ঢাকা : ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, শুক্রবার, ১:৪৭ অপরাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

মুন্সীগঞ্জ আদর্শ মাদ্রাসার কমিটি ও দূর্নীতিবাজ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে তদন্ত কার্যক্রমে ধীরগতি॥ প্রভাবিত করে তদন্ত কার্যক্রম ব্যহত

15202726_1795980103989682_6001694222243416283_nমুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি:বর্তমান ম্যানেজিং কমিটি বিলুপ্তি করণ ও অনিয়ম বিষয়ে তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন প্রেরণ প্রসঙ্গে বিষয়ে স্মারক নং: ০৫.৩০.৫৯০০.২১১.০৬.০২২.১৬ ৩২০ (স) তারিখ: ১৯.০৯.২০১৬ তারিখে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়। কিন্তু উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিষয়টির তদন্ত নিজে না করে উপজেলা শিক্ষা অফিসার আনন্দময় ভৌমিককে দায়িত্ব দেয়া হয়। দায়িত্ব পেয়ে তিনি তার প্রকল্পের একজন অফিসারকে নিয়ে স্বশরীরে তদন্ত করে আসেন কিন্তু অদ্য পর্যন্ত তিনি তদন্ত রিপোর্ট পৌছাননি ইউএনও অফিসে।
উপর্যুক্ত বিষয় ও সূত্রের প্রেক্ষিতে, মুন্সীগঞ্জ আদর্শ আলিম মাদ্রাসা, মুন্সীগঞ্জ সদর, মুন্সীগঞ্জ এর ম্যানেজিং কমিটির নানাবিধ অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন এ কার্যালয়ে দাখিলের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয় এবং সাথে ১৪ ফর্দ কাগজও সংযুক্ত করে দেয়া হয়। কিন্তু সেই তদন্ত রিপোর্ট আজও আলোর মুখ দেখেনি। সদ উপজেলার সকল স্টাফদের কাছে একটি শব্দ আছে আনন্দময় ভৌমিক টাকা ছাড়া কিছুই করেন না। ঘুষ নেয়া হলো তার একমাত্র কাজ। ঘুষ ছাড়া তিনি কোন কাজ করেন না। ঘুষ পেলে ন্যায়কে অন্যায় অন্যায়কে ন্যায় বানানোই হলো তার কাজ।
অপরদিকে সাময়িক বরখাস্তকৃত অধ্যক্ষকে স্থায়ী বরখাস্ত করার বিষয়ে তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন প্রেরণ প্রসঙ্গে একটি নোটিশ যার স্মারক নং ০৫.৩০.৫৯০০.২১১.০৩.০১০.১৬-৩৭৮ (স) ০৭/১১/২০১৬ইং তারিখে দেয়া হয়। এই বিষয়টির দায়িত্ব দেয়া হয় সদর উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিসার হাসান আলীর দায়িত্বে। তিনি ১৭/১১/২০১৬ইং তারিখে একটি চিঠি ইস্যু করেন মাদ্রাসায়। কিন্তু মাদ্রাসার করনিক ও সাময়িক বরখাস্তকৃত অধ্যক্ষ মাহবুবুর রহমান মিলে চিঠিটি গোপন করেন।
হঠাৎ করে সদর প্রাণী সম্পদের অফিসার হাসান আলী মাদ্রাসার তদন্ত করতে গেলে দেখা যায় সাময়িক বরখাস্তৃকত অধ্যক্ষ মাহবুবুর রহমান ও করনিক ইব্রাহীম খলিলই জানেন, অন্য কেউ জানেন না। এমতাবস্থায় তদন্ত কর্মকর্তা তদন্তকালীন সময় তিনি শিক্ষকদেরকে হুমকি দিয়ে বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়ে তার পক্ষে স্বাক্ষী দেয়ার চেষ্টা করেন। তার অনুসারী শিক্ষক নন এমপিওভূক্ত শিক্ষকদেরই কেবল তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষাৎকার দেয়ান। তদন্ত কর্মকর্তাকেও প্রভাবিত করার চেষ্টা করেন। এমন অভিযোগ আন্দোলকারী সকল শিক্ষকদের।
উল্লেখ্য মুন্সীগঞ্জে জামায়াত নেতা বরখাস্তকৃত অধ্যক্ষ মাহবুবুর রহমানকে মোটা অংকের টাকার বিনিময় বে-আইনীভাবে পুন:বহাল করার অভিযোগ উঠেছে। জামায়াত নেতা অধ্যক্ষ মাহবুবুর রহমানের ভাগিনা-ভাতিজি কর্তৃক পর্ণগ্রাফী তৈরী ও বিদেশে পাঁচার করার পর শিক্ষক-শিক্ষার্থী মিলে আন্দোলন করার পর অবৈধ কমিটি প্রাশসনের চাপে দুর্নীতিবাজ ও লম্পট মাহবুবুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করতে বাধ্য হয়। প্রশসনিক তদন্ত শেষ না হতেই অবৈধ ও অধ্যক্ষের পকেট কমিটি তার সাময়িক বরখাস্ত পুন:বহাল করলো। তড়িত গতিতে শনিবার ঢাকায় পকেট কমিটির সভাপতি জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা এ.বি.এম ফজলুল করিমের মালিবাগের বাসায় মিটিং ডেকে ব্লাঙ্ক রেজুলেশনে স্বাক্ষর নিয়ে বরখাস্তকৃত অধ্যক্ষকে পুন:বহাল করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। অধ্যক্ষ মাহবুবুর রহমানের পুন:বহালের খবরটি মুন্সিগঞ্জ শহরে ছড়িয়ে পড়লে এই জামায়াত নিয়ন্ত্রীত কমিটিকে ধিক্কার জানায় স্থানীয় লোকজন। ইয়াতীমখানা ও মাদ্রাসার লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন এই অধ্যক্ষ মাহবুবুর রহমান এমন অভিযোগ হাজার হাজার। ইয়াতীম খানার দানকৃত টাকা নিজের পকেটে ভরে ২টি জমিও ক্রয় করেছেন মুন্সিগঞ্জে। বিভিন্ন অডিটের সময় শিক্ষকদের কাছ থেকে এক মাসের এমপিও নিয়ে গেছেন তিনি। অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছেন তিনি তার জারিমানা দিয়েছেন এমপিওভূক্ত শিক্ষকগণ। বর্তমানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে চাপাক্ষোভ বিরাজ করছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থী ক্লাস বর্জনের মতো পদক্ষেপ নিতে পারে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার আনন্দময় ভৌমিক ঘুষের বিষয়ে অস্বীকার করে বলেন স্কুলের বিভিন্ন পরীক্ষা চলছে সেই কারণে তদন্ত রিপোর্ট দিতে দেরী হচ্ছে। আমি সময় নিয়েছি।
এ বিষয়ে প্রাণী সম্পদক কর্মকর্তা হাসান আলী জানান, ঘটনাস্থলে গিয়েই তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা আমার দায়িত্ব। নিয়মানুযায়ীই আমি তদন্ত কার্যক্রম চালিয়েছি। তদন্তে যে তথ্য বেরিয়ে আসবে সে অনুযায়ীই আমি তদন্ত রিপোর্ট পেশ করবো। কারো দ্বারা প্রভাবিত হওয়ার সুযোগ নেই। এখানে মূল সমস্যা হলো কমিটি। কমিটির লোকজন বেশী সুবিধের নয়। তাদের মধ্যেই সমস্যা বেশী।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুরাইয়া জাহান জানান, আমি ট্রেনিংয়ে আছি। ট্রেনিং শেষে তদন্ত করে আমি রিপোর্ট দিবো।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মোহা: হারুন-অর-রশিদ জানান, দুটি তদন্ত দিয়েছি কিন্তু একটি তদন্তের রিপোর্টও এখনো হাতে পাইনি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ট্রেনিংয়ে রয়েছেন তার সাথে কথা হয়েছে ট্রেনিং শেষ করে আসলেই তদন্ত রিপোর্ট দিয়ে দিবেন।

এ সম্পর্কিত আরও

Check Also

মহেশপুরে শিশু ধর্ষণের ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের,ধর্ষক আটক

মহেশপুর(ঝিনাইদহ)প্রতিনিধি:ঝিনাইদহের মহেশপুরে শিশু ধর্ষণের ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের, ধর্ষককে আটক করে ঝিনাইদহ আদালতে প্রেরণ করেছে …

Mountain View

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *