ঢাকা : ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬, রবিবার, ৬:৩০ পূর্বাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

১০ জেএমবির সদস্যের খোঁজে গোয়েন্দারা

received_703089023187018

নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) দুটি অংশে বিভক্ত। একটি নব্য জেএমবি, অন্যটি পুরনো জেএমবি। নব্য জেএমবি সম্প্রতি গুলশানে হলি আর্টিসানে হামলাসহ একাধিক নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিল। অন্যদিকে, পুরনো জেএমবির সদস্যরা দল গোছাতে সময় পার করছে। একই সঙ্গে তারা বড় ডাকাতি ও ছিনতাইয়ে জড়াচ্ছে।

কমিশনের ভিত্তিতে পেশাদার ডাকাত ও ছিনতাইকারীদের দলে অন্তর্ভুক্ত করছে জেএমবি। কারাগারে থাকাকালে অনেক আসামিকে জেএমবিতে দলভুক্ত করতে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। সম্প্রতি পৃথক কয়েকটি অপারেশনে পুরনো জেএমবির অন্তত ১০ সদস্যকে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদ ও আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এসব তথ্য পায় কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট। গ্রেফতার হওয়া পুরনো জেএমবির ছয় সদস্য এরই মধ্যে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। সেখানে উঠে আসে, জেএমবির এ গ্রুপের সদস্যদের রাজধানী ছাড়াও সাভার, গাজীপুর, নরসিংদীতে একের পর এক ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা। পুরনো জেএমবির একই গ্রুপের আরও অন্তত ১০ সদস্যকে গ্রেফতারের চেষ্টা করছেন গোয়েন্দারা। সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্র থেকে এসব তথ্য জানা যায়। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের ডিসি মুহিবুল ইসলাম সমকালকে বলেন, পুরনো জেএমবির সদস্যরা ডাকাতিতে জড়িয়েছে।

অনেক পেশাদার ডাকাতকে তারা দলে অন্তর্ভুক্ত করেছে। এই দলের আরও কিছু সদস্য পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের এডিসি আবদুল মান্নান বলেন, পেশাদার ডাকাতদের সঙ্গে জেএমবি সদস্যদের কমিশন ভাগাভাগির এক ধরনের চুক্তি থাকে। সেই চুক্তি অনুযায়ী লুণ্ঠিত স্বর্ণালঙ্কার ও মালপত্র ভাগাভাগি হয়। সূত্র জানায়, পুরনো জেএমবিকে শক্তিশালী করতে নেপথ্যে মুখ্য ভূমিকা পালন করছে জঙ্গি সালাউদ্দিন ওরফে সালেহীন। ২০১৪ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ময়মনসিংহের ত্রিশালে

প্রিজনভ্যানে হামলা চালিয়ে জেএমবির সদস্যদের ছিনিয়ে নেওয়ার পর থেকে পলাতক সে। ধারণা করা হচ্ছে, সালেহীন ভারতে পালিয়ে আছে। জেএমবি ডাকাতি ও ছিনতাই করতে যাদের দলভুক্ত করছে, তাদের মধ্যে অনেকেই জানে না_ তারা জেএমবির হয়ে কাজ করছে। তবে শীর্ষ পর্যায়ের ডাকাত ও ছিনতাইকারীরা আগে থেকে অবগত থাকে, তারা জেএমবির দলভুক্ত হয়ে অপারেশনে অংশ নিচ্ছে। সাধারণত লুণ্ঠিত স্বর্ণালঙ্কার ও মালপত্রের ২০-৩০ শতাংশ ডাকাত ও ছিনতাইকারী দলের সদস্যদের আর ৭০-৮০ শতাংশ রেখে দেয় পুরনো জেএমবির সদস্যরা। জানা গেছে, রাজধানী ও আশপাশ এলাকায় বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠানের টাকার চালানকে টার্গেট করে পুরনো জেএমবি। সুযোগমতো তারা এলাকা রেকি করে অপারেশনের জন্য প্রস্তুতি নেয়। এ ছাড়া বিকাশের টাকা লুট করারও টার্গেট করছে তারা। এরই মধ্যে সাভার, আশুলিয়ায় পুরনো জেএমবি বেশ কিছু অপারেশনও করেছে। প্রথম দিকে উত্তরাঞ্চলে পুরনো জেএমবির সদস্যরা ডাকাতি ও ছিনতাই করলেও পরে তারা রাজধানী ও আশপাশ এলাকার জন্য পৃথক কয়েকটি দল তৈরি করে। এই দলের সদস্যরা এরই মধ্যে একাধিক ব্যাংকেও ডাকাতি করেছে।

