ঢাকা : ২৭ জুন, ২০১৭, মঙ্গলবার, ১১:১০ পূর্বাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

শৈলকুপায় টাকা না পেয়ে আসামিকে শীতে সারারাত খালী গায়ে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ

jabdo_6 ঝিনাইদহের শৈলকুপায় টাকা না পেয়ে ওয়ারেন্টের আসামিকে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে তমালতলা পুলিশ ক্যাম্পের এ,এস,আই সোহেলের বিরুদ্ধে।
জানাযায়, মঙ্গলবার গভীর রাতে দিগনগর ইউনিয়নের অচিন্তপুর গ্রামের ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি সাইফুলকে গ্রেফতার করে তমালতলা পুলিশ ক্যাম্পের এ,এস,আই সোহেল।
এরপর আসামির পরিবারের কাছে মার বাঁচাতে সোহেল মোটা অংকের টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ করেন আসামি সাইফুলের ছেলে সবুজ। তিনি আরো বলেন, এ,এস,আই সোহেল তাদেরকে বলেন, ‘ভোর বেলা টাকা নিয়ে ক্যাম্পে না আসলে বুঝিয়ে দেবে দারোগা সোহেল কি জিনিস’। টাকা দিতে ব্যর্থ হলে এ,এস,আই সোহেল তার পিতাকে বেধড়ক মারপিট করে। এছাড়াও ওই রাতে শীতের মধ্যে খালি গায়ে তার পিতাকে বসিয়ে রাখে। পরে বুধবার দুপুরে আসামি সাইফুলকে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে আদালতে প্রেরণ করে পুলিশ।
আসামির ছোট ভাই আশরাফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, এ,এস,আই সোহেল ভোরে টাকা নিয়ে ক্যাম্পে দেখা করতে বলেন। তিনি ক্যাম্পে পৌছানোর আগেই তার ভাইকে বেধড়ক মারপিট করে। তিনি আরো বলেন, তার ভাইকে পেটানোর সময় এ,এস,আই সোহেল আনন্দ উল্লাসে মেতে উঠে নাচানাচি করে।
গ্রেফতারকৃত আসামি সাইফুলের স্বজন অচিন্তপুর গ্রামের আজিজার লস্কার জানান, তমালতলা ক্যাম্প থেকে আসামী সাইফুলকে থানায় পাঠানোর গাড়ী ভাড়া বাবদ ৫শ’ টাকা পাঠানো হয়। এরপর আসামিকে থানায় আনা হলে পরিবারের লোকজন দেখতে আসে। এসময় এ,এস,আই সোহেল থানায় এসে তাদেরকে হুমকি দিয়ে বলেন, আমি কি ৫শ’ টাকার দারোগা? অচিন্তপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর নামের আরো একজন ওয়ারেন্টের আসামি আছে, ধরতে পারলে তখন সুদে আসলে উসুল করে নেবো। এ দারোগার বিরুদ্ধে এহেন আরো অভিযোগ রয়েছে বলে এলাকাবাসী জানায়।
এ ব্যাপারে তমালতলা পুলিশ ক্যাম্পের এ,এস,আই সোহেল টাকা চাওয়া এবং মারপিটের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন এটা সম্পৃর্ণ ভিত্তিহীন বিষয়। আটকৃত ব্যক্তি মার্ডার কেস মামলার আসামি। তার বিরুদ্ধে জিআর ৩০২/০৯ ও জিআর ১৮৭/১০ পৃথক ২ টি মামলা আছে। সারারাত খালি গায়ে রাখার বিষয়ে বলেন, শীতের কাপড় আনার জন্য নজীর মেম্বারকে খবর দেয়া হয়। তারপর তার বাড়ি থেকে দুটি জ্যাকেট ও একটি মাফলার দিয়ে যায়। কিন্তু মাফলার তো ব্যবহার করতে দেয়া যায় না। আসামি নিয়ে যাওয়া বাবদ ৫শ টাকা নেওয়ার বিষয়টিও তিনি অস্বীকার করে বলে এটা কেউ প্রমান করতে পারবে না।

শৈলকুপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, প্রায় ৭/৮ বছর ধরে সে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠিয়েছে। তবে খালী গায়ে সারারাত রেখে দেয়া ও টাকা দাবির বিষয়টি তিনিও অস্বীকার করে বলেন, এসব কেউ করে নাকি?

তবে সাইফুল কে নির্যাতনের সত্যতা মিলেছে। শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এর উপ-সহকারি কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার আব্দুল হান্নান জানান, বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে অচিন্তপুর গ্রামের মৃত উকিল উদ্দীনের ছেলে সাইফুল ইসলামকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। সে সময় আমার ডিউটি ছিল না। রেজিস্ট্রারে শুধু লেখা আছে পেন। কিন্তু কোথায় ব্যথা, সেটা উল্লেখ করা নেই। এই রোগিটি পুলিশ কেসে এন্ট্রি করা নেই। তাকে ভর্তিও করা হয়নি। আউট ডোরে দেখিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও

Check Also

চিরিরবন্দরের পর এবার খানসামায় হনুমান দেখতে জনতার ঢল।

দিনাজপুর প্রতিনিধি: দিনাজপুরের খানসামায় হনুমান দেখতে জনতার ঢল নেমেছে।চিরিরবন্দর উপজেলায় সফরের পর কয়েকদিন যাবত হনুমানটি …

আপনার-মন্তব্য