Mountain View

নন-ক্যাডারে নিয়োগের অপেক্ষায় মানবেতর জীবন চাকুরীপ্রত্যাশীদের

প্রকাশিতঃ নভেম্বর ২৪, ২০১৬ at ৩:১৪ অপরাহ্ণ

bcs-non-cader

জাহিদুল ইসলাম : কেবলই ২/১ নম্বর এদিক সেদিক। না হলে বিসিএস ক্যাডার আর নন ক্যাডারদের মাঝে তফাৎ নেই বললেই চলে। প্রাক বাছাই -লিখিত ও ভাইভা তিনটি স্টেপ পেরিয়ে আসা যে কেউই সিভিল সার্ভিসের জন্য যোগ্য তাতে সন্দেহের কোন অবকাশ নেই। অথচ ভাগ্যবিধাতা শেষ মূহুর্তে এসে না হাসায় কেউ হয়ে যান বিসিএস ক্যাডার আবার কাউকে হতে হয় বিসিএস নন ক্যাডার। সেই নন ক্যাডারের জন্য যখন অনির্দিষ্ট কালের জন্য অপেক্ষায় থাকতে হয় বোঝতেই পারেন ভাগ্যাহতদের বেদনা কতটা তীব্রতর হতে পারে।

বেশ কয়েকটি ভাইভা পরীক্ষা দিয়ে অনেকেই আছেন যাদের জন্য ৩৫ তম বিসিএস ছিলো শেষ সুযোগ তাদের অনেকেই মানবেতর জীবন-যাপন করছে। কবে অাসবে সেই সুপারিশ। যথেষ্ট সংখ্যক শুন্যপদ খালি থাকলেও কেন এই কালবিলম্ব? সরকার যেখানে আন্তরিক। প্রধানমন্ত্রী যেখানে ইতিবাচক দিক নির্দেশনা দিয়ে দিয়েছেন সেখানে কেন পিএসসির স্থবিরতা?

খবর নিয়ে জানা যায়,  বিসিএস ক্যাডার ও নন-ক্যাডারসহ সব শূন্য পদে নিয়োগপ্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্নের জন্য গত ৩১ অক্টোবর সুপারিশ করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। বৈঠকে কমিটিকে জানানো হয়, নতুন সৃষ্টপদ বা শূন্য পদে সরকারি কর্মকমিশনের সুপারিশের আলোকে জনবল নিয়োগ করা হচ্ছে। এ ছাড়া মন্ত্রণালয় ও বিভাগের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে নবম ও দশম গ্রেডে নিয়মিতভাবে জনবল নিয়োগ জনপ্রশাসনের একটি চলমান কার্যক্রম। বৈঠকে সরকারের জনবল সম্পর্কে নানা প্রসঙ্গ আলোচিত হলেও নন-ক্যাডারদের প্রথম শ্রেণির চাকরি পাওয়া বা পদায়ন বিষয়ে কোনো আলোকপাত ছিল না। অথচ সরকারের ৬১টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ, ৩৫১টি অধিদপ্তর বা পরিদপ্তর রয়েছে।

এসব মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও অধিদপ্তরে অনুমোদিত জনবলের মধ্যে কর্মরত জনবলের সংখ্যা ১৩ লাখের কিছু ওপরে। অন্যদিকে শূন্য পদের সংখ্যা তিন লাখের চেয়ে বেশি। শূন্য পদের সংখ্যা নবম গ্রেডে (প্রথম শ্রেণি) ৩৯ হাজার ৫৬৪, দশম-দ্বাদশ গ্রেডে (দ্বিতীয় শ্রেণি) ৩০ হাজার ৪২২। উল্লেখ্য, গত ১১ আগস্ট একটি পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্য এবং মন্ত্রণালয়গুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নন-ক্যাডার প্রথম শ্রেণির ৩৯ হাজার ৫৬৪টি ও দ্বিতীয় শ্রেণির ৩০ হাজার ৪২২টি পদ শূন্য রয়েছে। কিন্তু মন্ত্রণালয়গুলো পিএসসিতে চাহিদা না পাঠানোয় বিসিএস-উত্তীর্ণ বিপুলসংখ্যক প্রার্থী নিয়োগ পাচ্ছে না। তাদের দুর্বিষহ দিন কাটাতে হচ্ছে।

‘নন-ক্যাডার’প্রাপ্তরা নিজেদের বঞ্চিত মনে করছে। ৩৫তম বিসিএসে যারা এ অবস্থার শিকার তারা নিজেদের হতাশাকে কোথাও প্রকাশ করার সুযোগ পাচ্ছে না। নিজেদের মনের দুঃখ ফেসবুকে লিখে শেয়ার করছে। কিন্তু সরকারের কোনো একটা তরফ থেকেও সান্ত্বনার বাণী পাচ্ছে না। তারা বলতে চাচ্ছে, কষ্ট করে বিসিএসের প্রাথমিক, লিখিত ও শেষে মৌখিক পরীক্ষা—এই তিন ধাপে যোগ্যতা প্রদর্শন করেও মা-বাবার মুখে হাসি ফোটাতে পারছে না। উপরন্তু আছে বিভিন্ন স্তরের কোটা বা সংরক্ষিত পদের সংখ্যা। ফলে নন-ক্যাডার থেকে প্রথম শ্রেণির পদ পাওয়া বেশ কঠিন।

তাই যোগ্যতা প্রমাণের পরও দেশের মেধাবী এই চাকরীপ্রত্যাশীদের ঝুলিয়ে রাখার কোন অর্থ নেই। পিএসসির উচিৎ সরকারে নির্দেশনা যত দ্রত সম্ভব বাস্তবায়ন করা।

এ সম্পর্কিত আরও

আপনিও লিখুন .. ফিচার কিংবা মতামত বিভাগে লেখা পাঠান [email protected] এই ইমেইল ঠিকানায়
সারাদেশ বিভাগে সংবাদকর্মী নেয়া হচ্ছে। আজই যোগাযোগ করুন আমাদের অফিশিয়াল ফেসবুকের ইনবক্সে।