গত ১৭ অক্টোবর রাজধানীর তেজগাঁও থেকে গ্রেফতার করা হয় পুরনো জেএমবির সদস্য কাশেম ওরফে কাউসার ওরফে কাশু, নাজমুল হাসান নয়ন ওরফে নরেশ, রাশেদ ওরফে কাকলির বাবা, সেন্টু হাওলাদার ওরফে জাহিদ, আবু বক্কর সিদ্দিক ওরফে শুভ্র ওরফে আকাশ, আবদুল বাছেদ ও জুয়েল সরকার ওরফে সোহরাব ওরফে সরকারকে। তাদের কাছ থেকে ৬৭ ভরি স্বর্ণ, ছয় লাখ টাকা, চারটি পিস্তল, পাঁচটি ম্যাগাজিন, ১০ রাউন্ড গুলি, নয়টি চাপাতি, চারটি ল্যাপটপসহ বিভিন্ন লুটের মালপত্র উদ্ধার করা হয়। গত ১৮ জুলাই তেজগাঁওয়ের পশ্চিম নাখালপাড়ায় ৩২৭/১ নম্বর বাড়িতে সেলুন ব্যবসায়ী কাজী মোসতাহের উদ্দিন সেলিমের বাসায় ডাকাতির ঘটনায় তেজগাঁও থানার মামলায় এরই মধ্যে তাদের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। গত ১ জুন দক্ষিণ মহাখালীর জিপি-ক ৩০ নম্বর বাড়িতে ডিশ ব্যবসায়ী মোহাম্মদ রাসেলের বাসায় ডাকাতির ঘটনায় বনানী থানার মামলায়ও তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

রিমান্ড শেষে আদালতে স্বীকারোক্তি দেয় আসামি রাশেদ ওরফে কাকলির বাবা। জবানবন্দিতে সে জানায়, তার বাড়ি ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায়। ২০০৪ সালে ঢাকায় আসে সে। সাভারের নবীনগরে সে গেঞ্জি বিক্রি করত। এ সময় তার সঙ্গে পরিচয় হয় জঙ্গি হিমেলের। জেএমবির সদস্য হিমেলই রাশেদকে সংগঠনের জন্য ডাকাতির দলে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। গত বছর দলে যোগ দেয় রাশেদ। তারা গত রমজানের আগে নরসিংদীতে একটি ডাকাতি করে। জবানবন্দিতে রাশেদ জানায়, সে আশুলিয়া এলাকায় থাকত। সেখান থেকে এসে তেজগাঁওয়ের ডাকাতিতে অংশ নেয়। অপারেশনে তাদের সঙ্গে ছিল নয়ন, তুষার, অপু, হিমেল, কাওসার ও আলমগীর। ডাকাতির পর লুণ্ঠিত মালপত্রের ভাগ চায় সে। তখন নেতারা জানায়, লুণ্ঠিত মালপত্রের বড় অংশ সংগঠনের কাজে দেওয়া হবে। কিছু অংশ পরে তাকে দেওয়া হবে।

গত ২৩ অক্টোবর কাউসার বনানী থানার ডাকাতি মামলায়ও পৃথক আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। জবানবন্দিতে সে জানায়, তুষারের মাধ্যমে ডাকাত দলে যোগ দেয় নাজমুল নয়ন। নয়ন ছাড়াও আলমগীর, অপু, হিমেলের সঙ্গে কাউসারের পরিচয় হয়। ডাকাতির আগে নয়নের দায়িত্ব ছিল বাসা রেকি করা। ভাড়া নেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন বাসায় যেত সে। গত ১ জুন সন্ধ্যা ৭টার দিকে তারা দক্ষিণ মহাখালীতে ডিশ ব্যবসায়ী মোহাম্মদ রাসেলের বাসায় গিয়ে কলিংবেল চাপ দেয়। দরজা খুলতেই সবাইকে জিম্মি করে ফেলে। এ সময় তাদের কাছে দুটি পিস্তল ও চাপাতি ছিল। এরপর মালপত্র লুট করে চলে যায় তারা। লুণ্ঠিত মালপত্র কাউসারের কাছে ছিল। জবানবন্দিতে আবদুল বাছেদ জানায়, তার বাড়িও ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায়। হিমেলের মাধ্যমে এই দলে যোগ দেয় সে। নিজ এলাকায় দিনমজুরের কাজ করত বাছেদ। ঢাকায় আসে কাজের সন্ধানে। হিমেল তাকে ‘ইসলামের জন্য টাকা সংগ্রহের’ কাজ দেওয়ার কথা বলে। বাছেদকে বোঝানো হয়, লুট করলে তা ইসলামের কাজে দিলে পাপ নয়, উল্টো সওয়াব হবে। একই সঙ্গে নিজের অর্থকষ্টও থাকবে না। একই মামলায় আদালতে স্বীকারোক্তি দেয় আসামি আবু বকর সিদ্দিকও। তার বাড়িও ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায়।

এ সম্পর্কিত আরও

Check Also

‍‘আগামী দিনে উন্নত বাংলাদেশ গড়বে এদেশের মেধাবী সন্তানেরা’

আমাদের মেধাবী সন্তানেরা আগামী দিনে বাংলাদেশ কে মধ্যম আয়ের দেশ থেকে উন্নত বাংলাদেশে এগিয়ে নিয়ে …

Mountain View

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *