ঢাকা : ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬, মঙ্গলবার, ১১:৫৭ পূর্বাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

ভক্তদের আশা আরো দশ বৎসর ক্রিকেট খেলবেন আশরাফুল

images

বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাস বেশিদিনের নয়। ১৯৮৬ সাল থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেললেও ২০০০ সালে টেস্ট স্ট্যাটাস প্রাপ্তির মধ্য দিয়ে ক্রিকেটে পূর্ণতা পায় বাংলাদেশ। ২০০১ সালেই এক বিস্ময় বালকের আগমন বাংলাদেশ ক্রিকেটে। অভিষেকেই খেললেন ১১৪ রানের দূর্দান্ত ইনিংস। সেই থেকে শুরু তারপর ওয়ানডেতে একে একে জিম্বাবুয়ে, অষ্ট্রোলিয়া, আফ্রিকা, শ্রীলংকা, নিউজিল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে দূর্দান্ত ক্রিকেট খেলে দলকে জয়ের স্বাদ পাইয়ে দিয়েছেন। ভারতের সাথে টেস্টে ১৫৮ রানের দূর্দান্ত ইনিংস খেলে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশও পারে তা প্রমাণ করেছেন। তিনি মোহাম্মদ আশরাফুল। যাকে আশার ফুল নামে ডাকা হয়।

উপরোক্ত সাফল্যগুলো আশরাফুল ভক্তদের মনে অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করলেও সমালোচকরা আশরাফুলকে বিচার করেন ভিন্ন দৃষ্টিতে। ওরা আশরাফুলের এভারেজ ভালো নয়, নিয়মিত রান করতে পারে না এবং সর্বশেষ ফিক্সিং কান্ড দিয়েই আশরাফুল এর বহু সাফল্যকে অম্লান করে দিতে চান।

২০০০ সালের অবস্থান থেকে বিবেচনা করলে ক্রিকেট বিশ্বের ছোট্ট একটি দলের সদস্য হিসেবে তখনকার বিশ্বসেরা বোলার মুরালিধরণ, সামিন্দা ভাসদের বিরুদ্ধে সেঞ্চুরী করা চাট্টিখানি কথা নয়, একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারকারী অজিদের বিরুদ্ধে কার্ডিফ কাব্য কিংবা ক্রিকেটের জনক ইংল্যান্ড এর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক ইনিংস, শ্রীলংকা, নিউজিল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ সহ আরো কিছু ছোট দলের বিরুদ্ধের ইনিংসগুলোই আশরাফুলকে বাংলাদেশ ক্রিকেটে অমর করে রাখার জন্য যথেষ্ট। কেননা একটি ছোট দলের ক্রিকেট এবং ভক্তদের জন্য এগুলো ছিলো বিশাল কিছু।

তখনকার সময়ে বাংলাদেশ ক্রিকেটের অবস্থান এবং অজি ক্রিকেটের অবস্থান বিবেচনায় একটি কার্ডিফ জয়ের আনন্দ ছিলো বিশ্বকাপ জয়ের সমান। আমি নিশ্চিত ২০০৫ সালে কার্ডিফ জয়ে সারা দেশবাসী একত্রে যে উল্লাস করেছিল এবং সারা ক্রিকেট বিশ্বে যে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল, এটার পুনরাবৃত্তি ঘটাতে গেলে একটি বিশ্বকাপ জিততে হবে বাংলাদেশকে।

এতসব সাফল্যের ধারাবাহিকতায় হয়েছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক। পুরোপুরি সফল কিংবা ব্যর্থ এমন হিসাবের সময় আসার আগেই পুচকে আয়ারল্যান্ডের সাথে টি২০ বিশ্বকাপে হেরে দ্বিতীয়সারির ক্যারিবিয়ান দলের সাথে সিরিজ খেলবে নিশ্চিত হয়েও আশরাফুলকে আর কোন সুযোগ না দিয়ে অধিনায়কত্ব কেড়ে নেওয়া হয়। তারপর সাধারণ ক্রিকেটার হিসেবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরেও দারুন খেলেছেন আশরাফুল।

সবশেষে ২০১৩ সালে শ্রীলংকার বিরুদ্ধে ১৯০ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলার আগেই বিপিএল কেলেংকারিতে জড়িয়ে পরবর্তীতে নিষিদ্ধ হয়ে ক্রিকেটের বাহিরে আশরাফুল। দীর্ঘদিন পর নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিরলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট এবং বিপিএল এর মতো টুর্নামেন্টগুলোতে এখনো বিবেচিত হবেন না আশরাফুল যা ভক্তদের জন্য হতাশাজনকই বটে।

আশরাফুল এর ফিরে আসা নিয়ে ভক্তদের ভাবনা কি, তা জানার জন্য কথা হয় বেশ কয়েকজন আশরাফুল ভক্তের সাথে। সকলেরই একই কথা। আপাতত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বিবেচিত না হলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে দূর্দান্ত খেলে বিসিবির মন গলিয়ে কিংবা পুরো নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে সদর্পে ফিরবেন ক্রিকেটের মূল স্রোতে। বর্তমান বয়স ৩২ বৎসর। আরো ১০ বৎসর অনাসায়েই ক্রিকেট মাঠ ধাপিয়ে বেড়াবেন আশরাফুল, হউক সেটা ঘরোয়া/বিপিএল কিংবা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, আমরা আশরাফুলকে মাঠে দেখতে চাই, এমনটাই প্রত্যাশা ভক্তদের। আশরাফুল নিজেও পাকিস্তানের টেস্ট অধিনায়ক মিসবাহ উল হককে অনুপ্রেরণা হিসেবে নিয়েছেন। ভক্তরাও মনে করেন মিসবাহ উল হক যদি ৪২ বৎসর বয়সেও ক্রিকেট খেলতে পারেন, তাহলে আশরাফুলও পারবেন। আশরাফুল এর ফিটনেসও ভালো আছে।

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক এবং লিটল মাস্টার আশরাফুল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেই ক্রিকেটকে বিদায় জানাবেন, এটাই ভক্তদের প্রত্যাশা। বাংলাদেশ ক্রিকেটে এতো অবদান রাখার পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পুনরায় দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করবেন আশরাফুল, দেশের ক্রিকেট থেকে অবশ্যই আশরাফুল এটা ডিজার্ভ করে।

এ সম্পর্কিত আরও

Check Also

received_1737944703193732

সরকার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে দিচ্ছে কিন্তু ইয়াবা ফেরাচ্ছে না

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম বলেছেন, সরকার …

Mountain View

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *