Mountain View

গেইলকে নিয়ে মুশফিকের ব্যাপক দুষ্টুমি!

প্রকাশিতঃ নভেম্বর ২৫, ২০১৬ at ১১:২৫ পূর্বাহ্ণ

gyl-mushiস্পোর্টস ডেস্ক: এককথায় দুর্দান্ত। এমন বিপিএল আগে হয়নি। যত মৌসুম যাচ্ছে, ততই যেন পূরণ হচ্ছে বিপিএলের উদ্দেশ্য। খেলোয়াড়দের মুখে বিজ্ঞাপনের ভাষা, ‘এমন বিপিএলই তো চেয়েছিলাম!’ এবারের বিপিএল নিয়ে এতটা উচ্ছ্বাসের কারণ স্থানীয় খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স। এখন পর্যন্ত সেরা ১০ ব্যাটসম্যানের আটজনই বাংলাদেশের। শুধু সপ্তম এবং দশম স্থানে আছেন আফগানিস্তানের দুই ক্রিকেটার মোহাম্মদ শাহজাদ ও মোহাম্মদ নবী। ৭ ম্যাচে ২৪৪ রান করে সবার ওপরে ঢাকা ডায়নামাইটসের মেহেদী মারুফ। সেরা বোলারদের তালিকায়ও বিদেশিদের একক আধিপত্য এবার নেই। নবীর সঙ্গে সর্বোচ্চ ১৪ উইকেট পেয়েছেন ঢাকার পেসার মোহাম্মদ শহীদও। তাঁকে নিয়ে সেরা এগারোয় স্থানীয় বোলার ছয়জন।

বরিশাল বুলস অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের দৃষ্টিতে এটাই এবারের বিপিএলের সবচেয়ে উজ্জ্বল দিক, ‘এখন পর্যন্ত এবারের বিপিএলের সবচেয়ে ভালো দিক হলো আমাদের দেশের খেলোয়াড়েরা ভালো খেলছে। আমার মতে, যে দলের স্থানীয় খেলোয়াড়েরা ভালো খেলবে, সে দলই ম্যাচ জিতবে।’ মুশফিক নিজেই এর বড় উদাহরণ। ৭ ম্যাচে ২৩৬ করে এখন পর্যন্ত বিপিএলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান তাঁর।

চিটাগং ভাইকিংস অধিনায়ক তামিম ইকবাল, বরিশালে মুশফিকের সতীর্থ শাহরিয়ার নাফীস, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের ইমরুল কায়েস—স্থানীয়দের উজ্জ্বল পারফরম্যান্স এবারের বিপিএলকে আরও বেশি সফল করে তুলছে বলে মনে তাঁরা নিজেরাই। শাহরিয়ারের ভাষায়, ‘নতুন বলেন, পুরোনো বলেন স্থানীয় খেলোয়াড়েরা এবার বেশি আধিপত্য দেখাচ্ছে। বিপিএলের উদ্দেশ্য ছিল স্থানীয় খেলোয়াড়দের তুলে আনা।

চতুর্থ আসরে তা কিছুটা হলেও সার্থক।’ উল্টোটাও আছে। সৌম্য সরকার বিপিএলেও ফিরে পাননি হারানো ফর্ম। সাকিব আল হাসানের কাছ থেকেও প্রত্যাশা ছিল আরেকটু বেশি। জাতীয় দল এবং এর আশপাশের আরও কয়েকজন খেলোয়াড়ও এখনো মেলে ধরতে পারেননি নিজেদের। চিটাগং ভাইকিংস অধিনায়ক তামিম ইকবালের চোখে অবশ্য এটি কোনো সমস্যাই নয়, ‘কয়েকজন খেলোয়াড়ই সব সময় ভালো খেলবে, এমন কোনো কথা নেই। ঘুরেফিরে সবাই ভালো খেলবে, খারাপ খেলবে, এটাই তো হওয়ার কথা! আমি এটাকে কোনো সমস্যাই মনে করি না। যারা ভালো করছে না, তারা নিশ্চয়ই তাদের সমস্যা নিয়ে কাজ করছে।’ এবারের বিপিএলে এখন পর্যন্ত একটাই হতাশার দিক দেখছেন তামিম, ‘অন্যবারের তুলনায় এবার গ্যালারিতে দর্শক একটু কম হচ্ছে। এটাই একমাত্র নেতিবাচক দিক।

এটা ঠিক থাকলে এবারের বিপিএলকে আমি সেরা বিপিএল বলতাম।’ ইমরুলের হতাশাও এই জায়গাতেই, ‘এবার সব ঠিক আছে, শুধু দর্শক কম হচ্ছে। এদিক দিয়ে প্রথম বিপিএল অনেক বেশি জমজমাট হয়েছিল।’ তবে শাহরিয়ার বাস্তবতা মেনে নিয়ে এই দর্শকেই সন্তুষ্ট, ‘আমার তো মনে হয় না দর্শক কম হচ্ছে। সব ম্যাচে তো আর গ্যালারিভর্তি দর্শক থাকবে না! রাতের ম্যাচগুলোয় তো ঠিকই দর্শক আসছে খেলা দেখতে।’ শাহরিয়ারের সঙ্গে একমত তাঁর অধিনায়ক মুশফিকও। দর্শক নিয়ে অতৃপ্তিটা আজ থেকে থাকবে না বলে তাঁর বিশ্বাস, ‘চট্টগ্রামে অনেক দর্শক ছিল।

ঢাকায় একটু কম থাকলেও এখন থেকে নিশ্চয়ই গ্যালারি ভরবে। গেইল আসছে না!’ চট্টগ্রাম পর্বের পর দুই দিনের বিরতি শেষে আজ থেকে ঢাকায় আবার বিপিএলের খেলা। শেষ কথাটা কি বিদেশিদের নিয়ে একটু দুষ্টুমি করেই বললেন বাংলাদেশ দলের টেস্ট অধিনায়ক? আজ ঢাকায় আসবেন ক্রিস গেইল, চিটাগংয়ের হয়ে পরশুই তাঁর মাঠে নামার কথা। বাতাসে গেইল-ঝড়ের গন্ধ। কিন্তু বিপিএল যে তার আগেই চলে গেছে স্থানীয়দের দখলে!-প্রথম আলো

এ সম্পর্কিত আরও