Mountain View

আবদুর রাজ্জাকের উপর এমন অবিচার কেন?

প্রকাশিতঃ নভেম্বর ২৪, ২০১৬ at ৬:৩৩ অপরাহ্ণ

আবদুর রাজ্জাক। বাংলাদেশ ক্রিকেটের একজন উজ্জ্বল তারা। মোহাম্মদ রফিকের সময় থেকেই দলে নিয়মিত হয়ে দলকে একের পর এক সাফল্য এনে দিয়েছেন, হয়েছেন দেশ সেরা স্পিনার বোলার। ২০০৪ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত নিয়মিত ক্রিকেট খেলে ওয়ানডেতে মাত্র ১৫৩ ম্যাচে ২০৭ উইকেট শিকার করেছেন। দেশের হয়ে ম্যাচে সর্বোচ্চ ৪ বার ৫ উইকেট শিকারী বোলারও তিনি। শেষের দিকে ব্যাট হাতেও দূর্দান্ত ছিলেন তিনি।

টেস্টে কিছুটা বিবর্ণ হলেও টি২০ ম্যাচেই আবার ওয়ানডের মতো দূর্দান্ত বোলিং করেছেন। ৩৪টি ম্যাচ খেলে ৪৪ উইকেট শিকার করেছেন।

দীর্ঘ ১০ বৎসর ক্রিকেট খেলে যিনি দেশের সেরা স্পিনার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন এবং বিশ্বসেরা হওয়ার একটা সময় যখন তার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে, ঠিক তখনই ক্রিকেটীয় কোন কারণ ছাড়াই ছুড়ে ফেলা নীতি অবলম্বন করে রাজ্জাককে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে ২০১৫ সালের বিশ্বকাপ থেকে। সেই থেকে এখন পর্যন্ত দলে নেই রাজ্জাক। তাকে বাদ দেওয়ার কোন কোন সুস্পষ্ট কারণও ব্যাখ্যা করেনি নির্বাচকরা।

তরুনদের সুযোগ করে দেওয়ার একটা বিষয় থাকলেও রাজ্জাক বুড়ো হয়ে যায়নি। ফর্মও তেমন খারাপ যায়নি যে, দল থেকে বাদ দিতে হবে একেবারে। সর্বশেষ ১২টি ওয়ানডেতে ১ উইকেট বেস্টে ৭ উইকেট পাওয়াটা বাদ পড়ার একটা কারণ হলেও বাংলাদেশের মতো একটা উঠতি দলের এমন একজন বিশ্বমানের অভিজ্ঞ বোলারকে ছুড়ে ফেলার মতো অবস্থা কখনোই তৈরী হয়নি।

ব্যাটিং বোলিংয়ে যখন দলটা একটা অভিজ্ঞ ও শক্তিশালী দলে পরিণত হচ্ছে, ঠিক তখনই রাজ্জাককে বসিয়ে দেওয়া হলো। অবশ্য এরপর দল অনেক সাফল্য পেলেও রাজ্জাকের জায়গাটা কেউ পূরণ করতে পারেনি। রাজ্জাককে বসিয়ে আরাফাত সানিকে খেলালেও নিষেধাজ্ঞার কারনে বাদ পড়ে আর দলে ফিরতে পারেননি সানিও।

একটি উঠতি দলের জন্য রাজ্জাকের মতো গুরুত্বপূর্ণ এবং অভিজ্ঞ বোলারের কোন বিকল্প নেই। এখনো তৈরীও হয়নি। এক আশরাফুল এর বিকল্প তৈরী করতে সময় লেগেছে দীর্ঘ ১২/১৩ বৎসর (ওয়ানডেতে ৩ পজিশনে সাব্বির ও টেস্টে ৩ পজিশনে মোমিনুল)। আর আড়াই বৎসর ধরে বাদ পড়ে থাকা রাজ্জাকের বিকল্প তৈরী করতে কত সময় লাগবে, তা সময়ই বলে দেবে।

রাজ্জাককে বসিয়ে রাখার সঠিক কারণ কি তা কেউ জানে না। ফর্মের কারনে বাদ পড়লে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলেই দলে ফেরার সুযোগ থাকে। সেই ঘরোয়া লীগে রাজ্জাক উইকেটের বন্যা বইয়ে দিয়েছেন এই দুই বৎসরে। তবুও নির্বাচকদের মন গলাতে না পারার কারনে, রাজ্জাককে ছুড়ে ফেলা হয়েছে একেবারে, এটাই এখন প্রমাণিত হয়েছে।

ধারাবাহিক সাফল্য পেতে শুরু করা একটি দলের জন্য রাজ্জাকের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারকে বসিয়ে রাখা কখনোই শুভ নয়। এমনটা যদি নিয়ম হতো তাহলে ক্রিকেট বিশ্ব পেতো না লিজেন্ড মুরালিধরণ, সাকলাইন মুস্তাক, হরভজন সিংহ সহ অসংখ্য স্পিনারকে।

বর্তমানের শক্তিশালী বাংলাদেশ দলকে আরো শক্তিশালী করার জন্যই রাজ্জাককে ওয়ানডে/টি২০ দলে প্রয়োজন। নির্বাচকরা এই বাস্তবতাটুকু বুঝে আশা করবো রাজ্জাককে দলে ফেরাবেন। ক্রিকেটপ্রেমীদের এটাই চাওয়া।

এ সম্পর্কিত আরও

Mountain View