধিক রোহিঙ্গা উনচিপ্রাং সীমান্ত দিয়ে এপারে এসেছেন। বর্তমানে উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা টালে আশ্রয় নিয়েছেন। বস্তির বেশ কিছু রোহিঙ্গা তাদের শুকনো খাবার খেতে দিয়েছেন। ভাতের দেখা পাননি এক সপ্তাহ ধরে।

এ সম্পর্কিত আরও

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *