ঢাকা : ২৬ জুলাই, ২০১৭, বুধবার, ১২:৩৮ অপরাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

হঠাৎ এবারের বিপিএলে কি হোল সাকিবের!

rtht-768x449

ঢাকা ডায়নামাইটস সাত ম্যাচে চার জয়ে পয়েন্ট তালিকার ৩ নম্বরে আছে। তাতে দল বদলে হইচই ফেলে দেওয়া হেভিওয়েটরা শিরোপা রেসে টিকেও আছে ভালোমতো। কিন্তু অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের একি দশা! সাত ম্যাচে করেছেন মোটে ৯৩ রান, বোলিংয়ে মাত্র ৫ উইকেট সাকিবের। এ পর্যন্ত সফলতম ব্যাটসম্যানদের তালিকার ২৮ নম্বরে ঝুলে আছেন তিনি আর বোলিংয়ে ২৪তম।

তাতে অলরাউন্ডারের গ্রেস নম্বর দিয়েও ওপরের দিকে টেনে তোলা যাচ্ছে না সাকিবকে। এমন নয় যে বিশ্ব ক্রিকেটের রথী-মহারথীরা রাজত্ব করছেন এবারের বিপিএলে, সাকিবের চেয়ে বেশি রান আছে ১৭ বাংলাদেশির, যাঁদের কেউ কেউ জাতীয় দলের চৌহদ্দিতেই নেই। বোলিংয়েও তাই, ১৪ বাংলাদেশি বোলার ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে পেছনে ফেলেছেন সাকিবকে।

পুল পর্বের অর্ধেক শেষে দল গঠনের পর সবচেয়ে লো প্রোফাইল রংপুর রাইডার্সকে শীর্ষে দেখে অনেকেই বিস্মিত। তবু দলীয় খেলায় এমনটা হতেই পারে, গতবার ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে লিস্টারও করে দেখিয়েছে। কিন্তু ক্রিকেটে দলের ব্যর্থতায়ও ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে জ্বলে ওঠার অসংখ্য উদাহরণ আছে। বাংলাদেশ যখন নিয়ম করে হারত, সে সময়ই ব্যক্তিগত নৈপুণ্য দিয়ে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার হয়েছিলেন সাকিব আল হাসান। সেই তাঁকেই কিনা এবার আঁতিপাঁতি করে খুঁজতে হচ্ছে ব্যাটসম্যান-বোলারদের তালিকায়! রংপুর রাইডার্সের শীর্ষে চড়ার চেয়ে সাকিবের এভাবে তলানিতে চলে যাওয়াও কম বিস্ময়কর নয়, একটু বেশি-ই।

এ তো আর অন্যদের সঙ্গে প্লে স্টেশন খেলা নয়। ফর্ম নিয়ে সাকিবের নিজেরও উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ রয়েছে। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে তাঁর ব্যাটিং ও বোলিং গড় যথাক্রমে ২৩.৯৭ ও ২০.৩৩। সেখানে এবারের বিপিএলে যথাক্রমে ১৫.৫০ ও ৩০.৮০। আগের তিনটি বিপিএলেও ব্যাটে-বলে সুসময়ই পার করেছেন সাকিব। ২০১২ সালের প্রথম বিপিএলে ব্যাটে-বলের গড় ছিল ৪০ ও ১৯.৯৩। পরের বার সেটার উন্নতি হয়েছিল আরো ৩২.৯০ ও ১৯.৩৩। তৃতীয় আসরে ব্যাটিংটা (১৭.০০) ভালো না হলেও তিনি পুষিয়ে দিয়েছিলেন বোলিংয়ে (১৪.৫৫)।

এবার যেন পুরো উল্টোযাত্রা। ব্যাটে ম্যাচ জেতানো ইনিংস নেই, উল্টো ভরাডুবির গল্প আছে বোলিংয়ে। চট্টগ্রামে নিজেদের শেষ ম্যাচে যেমন রাজশাহী কিংসের বিপক্ষে ১৮২ রান করেও হেরেছে ঢাকা ডায়নামাইটস। সামিট প্যাটেলকে ভুলের ফাঁদে ফেলতে গিয়ে উল্টো তিনটা ছক্কা জোটে সাকিবের ভাগ্যে, ম্যাচ হারে ঢাকা। ব্যাটিংয়েও কেমন যেন অনিশ্চিত সাকিব। ৩ নম্বরে ব্যাটিং শুরু করলেও পাঁচ হয়ে পঞ্চম ম্যাচ থেকে তিনি ব্যাট করছেন ছয়ে!

তবে কি ঠিকঠাক মন লাগিয়ে খেলছেন না সাকিব? ‘কী যে বলেন, দারুণ ইনভলভড। চেষ্টাও করছে। কিন্তু হচ্ছে না’, গতকাল দুপুরে একাডেমি মাঠে প্র্যাকটিসের ফাঁকে বলছিলেন ঢাকার কোচ খালেদ মাহমুদ। সাকিব কষ্ট করছেন না, সে অপবাদ দেওয়ারও সুযোগ নেই। ইদানীং এমনিতেই খাটাখাটনি বাড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি নিজেও বিশ্বাস করেন যে বয়সের সঙ্গে সঙ্গে পরিশ্রমও বাড়ানো জরুরি। এবার আসর শুরুর আগেই যেমন মিরপুরের জিমে একা ঘাম ঝরাতে দেখা গেছে সাকিবকে। গতকালও ঢাকার ক্রিকেটারদের একাডেমিতে প্রবেশের মিছিলে তিনি নেই। যখন এলেন, তখন দীর্ঘ নেটের ঘামে ভেজা শরীর। বোঝা গেল আরো আগে ইনডোরে লম্বা নেট করেছেন সাকিব।

কোচ যখন, তখন ব্যাটিং অর্ডারে সাকিবের ওঠা-নামার ব্যাখ্যাটা মাহমুদের কাছে আশা করাই যায়। এ তো আর গোপন কিছু নয় যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ওপরের দিকে ব্যাট করতে বেশি আগ্রহী সাকিব। সেখানে তিন থেকে দ্রুত ৬ নম্বরে কেন নেমে এলেন ঢাকার অধিনায়ক? মাহমুদ উত্তরটা এড়িয়ে গিয়ে শুধু বললেন, ‘ওকে আবার তিনে খেলানোর কথা ভাবা হচ্ছে।’

সুদূর অস্ট্রেলিয়া থেকে বিপিএলে একটা চোখ রাখার কথা জাতীয় দলের কোচ চন্দিকা হাতুরাসিংহের। কী ভাবছেন তিনি? মিটিমিটি হাসছেন কি? সাকিবকে ৬ নম্বরে নামানো নিয়ে প্রায়ই জবরদস্তি করেন তিনি। বহুমুখী দরকষাকষির পর ৫ নম্বর জায়গাটা পেয়েছেন সাকিব। বিপিএলে সাকিবের ব্যাটিং অর্ডার দেখে না আবার পুরনো দাবি তোলেন কোচ!

এ সম্পর্কিত আরও

আপনার-মন্তব্য